ঢাকা ০৪:৩৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬, ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
আর্থিক সংকটে বন্ধের মুখে স্পেনের ১৭৫ বছরের পুরোনো ঐতিহাসিক বইয়ের দোকান চলতি অর্থবছরেই স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পন্ন হবে: শাহে আলম নাটোরে ৫৮ শতাংশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেই প্রধান শিক্ষক ফিফার নিষেধাজ্ঞা থেকে মুক্ত বসুন্ধরা কিংস, দলবদলে বাধা নেই ব্রাহ্মণবাড়িয়া নিয়ে সংসদে দেওয়া বক্তব্যে দুঃখ প্রকাশ করলেন হাসনাত আবদুল্লাহ ভেনেজুয়েলার তেল সম্পদে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ: ট্রাম্পের বড় ঘোষণা কিয়েভের উপকণ্ঠে রুশ ড্রোন হামলায় নিহত ২৭ গোলাপগঞ্জে মোটরসাইকেল চুরির অভিযোগে পুলিশ কনস্টেবল সাময়িক বরখাস্ত মার্কিন অবরোধের মাঝেই ইরানের ৭.৫ বিলিয়ন ডলারের তেল রাজস্ব ইসির প্রস্তুতি শেষ হলেই স্থানীয় সরকার নির্বাচন: প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম

সচিবালয়ে সাপ পিটিয়ে হত্যা: বন্য প্রাণী আইনে কী দণ্ড হতে পারে

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০২:৪৩:০৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বাংলাদেশ সচিবালয়ের ৬ নম্বর ভবনের ১৮ তলার বারান্দায় গত বৃহস্পতিবার তিনটি সাপের বাচ্চা পিটিয়ে মারার ঘটনা ঘটেছে। বেলা ১১টার দিকে সাপগুলো বারান্দার দেয়াল বেয়ে ওপরে ওঠার চেষ্টা করছিল। প্রত্যক্ষদর্শীরা সাপগুলোকে পিটিয়ে হত্যা করেন। ঘটনাস্থলটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বারান্দা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

সাপ-গবেষক আবু সাইদ ভিডিও ফুটেজ দেখে ধারণা করছেন, এগুলো পাতি নেকড়ে সাপের বাচ্চা হতে পারে। এটি সম্পূর্ণ নির্বিষ একটি প্রজাতি, যা খাড়া দেয়াল, পাইপ কিংবা তার বেয়ে ওপরে উঠতে সক্ষম। বন অধিদপ্তরের বন সংরক্ষক মো. ছানাউল্যা পাটওয়ারী অবশ্য বলছেন, ভবন ঘেঁষে কোনো গাছ থাকলে সেটির সাহায্য নিয়েও সাপগুলো ওপরে উঠতে পারে। তবে সচিবালয়ের মতো সুরক্ষিত প্রশাসনিক কেন্দ্রে এমন ঘটনা বন্য প্রাণী রক্ষায় জনসচেতনতা তৈরির ক্ষেত্রে বড় প্রতিবন্ধকতা বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

বন অধিদপ্তর জানিয়েছে, ঘটনার বিষয়ে তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অধিদপ্তরের একজন কর্মকর্তা জানান, এমনিতেই মানুষের অসচেতনতার কারণে বন্য প্রাণী রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়ছে, এমন ঘটনা সেই প্রচেষ্টাকে আরও ব্যাহত করবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তারা এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

বন্য প্রাণী বিশেষজ্ঞ ও সরকার গঠিত ওয়াইল্ডলাইফ কমিশনের সদস্য রেজা খান বলেন, কোথাও কোনো বন্য প্রাণী দেখা গেলে সেটিকে সরাসরি মেরে না ফেলে পর্যবেক্ষণ করা এবং সঠিক ব্যক্তি বা সংস্থাকে খবর দেওয়া উচিত। তিনি বলেন, 'আমাদের প্রথম কাজই যেন বন্য প্রাণী—সেটা সাপ হোক, মেছো বিড়াল হোক মেরে ফেলা! ঢাকায় এখন অনেক সংগঠন সাপ উদ্ধার করে। তাদের কাউকে জানালে তারা গিয়ে সাপগুলো উদ্ধার করতে পারত। এর বদলে সাপগুলো মেরে ফেলাটা একটা বাজে উদাহরণ হয়েছে।'

ডিপ ইকোলজি অ্যান্ড স্নেক রেসকিউ ফাউন্ডেশনের সহপ্রতিষ্ঠাতা সৈয়দা অনন্যা ফারিয়াও একই মত পোষণ করেন। তিনি বলেন, বর্তমানে ঢাকায় অনেক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সাপ উদ্ধারে কাজ করছে। সচিবালয়ের মতো জায়গায় বন্য প্রাণীর সুরক্ষা না পাওয়াটা হতাশাজনক, যা সাধারণ মানুষকে সচেতন করার কাজে বাধা হয়ে দাঁড়াবে।

‘বন্য প্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০২৬’ অনুযায়ী, তফসিলভুক্ত বন্য প্রাণী শিকার, ধরা, আহত করা বা হত্যা করা নিষিদ্ধ এবং এটি একটি দণ্ডনীয় অপরাধ। পাতি নেকড়ে সাপ এই আইনের তফসিল-২-এ অন্তর্ভুক্ত। আইন অনুযায়ী, এই অপরাধে সর্বোচ্চ এক বছর কারাদণ্ড অথবা সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে। অপরাধের পুনরাবৃত্তি ঘটলে সর্বোচ্চ দুই বছর কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

নিউজটি শেয়ার করুন

সচিবালয়ে সাপ পিটিয়ে হত্যা: বন্য প্রাণী আইনে কী দণ্ড হতে পারে

আপডেট সময় : ০২:৪৩:০৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬

বাংলাদেশ সচিবালয়ের ৬ নম্বর ভবনের ১৮ তলার বারান্দায় গত বৃহস্পতিবার তিনটি সাপের বাচ্চা পিটিয়ে মারার ঘটনা ঘটেছে। বেলা ১১টার দিকে সাপগুলো বারান্দার দেয়াল বেয়ে ওপরে ওঠার চেষ্টা করছিল। প্রত্যক্ষদর্শীরা সাপগুলোকে পিটিয়ে হত্যা করেন। ঘটনাস্থলটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বারান্দা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

সাপ-গবেষক আবু সাইদ ভিডিও ফুটেজ দেখে ধারণা করছেন, এগুলো পাতি নেকড়ে সাপের বাচ্চা হতে পারে। এটি সম্পূর্ণ নির্বিষ একটি প্রজাতি, যা খাড়া দেয়াল, পাইপ কিংবা তার বেয়ে ওপরে উঠতে সক্ষম। বন অধিদপ্তরের বন সংরক্ষক মো. ছানাউল্যা পাটওয়ারী অবশ্য বলছেন, ভবন ঘেঁষে কোনো গাছ থাকলে সেটির সাহায্য নিয়েও সাপগুলো ওপরে উঠতে পারে। তবে সচিবালয়ের মতো সুরক্ষিত প্রশাসনিক কেন্দ্রে এমন ঘটনা বন্য প্রাণী রক্ষায় জনসচেতনতা তৈরির ক্ষেত্রে বড় প্রতিবন্ধকতা বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

বন অধিদপ্তর জানিয়েছে, ঘটনার বিষয়ে তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অধিদপ্তরের একজন কর্মকর্তা জানান, এমনিতেই মানুষের অসচেতনতার কারণে বন্য প্রাণী রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়ছে, এমন ঘটনা সেই প্রচেষ্টাকে আরও ব্যাহত করবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তারা এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

বন্য প্রাণী বিশেষজ্ঞ ও সরকার গঠিত ওয়াইল্ডলাইফ কমিশনের সদস্য রেজা খান বলেন, কোথাও কোনো বন্য প্রাণী দেখা গেলে সেটিকে সরাসরি মেরে না ফেলে পর্যবেক্ষণ করা এবং সঠিক ব্যক্তি বা সংস্থাকে খবর দেওয়া উচিত। তিনি বলেন, 'আমাদের প্রথম কাজই যেন বন্য প্রাণী—সেটা সাপ হোক, মেছো বিড়াল হোক মেরে ফেলা! ঢাকায় এখন অনেক সংগঠন সাপ উদ্ধার করে। তাদের কাউকে জানালে তারা গিয়ে সাপগুলো উদ্ধার করতে পারত। এর বদলে সাপগুলো মেরে ফেলাটা একটা বাজে উদাহরণ হয়েছে।'

ডিপ ইকোলজি অ্যান্ড স্নেক রেসকিউ ফাউন্ডেশনের সহপ্রতিষ্ঠাতা সৈয়দা অনন্যা ফারিয়াও একই মত পোষণ করেন। তিনি বলেন, বর্তমানে ঢাকায় অনেক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সাপ উদ্ধারে কাজ করছে। সচিবালয়ের মতো জায়গায় বন্য প্রাণীর সুরক্ষা না পাওয়াটা হতাশাজনক, যা সাধারণ মানুষকে সচেতন করার কাজে বাধা হয়ে দাঁড়াবে।

‘বন্য প্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০২৬’ অনুযায়ী, তফসিলভুক্ত বন্য প্রাণী শিকার, ধরা, আহত করা বা হত্যা করা নিষিদ্ধ এবং এটি একটি দণ্ডনীয় অপরাধ। পাতি নেকড়ে সাপ এই আইনের তফসিল-২-এ অন্তর্ভুক্ত। আইন অনুযায়ী, এই অপরাধে সর্বোচ্চ এক বছর কারাদণ্ড অথবা সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে। অপরাধের পুনরাবৃত্তি ঘটলে সর্বোচ্চ দুই বছর কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo