ঢাকা ১২:৩৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
যুক্তরাজ্যে মার্কিন বিমানঘাঁটির কাছে গ্রেপ্তার ৫, সরানো হলো ৮৫ পরিবার শরৎ কাল কবিতা ৩২ দলের অংশগ্রহণে বনানীতে সম্পন্ন হলো বাপাউবো ব্যাডমিন্টন টুর্নামেন্ট কূটনীতির পাশাপাশি সামরিক হামলার জবাব দিতে প্রস্তুত ইরান চুয়াডাঙ্গায় ৩০০ ইয়াবাসহ ৭০ বছর বয়সী নারী মাদক কারবারি গ্রেফতার বৃষ্টিতে ম্যাচ ভেস্তে গেলেও এশিয়ান গেমসের সেমিফাইনালে উঠবে বাংলাদেশ শ্রীনগরে র‌্যাব পরিচয়ে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে চাকরিচ্যুত সেনাসহ গ্রেপ্তার ৭ বিরোধী দলকে যুক্ত করে ঐকমত্যের ভিত্তিতে সংবিধান সংশোধনের পরামর্শ সম্পাদকদের ব্যক্তিগত বিষয় নয়, কাজের সমালোচনা করার আহ্বান জাবি উপাচার্যের ৪৮ ঘণ্টায় হরমুজে ১৯ জাহাজে হামলা ও মার্কিন ডুবোযান আটক ইরানের

জনপ্রশাসনে পদের চেয়ে কর্মকর্তা বেশি, কাজের চাপে কেউ, কেউ ওএসডি

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০২:৫১:২৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



জনপ্রশাসনে বর্তমানে পদের তুলনায় কর্মকর্তার সংখ্যা অনেক বেশি, যা প্রশাসনিক কার্যক্রমে ভারসাম্যহীনতা তৈরি করেছে। যুগ্ম সচিবের ৫০২টি পদের বিপরীতে বর্তমানে প্রায় ১,৫০০ জন কর্মকর্তা রয়েছেন। ৬৫০ জনের মতো কর্মকর্তা ওএসডি, বসে বসে বেতন নেন। আবার অতিরিক্ত সচিব পদে প্রেষণসহ পদসংখ্যা ৩৩৭ হলেও সেখানে কর্মরত প্রায় ৩৫০ জন। এই বিপুল সংখ্যক জনবল থাকা সত্ত্বেও একজনকে একাধিক দায়িত্ব দেওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, যার ফলে কাজের গতি হ্রাস পাচ্ছে এবং সরকারি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে দেরি হচ্ছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব হুমায়ুন কবিরের হাতে তিনটি দায়িত্ব। তিনি অতিরিক্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি জেলা ও মাঠ প্রশাসন অনুবিভাগ এবং কমিটি ও অর্থনৈতিক অনুবিভাগ—এই দুই গুরুত্বপূর্ণ বিভাগেরও প্রধান হিসেবে কাজ করছেন। একইভাবে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের আরেক অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ খালেদ হাসান ব্লু ইকোনমি, সমন্বয় ও সংস্কার—এই তিনটি অনুবিভাগের দায়িত্বে আছেন। এছাড়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ আবদুল কাদের, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব আবদুল মান্নান, বিদ্যুৎ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব হাবিবুন নাহারসহ আরও অনেকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলাচ্ছেন।

প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের মতে, দলীয়করণের কারণে সরকার আস্থাভাজন কর্মকর্তা খুঁজে না পাওয়ায় একই ব্যক্তিকে একাধিক দায়িত্ব দিতে বাধ্য হচ্ছে। অন্যদিকে, অযোগ্য বা আস্থাভাজন নয় বলে বিবেচিত প্রায় সাড়ে ছয় শ কর্মকর্তা বর্তমানে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) হিসেবে বেতন নিচ্ছেন। এছাড়া আরও কিছু কর্মকর্তাকে অগুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দিয়ে রাখা হয়েছে, যেখানে তাদের তেমন কোনো কাজ নেই।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে যাঁরা আস্থাভাজন ছিলেন, তাদের বাধ্যতামূলক অবসর অথবা ওএসডি করা হয়েছে। ২০১৮ সালে ‘রাতের ভোট’ নামে পরিচিত বিতর্কিত নির্বাচনের সময়ে তাঁদের প্রায় সবাই জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। গত ২৮ জুলাই ৩২ যুগ্ম সচিবকে একসঙ্গে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়, যারা বিগত সরকারের সময়ে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

বাংলাদেশ লোকপ্রশাসন প্রশিক্ষণকেন্দ্রের (বিপিএটিসি) রেক্টর এ কে এম আবদুল আউয়াল মজুমদার মনে করেন, প্রশাসনিক গুরুত্বপূর্ণ পদে রাজনৈতিক আদর্শের বাইরে কাউকে দায়িত্ব না দেওয়ার প্রবণতার কারণেই এই সংকট তৈরি হয়েছে। জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন তাদের প্রতিবেদনে জানিয়েছে, দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিককরণের ফলে জনপ্রশাসন তার নিরপেক্ষতা ও জবাবদিহিতা হারিয়েছে। যোগ্যতাই একমাত্র মাপকাঠি—ইশতেহারে বলেছে বিএনপি। তবে প্রশাসনিক অদক্ষতা ও অকার্যকারিতা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

নিউজটি শেয়ার করুন

জনপ্রশাসনে পদের চেয়ে কর্মকর্তা বেশি, কাজের চাপে কেউ, কেউ ওএসডি

আপডেট সময় : ০২:৫১:২৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬

জনপ্রশাসনে বর্তমানে পদের তুলনায় কর্মকর্তার সংখ্যা অনেক বেশি, যা প্রশাসনিক কার্যক্রমে ভারসাম্যহীনতা তৈরি করেছে। যুগ্ম সচিবের ৫০২টি পদের বিপরীতে বর্তমানে প্রায় ১,৫০০ জন কর্মকর্তা রয়েছেন। ৬৫০ জনের মতো কর্মকর্তা ওএসডি, বসে বসে বেতন নেন। আবার অতিরিক্ত সচিব পদে প্রেষণসহ পদসংখ্যা ৩৩৭ হলেও সেখানে কর্মরত প্রায় ৩৫০ জন। এই বিপুল সংখ্যক জনবল থাকা সত্ত্বেও একজনকে একাধিক দায়িত্ব দেওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, যার ফলে কাজের গতি হ্রাস পাচ্ছে এবং সরকারি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে দেরি হচ্ছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব হুমায়ুন কবিরের হাতে তিনটি দায়িত্ব। তিনি অতিরিক্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি জেলা ও মাঠ প্রশাসন অনুবিভাগ এবং কমিটি ও অর্থনৈতিক অনুবিভাগ—এই দুই গুরুত্বপূর্ণ বিভাগেরও প্রধান হিসেবে কাজ করছেন। একইভাবে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের আরেক অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ খালেদ হাসান ব্লু ইকোনমি, সমন্বয় ও সংস্কার—এই তিনটি অনুবিভাগের দায়িত্বে আছেন। এছাড়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ আবদুল কাদের, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব আবদুল মান্নান, বিদ্যুৎ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব হাবিবুন নাহারসহ আরও অনেকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলাচ্ছেন।

প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের মতে, দলীয়করণের কারণে সরকার আস্থাভাজন কর্মকর্তা খুঁজে না পাওয়ায় একই ব্যক্তিকে একাধিক দায়িত্ব দিতে বাধ্য হচ্ছে। অন্যদিকে, অযোগ্য বা আস্থাভাজন নয় বলে বিবেচিত প্রায় সাড়ে ছয় শ কর্মকর্তা বর্তমানে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) হিসেবে বেতন নিচ্ছেন। এছাড়া আরও কিছু কর্মকর্তাকে অগুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দিয়ে রাখা হয়েছে, যেখানে তাদের তেমন কোনো কাজ নেই।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে যাঁরা আস্থাভাজন ছিলেন, তাদের বাধ্যতামূলক অবসর অথবা ওএসডি করা হয়েছে। ২০১৮ সালে ‘রাতের ভোট’ নামে পরিচিত বিতর্কিত নির্বাচনের সময়ে তাঁদের প্রায় সবাই জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। গত ২৮ জুলাই ৩২ যুগ্ম সচিবকে একসঙ্গে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়, যারা বিগত সরকারের সময়ে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

বাংলাদেশ লোকপ্রশাসন প্রশিক্ষণকেন্দ্রের (বিপিএটিসি) রেক্টর এ কে এম আবদুল আউয়াল মজুমদার মনে করেন, প্রশাসনিক গুরুত্বপূর্ণ পদে রাজনৈতিক আদর্শের বাইরে কাউকে দায়িত্ব না দেওয়ার প্রবণতার কারণেই এই সংকট তৈরি হয়েছে। জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন তাদের প্রতিবেদনে জানিয়েছে, দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিককরণের ফলে জনপ্রশাসন তার নিরপেক্ষতা ও জবাবদিহিতা হারিয়েছে। যোগ্যতাই একমাত্র মাপকাঠি—ইশতেহারে বলেছে বিএনপি। তবে প্রশাসনিক অদক্ষতা ও অকার্যকারিতা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo