সিরাজগঞ্জে মাচায় তরমুজ চাষে সফল কৃষক হাসিবুর রহমান
- আপডেট সময় : ০৮:২৫:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৩ বার পড়া হয়েছে

সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার মুগবেলাই গ্রামের কৃষক হাসিবুর রহমান (৪০) মাচা পদ্ধতিতে তরমুজ চাষ করে নতুন স্বপ্ন দেখছেন। বাঁশের মাচায় লতা বেয়ে ঝুলে থাকা গাঢ় সবুজ রঙের তরমুজগুলো দূর থেকে ছোট ছোট বাতির মতো মনে হয়। তিন বছর আগে এনডিপির সহায়তায় ১০ শতাংশ জমিতে পরীক্ষামূলক চাষের মাধ্যমে তার এই যাত্রার শুরু। সে সময় ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা খরচে প্রথমবারই লাভবান হওয়ায় তার আগ্রহ বহুগুণ বেড়ে যায়।
চলতি মৌসুমে তিনি মুগবেলাই উত্তরপাড়ায় প্রায় ২০ শতাংশ জমিতে উচ্চফলনশীল থাই জাতের ‘কানিয়া’ তরমুজ চাষ করেছেন। জমি প্রস্তুত থেকে শুরু করে চারা রোপণ, সার, কীটনাশক ও পরিচর্যা বাবদ তার মোট খরচ হয়েছে প্রায় ৩০ হাজার টাকা। হাসিবুর রহমানের প্রত্যাশা, ফলন ও বাজারের বর্তমান পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে তিনি এবার এক লাখ থেকে দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত লাভ করতে পারবেন। তার ক্ষেতে ৪৮ থেকে ৫০ মণ তরমুজ উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে এবং বর্তমানে বাজারে প্রতি কেজি কানিয়া তরমুজ ৬০ থেকে ৭০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
কৃষক হাসিবুর জানান, মালচিং পেপার ব্যবহার করে মাচা পদ্ধতিতে চাষ করায় মাটির আর্দ্রতা সংরক্ষিত থাকে এবং আগাছা কম হয়, যা শ্রম ও খরচ উভয়ই সাশ্রয় করে। এই জাতের তরমুজে রোগবালাই ও পোকামাকড়ের উপদ্রব তুলনামূলক কম। চারা রোপণের ৬০ থেকে ৬৫ দিনের মধ্যেই ফসল বাজারজাত করা সম্ভব হয়। তিনি আরও জানান, এই তরমুজ বেশ রসালো ও মিষ্টি হওয়ায় বাজারে এর চাহিদাও ব্যাপক।
তার এই উদ্যোগ স্থানীয় কৃষকদের মাঝে সাড়া ফেলেছে। প্রতিবেশী কৃষক হামিদ জানান, হাসিবুরের চাষ পদ্ধতি দেখে অনেকেই তরমুজ চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। কামারখন্দ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফরিদ হোসাইন হাসিবুরের এই উদ্যোগকে প্রশংসনীয় বলে উল্লেখ করেন। তিনি জানান, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে কৃষক হাসিবুরকে নিয়মিত কারিগরি পরামর্শ ও সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করা হচ্ছে। এলাকার সচেতন মহলের মতে, কৃষি অফিসের যথাযথ সহায়তা অব্যাহত থাকলে কৃষকরা আরও বেশি লাভবান হতে পারবেন।

























