জ্বালানি সংকটের জন্য পূর্বের সরকারের ভুল নীতি দায়ী: তিতুমীর
- আপডেট সময় : ০৯:৪৭:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে

দেশের চলমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের জন্য পতিত সরকারের ভুল জ্বালানি নীতি, অতিরিক্ত আমদানিনির্ভরতা এবং জাতীয় সক্ষমতা গড়ে তুলতে ব্যর্থতাকে দায়ী করেছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) রাজধানীতে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) এবং সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) আয়োজিত ‘অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট ও উদীয়মান চ্যালেঞ্জ : আগামী দিনের অগ্রাধিকার’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
উপদেষ্টা তিতুমীর বলেন, জনগণকে পরিষ্কারভাবে জানাতে হবে যে, বর্তমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের সঙ্গে বর্তমান সরকারের কোনো সম্পর্ক নেই। এই সংকট মূলত অতীতের ভুল নীতি ও সিদ্ধান্তের ফল। তিনি উল্লেখ করেন, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম ও সরবরাহ নিয়ে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, তার প্রভাব বাংলাদেশেও পড়ছে। উদাহরণস্বরূপ, বর্তমানে কাতার থেকে এলএনজি আমদানিতে প্রতি ইউনিটে প্রায় ১১ ডলার ব্যয় হচ্ছে, অথচ নিজস্ব গ্যাস অনুসন্ধান ও সক্ষমতা থাকলে অনেক কম খরচে জ্বালানি সরবরাহ করা সম্ভব হতো।
অতীতের জ্বালানি নীতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত না করে আমদানিনির্ভরতা বাড়ানো হয়েছে। পর্যাপ্ত গ্যাস অনুসন্ধান না করা, দেশীয় সম্পদের উন্নয়ন না করা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থতার কারণে আজকের এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তিনি জ্বালানি খাতে ‘কস্ট অব ইনঅ্যাকশন’ (সিদ্ধান্ত না নেওয়ার ব্যয়), ‘কস্ট অব রং ডুইং’ (ভুল সিদ্ধান্তের ব্যয়), পাচার হওয়া অর্থ এবং জ্বালানি খাতের দায়-দেনার সমন্বিত গবেষণার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, অতীতের স্বজনতোষী পৃষ্ঠপোষকতা ও সক্ষমতা না গড়ে তোলার নীতির ফলে একটি অলিগার্কিক কাঠামো তৈরি হয়েছিল, যা দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও জনগণের অর্থের অপচয় ঘটিয়েছে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার শুধু অতীতের সমস্যা মোকাবিলা করছে না, বরং সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর মাধ্যমে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করছে। চার হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণের পাশাপাশি নেট মিটারিং ও সৌর সরঞ্জামে ভ্যাট ছাড়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সেমিনারে স্বাস্থ্য ও অর্থনীতির অন্যান্য দিক নিয়েও আলোচনা করেন উপদেষ্টা। তিনি বলেন, উপজেলা পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মূল্যস্ফীতি সম্পর্কে তিনি জানান, লুটপাট ও দুর্নীতির কারণে অতীতের মূল্যস্ফীতি চাপের মুখে থাকলেও বর্তমানে তা ৮ শতাংশের সামান্য বেশি, যা ৬ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য রয়েছে। এছাড়া বন্ধ কলকারখানা চালুর জন্য ৬০ হাজার কোটি টাকার প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে, যার অর্থায়ন সেপ্টেম্বর থেকেই শুরু হবে।
ইআরএফ সভাপতি দৌলত আকতার মালার সভাপতিত্বে সেমিনারে জাতীয় অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ, এফবিসিসিআই প্রশাসক ফজলুল হক এবং সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো ড. ফাহমিদা খাতুন বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, উপজেলা পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে ১৫০ শয্যার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, জেলা পর্যায়ে কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার এবং করোনারি কেয়ার ইউনিটসহ প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য অবকাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসে গত অর্থবছরে রেকর্ড পরিমাণ রাজস্ব আদায় হয়েছে। বিশেষ করে মধ্য ফেব্রুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত রাজস্ব আদায়ের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে এ সাফল্যের প্রকৃত চিত্র পাওয়া যাবে।



























