সুবর্ণচরে তরুণ-তরুণীকে হেনস্তাকারীদের নদীতে চুবিয়ে পুলিশে দিলেন স্থানীয়রা
- আপডেট সময় : ০৭:৪৩:৪৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১১ বার পড়া হয়েছে

নোয়াখালীর সুবর্ণচরে নদীর পাড়ে বেড়াতে এসে হেনস্তার শিকার হয়েছিলেন এক তরুণ ও তরুণী। সম্প্রতি সেই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর অভিযুক্ত দুই যুবককে কান ধরে ওঠবস করানোর পাশাপাশি নদীতে চুবিয়েছে স্থানীয় বাসিন্দারা। এরপর তাঁদের পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
আজ বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার ভূঁইয়ারহাট-সংলগ্ন মেঘনার শাখা নদীর পাড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়ভাবে এই নদীটি মরা মেঘনা নামে পরিচিত। জানা গেছে, প্রায় তিন মাস আগে এই এলাকাতেই বেড়াতে এসে স্থানীয় কয়েকজন যুবকের হাতে হেনস্তার শিকার হন ওই তরুণ-তরুণী। গতকাল বুধবার সেই হেনস্তার ভিডিওটি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা যায়, অভিযুক্ত যুবকেরা ওই তরুণ-তরুণীকে ঘিরে ধরে আপত্তিকর ও অশালীন কথাবার্তা বলছেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর অভিযুক্ত দুই তরুণকে আটক করে নদীর পাড়ে নিয়ে আসেন স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা। তাঁরা নিজেদের বিএনপির অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের কর্মী বলে পরিচয় দিয়েছেন। সেখানে অভিযুক্তদের কান ধরে ওঠবস করতে বলা হয়। তাঁরা কান ধরে ওঠবস করার পর তাঁদের নদীতে নেমে ৫০টি ডুব দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। নির্দেশ অনুযায়ী অভিযুক্তরা নদীতে গিয়ে ৫০টি ডুব দেন। এরপর তাঁদের পুলিশে সোপর্দ করা হয়।
অভিযুক্তদের কান ধরে ওঠবস করানো ব্যক্তিদের একজন আবির হোসেন। তিনি নিজেকে সুবর্ণচর উপজেলার চরবাটা ইউনিয়ন প্রযুক্তি দলের সভাপতি হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, "তরুণ-তরুণীকে হেনস্তা করার ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর যেভাবে দলের (বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের) বিরুদ্ধে সমালোচনা হচ্ছিল, তাতে মেজাজ খারাপ হয়ে যায়। এর কারণে আজ অভিযুক্ত দুজনকে ধরে আমরা শাস্তি দিয়েছি। তবে এভাবে শাস্তি দেওয়া ঠিক হয়নি। এটা এখন বুঝতে পারছি।"
চরজব্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল হাসান জানান, তরুণ-তরুণীকে হেনস্তার অভিযোগে দুজনকে আটক করে রাখার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। সেখান থেকে তাঁদের উদ্ধার করে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। পরে তাঁদের ভ্রাম্যমাণ আদালতের (মোবাইল কোর্ট) মাধ্যমে সাজা দেওয়ার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে হাজির করা হয়েছিল। তবে হেনস্তার ঘটনাটি তিন মাস আগের হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে ভ্রাম্যমাণ আদালতে বিচার করা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সুবর্ণচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আকিব ওসমান জানান, ঘুরতে যাওয়া তরুণ-তরুণীকে হেনস্তা করার ভিডিওটি তিনি দেখেছেন। ঘটনাটি প্রায় তিন মাস আগের। পুলিশ অভিযুক্তদের আটক করেছে। তবে ঘটনাটি পুরোনো হওয়ায় আটক ব্যক্তিদের ভ্রাম্যমাণ আদালতে বিচার করা সম্ভব নয়। তাই পুলিশকে নিয়মিত আইনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।



























