প্রীতি উরাংয়ের মৃত্যু: সৈয়দ আশফাকুল হক দম্পতির বিচার শুরু
- আপডেট সময় : ০১:৪২:০৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০ বার পড়া হয়েছে

গৃহকর্মী প্রীতি উরাংয়ের অবহেলাজনিত মৃত্যুর মামলায় সৈয়দ আশফাকুল হক ও তার স্ত্রী তানিয়া খন্দকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছেন আদালত। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) ঢাকার প্রথম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. আলমগীর হোসেনের আদালত আসামিদের অব্যাহতির আবেদন নাকচ করে এ আদেশ দেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এবং আগামী ৪ জানুয়ারি মামলার সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য দিন ধার্য করা হয়েছে।
অভিযোগ গঠনের শুনানির সময় সৈয়দ আশফাকুল হক ও তানিয়া খন্দকার আদালতে উপস্থিত ছিলেন। আসামিদের পক্ষে আইনজীবী চৈতন্য চন্দ্র হালদার ও ওমর ফারুক আসিফ অব্যাহতি চেয়ে শুনানি করেন, অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে অভিযোগ গঠনের পক্ষে শুনানি করেন অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত আসামিদের কাছে তারা নিজেদের দোষী নাকি নির্দোষ—তা জানতে চান। জবাবে আশফাকুল হক ও তানিয়া খন্দকার নিজেদের নির্দোষ দাবি করে ন্যায়বিচার প্রার্থনা করেন। এরপরই আদালত তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আনুষ্ঠানিক আদেশ দেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার মিরতিংগা চা-বাগানের বাসিন্দা ছিলেন প্রীতি উরাং। ঘটনার আগে প্রায় দুই বছর ধরে তিনি রাজধানীর মোহাম্মদপুরের শাহজাহান রোডের একটি বহুতল ভবনের অষ্টম তলায় আশফাকুল হকের বাসায় গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করতেন। ২০২৪ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি সকালে ওই বাসার ড্রইং স্পেসের একটি জানালা দিয়ে নিচে পড়ে তিনি গুরুতর আহত হন। মামলার বিবরণে উল্লেখ করা হয়েছে, জানালাটিতে নিরাপত্তাবেষ্টনী না থাকায় কাচের ফাঁক দিয়ে তিনি নিচে পড়ে যান। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রীতি উরাংয়ের মৃত্যু হয়।
এই ঘটনায় তার বাবা লোকেশ উরাং বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্ত শেষে ডিবি পুলিশের তেজগাঁও জোনাল টিমের উপপরিদর্শক (এসআই) এস এম মাহমুদ রেজা গত ৩১ মার্চ আশফাকুল হক ও তানিয়া খন্দকারকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। মামলাটি বিচারের জন্য প্রস্তুত হওয়ায় গত ১৬ জুন ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালত থেকে এটি মহানগর দায়রা জজ আদালতে পাঠানো হয়। এ মামলায় দুই আসামি প্রায় চার মাস কারাগারে ছিলেন এবং উচ্চ আদালত থেকে জামিন পাওয়ার পর ২০২৪ সালের জুন মাসে তারা কারামুক্ত হন।





























