ঢাকা ০৫:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬, ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কালীগঞ্জে দখল ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে ভুক্তভোগীদের মানববন্ধন শহীদ পরিবারের প্রত্যাশা পূরণে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী আর্থিক সংকটে বন্ধের মুখে স্পেনের ১৭৫ বছরের পুরোনো ঐতিহাসিক বইয়ের দোকান চলতি অর্থবছরেই স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পন্ন হবে: শাহে আলম নাটোরে ৫৮ শতাংশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেই প্রধান শিক্ষক ফিফার নিষেধাজ্ঞা থেকে মুক্ত বসুন্ধরা কিংস, দলবদলে বাধা নেই ব্রাহ্মণবাড়িয়া নিয়ে সংসদে দেওয়া বক্তব্যে দুঃখ প্রকাশ করলেন হাসনাত আবদুল্লাহ ভেনেজুয়েলার তেল সম্পদে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ: ট্রাম্পের বড় ঘোষণা কিয়েভের উপকণ্ঠে রুশ ড্রোন হামলায় নিহত ২৭ গোলাপগঞ্জে মোটরসাইকেল চুরির অভিযোগে পুলিশ কনস্টেবল সাময়িক বরখাস্ত

নাটোরে ৫৮ শতাংশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেই প্রধান শিক্ষক

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:১৩:৪২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নাটোর জেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে তীব্র প্রধান শিক্ষক সংকটের কারণে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম। জেলার মোট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫৮ শতাংশেরই কোনো স্থায়ী প্রধান শিক্ষক নেই। ফলে বছরের পর বছর ধরে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকদের কাঁধে ভর করে কোনোমতে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে এই প্রতিষ্ঠানগুলো।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, নাটোরে অনুমোদিত ৭৩৮টি প্রধান শিক্ষকের পদের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ৩০৯ জন। বাকি ৪২৯টি বিদ্যালয়েই পদটি দীর্ঘদিন ধরে শূন্য পড়ে রয়েছে। এর ফলে ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী সহকারী শিক্ষকদের ওপর দাপ্তরিক ও প্রশাসনিক কাজের চাপ যেমন বাড়ছে, তেমনি শ্রেণিকক্ষে নিয়মিত পাঠদানও চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

উপজেলাভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি পদ শূন্য রয়েছে সিংড়ায়। সেখানে ২১০টি পদের মধ্যে ১৩০টিই ফাঁকা, কর্মরত আছেন ৮০ জন। এছাড়া নাটোর সদরে ১০২টি পদের বিপরীতে শূন্য রয়েছে ৫৮টি, নলডাঙ্গায় ৭২টির মধ্যে ৫১টি, গুরুদাসপুরে ৯০টির মধ্যে ৪৪টি, বাগাতিপাড়ায় ৫৬টির মধ্যে ৩৮টি, লালপুরে ১১২টির মধ্যে ৭২টি এবং বড়াইগ্রামে ৯৬টি পদের বিপরীতে ৫০টি প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে।

এই সংকটের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সহকারী শিক্ষকের ঘাটতিও। জেলায় ৪ হাজার ১২২টি অনুমোদিত সহকারী শিক্ষক পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন ৩ হাজার ৮১৯ জন, অর্থাৎ ৩০৩টি পদ খালি রয়েছে। শিক্ষকরা জানিয়েছেন, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকদের দাপ্তরিক নথিপত্র তৈরি, বিভিন্ন সভায় যোগ দেওয়া, সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়ন ও তদারকির মতো বহুমুখী কাজ সামলাতে হয়। এতে করে তাদের নিজস্ব ক্লাসের শিক্ষার্থীদের পাঠদানের দায়িত্ব অন্য শিক্ষকদের ওপর চাপাতে হচ্ছে, যা সামগ্রিক শিক্ষা ব্যবস্থাপনায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে শিক্ষাবিদ অধ্যাপক সুবিদ কুমার মৈত্র অলক বলেন, মেধাবী শিক্ষকরা প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিয়োগ পান এবং এখানকার পাঠ্যবইও অত্যন্ত মানসম্মত। তবে প্রধান শিক্ষক না থাকাটা ‘গোদের ওপর বিষফোঁড়া’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এতে সচেতনতা বৃদ্ধি ও এলাকায় গিয়ে মানুষকে উৎসাহিত করার কর্মসূচিগুলো চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। তিনি দ্রুত সারা দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে প্রধান শিক্ষক নিয়োগের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতি আহ্বান জানান।

নাটোর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল হান্নান জানান, প্রধান শিক্ষক না থাকায় শিক্ষা কার্যক্রম কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে। তবে বর্তমান সরকার দ্রুত সহকারী শিক্ষকদের পদোন্নতি দিয়ে এই শূন্য পদগুলো পূরণের চেষ্টা চালাচ্ছে। খুব শিগগিরই প্রতিটি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে শিক্ষার মান কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh

নিউজটি শেয়ার করুন

নাটোরে ৫৮ শতাংশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেই প্রধান শিক্ষক

আপডেট সময় : ০৪:১৩:৪২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬

নাটোর জেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে তীব্র প্রধান শিক্ষক সংকটের কারণে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম। জেলার মোট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫৮ শতাংশেরই কোনো স্থায়ী প্রধান শিক্ষক নেই। ফলে বছরের পর বছর ধরে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকদের কাঁধে ভর করে কোনোমতে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে এই প্রতিষ্ঠানগুলো।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, নাটোরে অনুমোদিত ৭৩৮টি প্রধান শিক্ষকের পদের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ৩০৯ জন। বাকি ৪২৯টি বিদ্যালয়েই পদটি দীর্ঘদিন ধরে শূন্য পড়ে রয়েছে। এর ফলে ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী সহকারী শিক্ষকদের ওপর দাপ্তরিক ও প্রশাসনিক কাজের চাপ যেমন বাড়ছে, তেমনি শ্রেণিকক্ষে নিয়মিত পাঠদানও চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

উপজেলাভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি পদ শূন্য রয়েছে সিংড়ায়। সেখানে ২১০টি পদের মধ্যে ১৩০টিই ফাঁকা, কর্মরত আছেন ৮০ জন। এছাড়া নাটোর সদরে ১০২টি পদের বিপরীতে শূন্য রয়েছে ৫৮টি, নলডাঙ্গায় ৭২টির মধ্যে ৫১টি, গুরুদাসপুরে ৯০টির মধ্যে ৪৪টি, বাগাতিপাড়ায় ৫৬টির মধ্যে ৩৮টি, লালপুরে ১১২টির মধ্যে ৭২টি এবং বড়াইগ্রামে ৯৬টি পদের বিপরীতে ৫০টি প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে।

এই সংকটের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সহকারী শিক্ষকের ঘাটতিও। জেলায় ৪ হাজার ১২২টি অনুমোদিত সহকারী শিক্ষক পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন ৩ হাজার ৮১৯ জন, অর্থাৎ ৩০৩টি পদ খালি রয়েছে। শিক্ষকরা জানিয়েছেন, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকদের দাপ্তরিক নথিপত্র তৈরি, বিভিন্ন সভায় যোগ দেওয়া, সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়ন ও তদারকির মতো বহুমুখী কাজ সামলাতে হয়। এতে করে তাদের নিজস্ব ক্লাসের শিক্ষার্থীদের পাঠদানের দায়িত্ব অন্য শিক্ষকদের ওপর চাপাতে হচ্ছে, যা সামগ্রিক শিক্ষা ব্যবস্থাপনায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে শিক্ষাবিদ অধ্যাপক সুবিদ কুমার মৈত্র অলক বলেন, মেধাবী শিক্ষকরা প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিয়োগ পান এবং এখানকার পাঠ্যবইও অত্যন্ত মানসম্মত। তবে প্রধান শিক্ষক না থাকাটা ‘গোদের ওপর বিষফোঁড়া’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এতে সচেতনতা বৃদ্ধি ও এলাকায় গিয়ে মানুষকে উৎসাহিত করার কর্মসূচিগুলো চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। তিনি দ্রুত সারা দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে প্রধান শিক্ষক নিয়োগের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতি আহ্বান জানান।

নাটোর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল হান্নান জানান, প্রধান শিক্ষক না থাকায় শিক্ষা কার্যক্রম কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে। তবে বর্তমান সরকার দ্রুত সহকারী শিক্ষকদের পদোন্নতি দিয়ে এই শূন্য পদগুলো পূরণের চেষ্টা চালাচ্ছে। খুব শিগগিরই প্রতিটি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে শিক্ষার মান কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh