ঢাকা ০১:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বোয়িংয়ের সঙ্গে ১১টি নতুন বিমান কেনার চুক্তি করল বিমান বাংলাদেশ গ্রাম ও শহর: জীবনযাত্রার ভিন্নতা, শিশুদের স্বাস্থ্যে এগিয়ে গ্রাম উখিয়ায় বিজিবিকে লক্ষ্য করে গুলি, দেড় লাখ ইয়াবা উদ্ধার আজ বীরকন্যা প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের ৯৪তম আত্মাহুতি দিবস হরমুজ প্রণালীতে আটকে পড়া বাংলাদেশি জাহাজ উদ্ধারে ইরানের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী হরমুজ প্রণালি খুলতে যুক্তরাষ্ট্রকে ৫ দিনের আলটিমেটাম দিল ইরান জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় নিত্যপণ্যের বাজারে অস্থিরতা ও বাড়তি চাপ লোক দেখানো ইবাদত থেকে বাঁচার উপায় ও করণীয় জমি ছাড়ার নোটিশে দিশেহারা নাটোরের দিনমজুরের কলেজপড়ুয়া তিন মেয়ে মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের প্রথম মহাসচিব হলেন নোমান মাহমুদ

জলবায়ু বিপর্যয়ের ক্ষতিপূরণে নেপালের দাবি ৫০০ কোটি ডলার

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ১০:৪৭:২৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



হিমবাহ ধস ও আকস্মিক বন্যার কবলে পড়ে নেপালে যে ভয়াবহ বিপর্যয় দেখা দিয়েছে, তার জন্য ধনী দেশগুলোকেই দায়ী করেছে কাঠমান্ডু। দেশটির মতে, উন্নয়নের নামে শিল্পকারখানা থেকে অনিয়ন্ত্রিত গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনই পরিবেশকে বিষিয়ে তুলেছে, যার সরাসরি শিকার হচ্ছে নেপালের মতো দেশগুলো। এই বিপর্যয়ের ধাক্কা সামাল দিতে জাতিসংঘ থেকে জরুরি ভিত্তিতে ৫০০ কোটি ডলার আর্থিক সাহায্যের দাবি জানিয়েছে নেপাল।

নেপালের বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সোমবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ৯৩৯ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে নিখোঁজের সংখ্যা ৪ হাজারের বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত ১১ হাজার ৩৭৯ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। এছাড়া নয়াদিল্লির তথ্যমতে, সোমবার রাত ৯টা পর্যন্ত ১৫৮ জন ভারতীয়কে উদ্ধার করা হয়েছে।

নেপালের পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের জলবায়ু পরিবর্তন বিভাগের প্রধান মহেশ্বর ধাকাল অভিযোগ করেছেন, কয়েক দশক ধরে ধনী দেশগুলোর গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনের ফল ভুগছে নেপাল। তিনি বলেন, যারা এই বিপর্যয়ে সবচেয়ে কম ভূমিকা রেখেছে, তারাই আজ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। গত সপ্তাহে নেপাল-তিব্বত সীমান্তে হিমবাহ ধসের ফলে সৃষ্ট হড়পা বানকেও তিনি মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের ফল হিসেবে উল্লেখ করেন।

জাতিসংঘের জলবায়ু তহবিল থেকে নেপাল এই অর্থ পাওয়ার চেষ্টা করছে। তবে তহবিলটির সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। ২০২৩ সালে গঠিত এই তহবিলে এখন পর্যন্ত মাত্র ৮২ কোটি ডলারের প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে, অথচ বিভিন্ন দেশ থেকে ২৮০ কোটি ডলারের সাহায্যের অনুরোধ জমা পড়েছে। জাতিসংঘের জলবায়ু তহবিল বোর্ডের সাবেক সহ-সভাপতি রিচার্ড শেরম্যানের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে নেপালকে হয়তো ২ কোটি ডলার দেয়া সম্ভব, যা সামগ্রিক ক্ষয়ক্ষতির তুলনায় খুবই সামান্য।

নেপালে যে ধরনের বিপর্যয় হয়েছে, এমন বড়সড় ধাক্কা মোকাবিলার মতো ক্ষমতা এখনও নেই জাতিসংঘ তহবিলের। এটি গঠনের জন্য এ পর্যন্ত বিভিন্ন দেশ থেকে মোট ৮২ কোটি ডলার অনুদানের প্রতিশ্রুতি মিলেছে। অথচ তহবিল গঠনের পর থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ১১৯টি দেশ থেকে ২৮০ কোটি ডলার আর্থিক সাহায্যের অনুরোধ পেয়েছে তারা। জাতিসংঘের জলবায়ু তহবিল সংক্রান্ত বোর্ডের সাবেক সহ-সভাপতি রিচার্ড শেরম্যানের বক্তব্য, বর্তমান পরিস্থিতিতে তহবিল থেকে নেপালকে ২ কোটি ডলার দেয়া যেতে পারে। তবে এটি যে নেপালকে সাহায্যের জন্য ‘কিছুই নয়’, তা-ও মানছেন তিনি।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin

নিউজটি শেয়ার করুন

জলবায়ু বিপর্যয়ের ক্ষতিপূরণে নেপালের দাবি ৫০০ কোটি ডলার

আপডেট সময় : ১০:৪৭:২৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

হিমবাহ ধস ও আকস্মিক বন্যার কবলে পড়ে নেপালে যে ভয়াবহ বিপর্যয় দেখা দিয়েছে, তার জন্য ধনী দেশগুলোকেই দায়ী করেছে কাঠমান্ডু। দেশটির মতে, উন্নয়নের নামে শিল্পকারখানা থেকে অনিয়ন্ত্রিত গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনই পরিবেশকে বিষিয়ে তুলেছে, যার সরাসরি শিকার হচ্ছে নেপালের মতো দেশগুলো। এই বিপর্যয়ের ধাক্কা সামাল দিতে জাতিসংঘ থেকে জরুরি ভিত্তিতে ৫০০ কোটি ডলার আর্থিক সাহায্যের দাবি জানিয়েছে নেপাল।

নেপালের বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সোমবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ৯৩৯ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে নিখোঁজের সংখ্যা ৪ হাজারের বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত ১১ হাজার ৩৭৯ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। এছাড়া নয়াদিল্লির তথ্যমতে, সোমবার রাত ৯টা পর্যন্ত ১৫৮ জন ভারতীয়কে উদ্ধার করা হয়েছে।

নেপালের পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের জলবায়ু পরিবর্তন বিভাগের প্রধান মহেশ্বর ধাকাল অভিযোগ করেছেন, কয়েক দশক ধরে ধনী দেশগুলোর গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনের ফল ভুগছে নেপাল। তিনি বলেন, যারা এই বিপর্যয়ে সবচেয়ে কম ভূমিকা রেখেছে, তারাই আজ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। গত সপ্তাহে নেপাল-তিব্বত সীমান্তে হিমবাহ ধসের ফলে সৃষ্ট হড়পা বানকেও তিনি মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের ফল হিসেবে উল্লেখ করেন।

জাতিসংঘের জলবায়ু তহবিল থেকে নেপাল এই অর্থ পাওয়ার চেষ্টা করছে। তবে তহবিলটির সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। ২০২৩ সালে গঠিত এই তহবিলে এখন পর্যন্ত মাত্র ৮২ কোটি ডলারের প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে, অথচ বিভিন্ন দেশ থেকে ২৮০ কোটি ডলারের সাহায্যের অনুরোধ জমা পড়েছে। জাতিসংঘের জলবায়ু তহবিল বোর্ডের সাবেক সহ-সভাপতি রিচার্ড শেরম্যানের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে নেপালকে হয়তো ২ কোটি ডলার দেয়া সম্ভব, যা সামগ্রিক ক্ষয়ক্ষতির তুলনায় খুবই সামান্য।

নেপালে যে ধরনের বিপর্যয় হয়েছে, এমন বড়সড় ধাক্কা মোকাবিলার মতো ক্ষমতা এখনও নেই জাতিসংঘ তহবিলের। এটি গঠনের জন্য এ পর্যন্ত বিভিন্ন দেশ থেকে মোট ৮২ কোটি ডলার অনুদানের প্রতিশ্রুতি মিলেছে। অথচ তহবিল গঠনের পর থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ১১৯টি দেশ থেকে ২৮০ কোটি ডলার আর্থিক সাহায্যের অনুরোধ পেয়েছে তারা। জাতিসংঘের জলবায়ু তহবিল সংক্রান্ত বোর্ডের সাবেক সহ-সভাপতি রিচার্ড শেরম্যানের বক্তব্য, বর্তমান পরিস্থিতিতে তহবিল থেকে নেপালকে ২ কোটি ডলার দেয়া যেতে পারে। তবে এটি যে নেপালকে সাহায্যের জন্য ‘কিছুই নয়’, তা-ও মানছেন তিনি।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin