ঢাকা ০২:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ক্লুলেস ডাকাতির রহস্য উদঘাটন করে শ্রেষ্ঠ ডিবি কর্মকর্তা মফিজুল সাংবাদিকদের ওপর হামলার প্রতিবাদে নোয়াখালীতে মানববন্ধন, ওসির বিরুদ্ধে ক্ষোভ মানবজমিন-এ রিপোর্টার পদে লিখিত পরীক্ষা ২৯ সেপ্টেম্বর বরিশালে তেলের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের বিক্ষোভ ভাঙ্গায় ১২০ বোতল নেশাজাতীয় সিরাপসহ মা-মেয়েসহ তিনজন আটক জুড়ী সীমান্তে বিজিবির বিশেষ অভিযানে ৩৮ বোতল ভারতীয় মদ জব্দ নতুন তিন আইনে বাংলাদেশে মানবাধিকার সুরক্ষা সংকুচিত হয়েছে: এইচআরডব্লিউ ৮৫ বছর বয়সে না ফেরার দেশে মার্কিন অভিনেতা জেমস স্লোয়ান নবীনগরে নতুন এসিল্যান্ড হিসেবে যোগ দিলেন শারমিন সুলতানা জাতিসংঘে প্রথম দিনে প্রধানমন্ত্রীর ১০ কর্মসূচি ও কূটনৈতিক তৎপরতা

ভ্রমণপিপাসুদের জন্য এশিয়ার ১০টি দর্শনীয় ও বৈচিত্র্যময় সমুদ্রসৈকত

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ১০:২১:৪৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬ ১২ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



সংস্কৃতি ও ইতিহাসের প্রাচুর্যে ভরপুর হলেও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের দিক থেকে এশিয়া মহাদেশ বিশ্বের যেকোনো প্রান্তকে টেক্কা দেওয়ার মতো। এশিয়ার সমুদ্রসৈকতগুলোতে রয়েছে রূপের বৈচিত্র্য—কোথাও শত মিটার উঁচু চুনাপাথরের পাহাড়, কোথাও বিরল আগ্নেয়গিরিজাত গোলাপি বালু, আবার কোথাও রাতের আঁধারে জ্বলে ওঠা নীল আলো। ভ্রমণপিপাসুদের জন্য এশিয়ার এমন ১০টি চমৎকার উপকূলীয় গন্তব্যের তালিকা নিচে দেওয়া হলো।

ফিলিপাইনের এল নিডোর নাকপান বিচ তার চার কিলোমিটারজুড়ে বিস্তৃত সোনালি বালুচর এবং নারকেল গাছের সারির জন্য পরিচিত। ব্যস্ত পর্যটনকেন্দ্রগুলোর তুলনায় এটি বেশ শান্ত ও নিরিবিলি, যা মানসিক প্রশান্তির জন্য আদর্শ। জাপানের ওকিনাওয়া প্রিফেকচারে অবস্থিত ইয়োনাহা মায়াহামা বিচ সাত কিলোমিটার দীর্ঘ ধবধবে সাদা বালুচরের জন্য বিখ্যাত। পান্না-সবুজ অগভীর পানির এই সৈকতটি পুরো জাপানের সেরা সৈকত হিসেবে বিবেচিত হয়।

ইন্দোনেশিয়ার কোমোডো দ্বীপের পিঙ্ক বিচ বিশ্বের হাতে গোনা কয়েকটি গোলাপি বালুচরের মধ্যে অন্যতম। ‘ফোরামিনিফেরা’ নামক অণুজীবের লাল কণিকা সাদা বালুর সঙ্গে মিশে এই চমৎকার গোলাপি রঙের সৃষ্টি করেছে, যা স্নোরকেলিংয়ের জন্য অসাধারণ একটি জায়গা। শ্রীলঙ্কার তাঙ্গালে বিচ যারা জনকোলাহল এড়িয়ে নিস্তব্ধতায় সময় কাটাতে চান, তাদের জন্য উপযুক্ত। এখানে নারকেল বীথি ও সোনালি বালুর পাশাপাশি বিরল সামুদ্রিক কচ্ছপের বাসা বাঁধার দৃশ্য দেখার সুযোগ থাকে।

ফিলিপাইনের বোরাকে দ্বীপের হোয়াইট বিচের মূল বৈশিষ্ট্য হলো এর গুঁড়ো পাউডারের মতো অতি সূক্ষ্ম সাদা বালু, যা দুপুরের কড়া রোদেও ঠান্ডা থাকে। পরিবেশবান্ধব পর্যটন নীতির মাধ্যমে এর স্বচ্ছ পানি ও পরিবেশ ফিরিয়ে আনা হয়েছে। মালদ্বীপের রা অ্যাটোল ভাদু আইল্যান্ডে দিনের আলোয় চমৎকার দেখালেও আসল জাদু শুরু হয় রাতে। ‘সি অব স্টারস’ নামে পরিচিত প্রাকৃতিক ঘটনার কারণে প্লাঙ্কটনের বিচ্ছুরণে সাগরের ঢেউগুলো তখন গাঢ় নীল আলোর নক্ষত্রের মতো জ্বলজ্বল করে ওঠে।

থাইল্যান্ডের মায়া বে প্রায় ১০০ মিটার উঁচু চুনাপাথরের পাহাড়ে ঘেরা একটি অনন্য প্রাকৃতিক সৃষ্টি। পরিবেশগত বিপর্যয় এড়াতে কয়েক বছর বন্ধ রাখার পর সম্প্রতি নির্দিষ্টসংখ্যক পর্যটকদের জন্য এটি পুনরায় খুলে দেওয়া হয়েছে। ইন্দোনেশিয়ার নুসা পেনিডার কেলিংকিং বিচ টি-রেক্স ডাইনোসরের আকারের পাহাড়ের চূড়া থেকে দেখা দৃশ্যের জন্য পরিচিত। পাহাড়ের চূড়া থেকে নিচে নামার পথটি বেশ ঝুঁকিপূর্ণ হলেও এর প্যানোরামিক দৃশ্য যেকোনো কষ্টকে সার্থক করে তোলে।

ভারতের রাধানগর বিচ, যা ‘বিচ নম্বর সেভেন’ নামেও পরিচিত, ঘন ক্রান্তীয় বৃষ্টি-অরণ্য ও তুর্কাইজ নীল পানির এক অপূর্ব মিলনস্থল। প্লাস্টিক ও ইঞ্জিনচালিত যানমুক্ত এই সৈকত এশিয়ার অন্যতম পরিচ্ছন্ন ও নিরিবিলি উপকূল হিসেবে খ্যাত। থাইল্যান্ডের রাইলে বিচ উঁচু কার্স্ট পাহাড় দিয়ে ঘেরা থাকায় সেখানে শুধু ঐতিহ্যবাহী লংবোটে করেই পৌঁছানো যায়। মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার কারণে শান্ত পরিবেশের পাশাপাশি এটি রক ক্লাইম্বিং বা পাহাড়ে চড়ার জন্য অ্যাডভেঞ্চারপ্রেমীদের অত্যন্ত প্রিয় জায়গা।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin

নিউজটি শেয়ার করুন

ভ্রমণপিপাসুদের জন্য এশিয়ার ১০টি দর্শনীয় ও বৈচিত্র্যময় সমুদ্রসৈকত

আপডেট সময় : ১০:২১:৪৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬

সংস্কৃতি ও ইতিহাসের প্রাচুর্যে ভরপুর হলেও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের দিক থেকে এশিয়া মহাদেশ বিশ্বের যেকোনো প্রান্তকে টেক্কা দেওয়ার মতো। এশিয়ার সমুদ্রসৈকতগুলোতে রয়েছে রূপের বৈচিত্র্য—কোথাও শত মিটার উঁচু চুনাপাথরের পাহাড়, কোথাও বিরল আগ্নেয়গিরিজাত গোলাপি বালু, আবার কোথাও রাতের আঁধারে জ্বলে ওঠা নীল আলো। ভ্রমণপিপাসুদের জন্য এশিয়ার এমন ১০টি চমৎকার উপকূলীয় গন্তব্যের তালিকা নিচে দেওয়া হলো।

ফিলিপাইনের এল নিডোর নাকপান বিচ তার চার কিলোমিটারজুড়ে বিস্তৃত সোনালি বালুচর এবং নারকেল গাছের সারির জন্য পরিচিত। ব্যস্ত পর্যটনকেন্দ্রগুলোর তুলনায় এটি বেশ শান্ত ও নিরিবিলি, যা মানসিক প্রশান্তির জন্য আদর্শ। জাপানের ওকিনাওয়া প্রিফেকচারে অবস্থিত ইয়োনাহা মায়াহামা বিচ সাত কিলোমিটার দীর্ঘ ধবধবে সাদা বালুচরের জন্য বিখ্যাত। পান্না-সবুজ অগভীর পানির এই সৈকতটি পুরো জাপানের সেরা সৈকত হিসেবে বিবেচিত হয়।

ইন্দোনেশিয়ার কোমোডো দ্বীপের পিঙ্ক বিচ বিশ্বের হাতে গোনা কয়েকটি গোলাপি বালুচরের মধ্যে অন্যতম। ‘ফোরামিনিফেরা’ নামক অণুজীবের লাল কণিকা সাদা বালুর সঙ্গে মিশে এই চমৎকার গোলাপি রঙের সৃষ্টি করেছে, যা স্নোরকেলিংয়ের জন্য অসাধারণ একটি জায়গা। শ্রীলঙ্কার তাঙ্গালে বিচ যারা জনকোলাহল এড়িয়ে নিস্তব্ধতায় সময় কাটাতে চান, তাদের জন্য উপযুক্ত। এখানে নারকেল বীথি ও সোনালি বালুর পাশাপাশি বিরল সামুদ্রিক কচ্ছপের বাসা বাঁধার দৃশ্য দেখার সুযোগ থাকে।

ফিলিপাইনের বোরাকে দ্বীপের হোয়াইট বিচের মূল বৈশিষ্ট্য হলো এর গুঁড়ো পাউডারের মতো অতি সূক্ষ্ম সাদা বালু, যা দুপুরের কড়া রোদেও ঠান্ডা থাকে। পরিবেশবান্ধব পর্যটন নীতির মাধ্যমে এর স্বচ্ছ পানি ও পরিবেশ ফিরিয়ে আনা হয়েছে। মালদ্বীপের রা অ্যাটোল ভাদু আইল্যান্ডে দিনের আলোয় চমৎকার দেখালেও আসল জাদু শুরু হয় রাতে। ‘সি অব স্টারস’ নামে পরিচিত প্রাকৃতিক ঘটনার কারণে প্লাঙ্কটনের বিচ্ছুরণে সাগরের ঢেউগুলো তখন গাঢ় নীল আলোর নক্ষত্রের মতো জ্বলজ্বল করে ওঠে।

থাইল্যান্ডের মায়া বে প্রায় ১০০ মিটার উঁচু চুনাপাথরের পাহাড়ে ঘেরা একটি অনন্য প্রাকৃতিক সৃষ্টি। পরিবেশগত বিপর্যয় এড়াতে কয়েক বছর বন্ধ রাখার পর সম্প্রতি নির্দিষ্টসংখ্যক পর্যটকদের জন্য এটি পুনরায় খুলে দেওয়া হয়েছে। ইন্দোনেশিয়ার নুসা পেনিডার কেলিংকিং বিচ টি-রেক্স ডাইনোসরের আকারের পাহাড়ের চূড়া থেকে দেখা দৃশ্যের জন্য পরিচিত। পাহাড়ের চূড়া থেকে নিচে নামার পথটি বেশ ঝুঁকিপূর্ণ হলেও এর প্যানোরামিক দৃশ্য যেকোনো কষ্টকে সার্থক করে তোলে।

ভারতের রাধানগর বিচ, যা ‘বিচ নম্বর সেভেন’ নামেও পরিচিত, ঘন ক্রান্তীয় বৃষ্টি-অরণ্য ও তুর্কাইজ নীল পানির এক অপূর্ব মিলনস্থল। প্লাস্টিক ও ইঞ্জিনচালিত যানমুক্ত এই সৈকত এশিয়ার অন্যতম পরিচ্ছন্ন ও নিরিবিলি উপকূল হিসেবে খ্যাত। থাইল্যান্ডের রাইলে বিচ উঁচু কার্স্ট পাহাড় দিয়ে ঘেরা থাকায় সেখানে শুধু ঐতিহ্যবাহী লংবোটে করেই পৌঁছানো যায়। মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার কারণে শান্ত পরিবেশের পাশাপাশি এটি রক ক্লাইম্বিং বা পাহাড়ে চড়ার জন্য অ্যাডভেঞ্চারপ্রেমীদের অত্যন্ত প্রিয় জায়গা।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin