ঢাকা ১১:২৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬, ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
এসএসসি ফল পুনর্নিরীক্ষণ: ১৩ লাখ খাতা যাচাইয়ের চ্যালেঞ্জ শিক্ষা বোর্ডের ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মাদ্রাসা ছাত্রদের বিক্ষোভ, এনসিপি’র কর্মসূচি প্রতিহতের ঘোষণা ঠাকুরগাঁও-দিনাজপুর সীমান্তে বাস সংঘর্ষে ১৫ আহত, ১ জনের অবস্থা গুরুতর টাঙ্গুয়ার হাওরে ৪ মাসে ৫ মৃত্যু, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা স্টুটগার্টকে ৫-১ গোলে হারিয়ে বুন্দেসলিগা জয় শুরু বায়ার্নের সময়মতো সঠিক চিকিৎসায় নিরাময় সম্ভব ছোঁয়াচে রোগ হাম চাপে পড়ে বিদেশি উদ্ধারকারী দলকে অনুমতি দিল নেপাল সরকার হামলা করে পার পাওয়ার দিন শেষ: ইরান ভেনেজুয়েলার ৬৫ বিলিয়ন ব্যারেল তেল নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার ঘোষণা ট্রাম্পের পাঁচ ছাত্র সংসদের পরবর্তী নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা

অতিরিক্ত চুল পড়ার পেছনে থাইরয়েড দায়ী কি না বুঝবেন যেভাবে

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৫৬:৩৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

চুল পড়া নিয়ে আমাদের দুশ্চিন্তার যেন শেষ নেই। এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে শ্যাম্পু, তেল, সিরাম কিংবা বিভিন্ন ধরনের সাপ্লিমেন্ট ব্যবহার করেন অনেকেই। তবে বাহ্যিক যত্নের পাশাপাশি অতিরিক্ত চুল পড়ার পেছনে শরীরের ভেতরের একটি গুরুত্বপূর্ণ হরমোনজনিত সমস্যা লুকিয়ে থাকতে পারে, যা হলো থাইরয়েডের অস্বাভাবিকতা। গলার সামনের অংশে অবস্থিত ছোট একটি গ্রন্থি থাইরয়েড মূলত টি-৩ ও টি-৪ হরমোন তৈরি করে। এই হরমোনগুলো শরীরের বিপাকক্রিয়া, শক্তি উৎপাদনসহ বিভিন্ন শারীরবৃত্তীয় কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করে। চুলের ফলিকলও থাইরয়েড হরমোনের প্রভাবে প্রভাবিত হয়। ফলে এই হরমোনের মাত্রা কমে গেলে বা বেড়ে গেলে চুলের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও ঝরে পড়ার চক্রে বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটে। গবেষণায় দেখা গেছে, হাইপোথাইরয়েডিজম ও হাইপারথাইরয়েডিজম—উভয় অবস্থার সঙ্গেই চুল ঝরে পড়ার গভীর সম্পর্ক রয়েছে।

থাইরয়েডজনিত কারণে চুল পড়ার ধরনটি সাধারণত মাথার নির্দিষ্ট কোনো অংশে টাক তৈরি করে না। বরং পুরো মাথাজুড়ে সামগ্রিকভাবে চুল পাতলা হয়ে যেতে দেখা যায়। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় অনেক ক্ষেত্রে এটি ‘টেলোজেন এফ্লুভিয়াম’ নামে পরিচিত এক ধরনের অতিরিক্ত চুল ঝরে পড়ার সমস্যার সঙ্গে সম্পর্কিত। হাইপোথাইরয়েডিজমের সমস্যায় চুল অতিরিক্ত শুষ্ক, রুক্ষ ও ভঙ্গুর হয়ে ভেঙে যেতে পারে। অন্যদিকে, হাইপারথাইরয়েডিজমেও চুল পাতলা হয়ে যাওয়া বা অতিরিক্ত চুল ঝরে পড়ার লক্ষণ দেখা যায়। তবে মনে রাখা প্রয়োজন, শুধু চুল পড়ছে বলেই যে থাইরয়েডের সমস্যা রয়েছে, বিষয়টি তেমন নয়। আয়রনের ঘাটতি, পুষ্টির অভাব, মানসিক বা শারীরিক অতিরিক্ত চাপ, দ্রুত ওজন কমে যাওয়া, নির্দিষ্ট কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, বংশগত কারণ এবং অন্যান্য শারীরিক অসুস্থতাও চুল পড়ার জন্য দায়ী হতে পারে।

থাইরয়েডের সমস্যা থাকলে চুল পড়ার পাশাপাশি আরও কিছু উপসর্গ দেখা দিতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে অতিরিক্ত ক্লান্তি অনুভব করা, ওজনের অস্বাভাবিক পরিবর্তন, ঠান্ডা বা গরম সহ্য করতে সমস্যা হওয়া, ত্বক শুষ্ক হয়ে যাওয়া, কোষ্ঠকাঠিন্য, বুক ধড়ফড় করা কিংবা নারীদের ক্ষেত্রে মাসিকের অনিয়ম। তবে সবার ক্ষেত্রে সব লক্ষণ একইভাবে প্রকাশ পায় না। অনেক সময় অতিরিক্ত চুল পড়াই হতে পারে এই হরমোনজনিত সমস্যার প্রথম লক্ষণগুলোর একটি।

দীর্ঘদিন ধরে অস্বাভাবিক হারে চুল পড়লে এর সঠিক কারণ খুঁজে বের করা জরুরি। চিকিৎসকেরা সাধারণত রোগীর শারীরিক অবস্থা ও উপসর্গ বিবেচনা করে থাইরয়েড পরীক্ষার জন্য টিএসএইচ (TSH) এবং ফ্রি টি-৪ (Free T-4) পরীক্ষা করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। প্রয়োজন অনুযায়ী এর সঙ্গে অন্যান্য পরীক্ষাও যুক্ত হতে পারে, বিশেষ করে আয়রনের ঘাটতি বা পুষ্টির সমস্যা মূল্যায়নের পরীক্ষা। এখানে একটি বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ—শুধুমাত্র চুল পড়ার অজুহাতে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নিজের ইচ্ছামতো থাইরয়েডের ওষুধ বা বিভিন্ন সাপ্লিমেন্ট খাওয়া শুরু করা যাবে না। কারণ চুল পড়ার সঠিক চিকিৎসা নির্ভর করে এর প্রকৃত কারণের ওপর।

অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে, থাইরয়েডের চিকিৎসায় চুল কি আবার গজায়? থাইরয়েডের অস্বাভাবিকতার কারণে চুল পড়লে মূল রোগটি যথাযথ চিকিৎসার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণে আনার পর সাধারণত চুল পড়া কমে আসে এবং অনেক ক্ষেত্রেই পুনরায় চুল গজাতে শুরু করে। তবে চুলের বৃদ্ধি একটি অত্যন্ত ধীর প্রক্রিয়া। তাই থাইরয়েডের হরমোনের মাত্রা স্বাভাবিক হওয়ার পরপরই মাথায় নতুন চুল দেখা যাবে—এমন আশা করা ঠিক নয়। দৃশ্যমান পরিবর্তন দেখতে কয়েক মাস পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।

চুল পড়াকে কেবল সৌন্দর্যের সমস্যা হিসেবে না দেখে শরীরের ভেতরের স্বাস্থ্যের দিকেও নজর দেওয়া জরুরি। বিশেষ করে হঠাৎ বা দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত চুল পড়ার সঙ্গে যদি ক্লান্তি, ওজনের পরিবর্তন বা তাপমাত্রা সহ্য করার ক্ষমতায় বদল আসার মতো লক্ষণ থাকে, তবে দ্রুত থাইরয়েডসহ অন্যান্য সম্ভাব্য কারণ পরীক্ষা করা উচিত। সুস্থ চুলের জন্য বাহ্যিক যত্নের পাশাপাশি ভেতরের সুস্থতা বজায় রাখা সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

নিবন্ধটি লিখেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুড অ্যান্ড নিউট্রিশন বিভাগ থেকে বিএসসি (অনার্স) সম্পন্নকারী রাইসা মেহজাবীন, যিনি নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে এমপিএইচ করছেন এবং ইনস্পিরন ফিটনেস অ্যান্ড ডায়েট কনসালটেন্সি সেন্টারের ধানমন্ডি শাখার ব্রাঞ্চ ম্যানেজার ও নিউট্রিশন ফর চেঞ্জ-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত আছেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh

নিউজটি শেয়ার করুন

অতিরিক্ত চুল পড়ার পেছনে থাইরয়েড দায়ী কি না বুঝবেন যেভাবে

আপডেট সময় : ০৯:৫৬:৩৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬

চুল পড়া নিয়ে আমাদের দুশ্চিন্তার যেন শেষ নেই। এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে শ্যাম্পু, তেল, সিরাম কিংবা বিভিন্ন ধরনের সাপ্লিমেন্ট ব্যবহার করেন অনেকেই। তবে বাহ্যিক যত্নের পাশাপাশি অতিরিক্ত চুল পড়ার পেছনে শরীরের ভেতরের একটি গুরুত্বপূর্ণ হরমোনজনিত সমস্যা লুকিয়ে থাকতে পারে, যা হলো থাইরয়েডের অস্বাভাবিকতা। গলার সামনের অংশে অবস্থিত ছোট একটি গ্রন্থি থাইরয়েড মূলত টি-৩ ও টি-৪ হরমোন তৈরি করে। এই হরমোনগুলো শরীরের বিপাকক্রিয়া, শক্তি উৎপাদনসহ বিভিন্ন শারীরবৃত্তীয় কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করে। চুলের ফলিকলও থাইরয়েড হরমোনের প্রভাবে প্রভাবিত হয়। ফলে এই হরমোনের মাত্রা কমে গেলে বা বেড়ে গেলে চুলের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও ঝরে পড়ার চক্রে বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটে। গবেষণায় দেখা গেছে, হাইপোথাইরয়েডিজম ও হাইপারথাইরয়েডিজম—উভয় অবস্থার সঙ্গেই চুল ঝরে পড়ার গভীর সম্পর্ক রয়েছে।

থাইরয়েডজনিত কারণে চুল পড়ার ধরনটি সাধারণত মাথার নির্দিষ্ট কোনো অংশে টাক তৈরি করে না। বরং পুরো মাথাজুড়ে সামগ্রিকভাবে চুল পাতলা হয়ে যেতে দেখা যায়। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় অনেক ক্ষেত্রে এটি ‘টেলোজেন এফ্লুভিয়াম’ নামে পরিচিত এক ধরনের অতিরিক্ত চুল ঝরে পড়ার সমস্যার সঙ্গে সম্পর্কিত। হাইপোথাইরয়েডিজমের সমস্যায় চুল অতিরিক্ত শুষ্ক, রুক্ষ ও ভঙ্গুর হয়ে ভেঙে যেতে পারে। অন্যদিকে, হাইপারথাইরয়েডিজমেও চুল পাতলা হয়ে যাওয়া বা অতিরিক্ত চুল ঝরে পড়ার লক্ষণ দেখা যায়। তবে মনে রাখা প্রয়োজন, শুধু চুল পড়ছে বলেই যে থাইরয়েডের সমস্যা রয়েছে, বিষয়টি তেমন নয়। আয়রনের ঘাটতি, পুষ্টির অভাব, মানসিক বা শারীরিক অতিরিক্ত চাপ, দ্রুত ওজন কমে যাওয়া, নির্দিষ্ট কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, বংশগত কারণ এবং অন্যান্য শারীরিক অসুস্থতাও চুল পড়ার জন্য দায়ী হতে পারে।

থাইরয়েডের সমস্যা থাকলে চুল পড়ার পাশাপাশি আরও কিছু উপসর্গ দেখা দিতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে অতিরিক্ত ক্লান্তি অনুভব করা, ওজনের অস্বাভাবিক পরিবর্তন, ঠান্ডা বা গরম সহ্য করতে সমস্যা হওয়া, ত্বক শুষ্ক হয়ে যাওয়া, কোষ্ঠকাঠিন্য, বুক ধড়ফড় করা কিংবা নারীদের ক্ষেত্রে মাসিকের অনিয়ম। তবে সবার ক্ষেত্রে সব লক্ষণ একইভাবে প্রকাশ পায় না। অনেক সময় অতিরিক্ত চুল পড়াই হতে পারে এই হরমোনজনিত সমস্যার প্রথম লক্ষণগুলোর একটি।

দীর্ঘদিন ধরে অস্বাভাবিক হারে চুল পড়লে এর সঠিক কারণ খুঁজে বের করা জরুরি। চিকিৎসকেরা সাধারণত রোগীর শারীরিক অবস্থা ও উপসর্গ বিবেচনা করে থাইরয়েড পরীক্ষার জন্য টিএসএইচ (TSH) এবং ফ্রি টি-৪ (Free T-4) পরীক্ষা করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। প্রয়োজন অনুযায়ী এর সঙ্গে অন্যান্য পরীক্ষাও যুক্ত হতে পারে, বিশেষ করে আয়রনের ঘাটতি বা পুষ্টির সমস্যা মূল্যায়নের পরীক্ষা। এখানে একটি বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ—শুধুমাত্র চুল পড়ার অজুহাতে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নিজের ইচ্ছামতো থাইরয়েডের ওষুধ বা বিভিন্ন সাপ্লিমেন্ট খাওয়া শুরু করা যাবে না। কারণ চুল পড়ার সঠিক চিকিৎসা নির্ভর করে এর প্রকৃত কারণের ওপর।

অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে, থাইরয়েডের চিকিৎসায় চুল কি আবার গজায়? থাইরয়েডের অস্বাভাবিকতার কারণে চুল পড়লে মূল রোগটি যথাযথ চিকিৎসার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণে আনার পর সাধারণত চুল পড়া কমে আসে এবং অনেক ক্ষেত্রেই পুনরায় চুল গজাতে শুরু করে। তবে চুলের বৃদ্ধি একটি অত্যন্ত ধীর প্রক্রিয়া। তাই থাইরয়েডের হরমোনের মাত্রা স্বাভাবিক হওয়ার পরপরই মাথায় নতুন চুল দেখা যাবে—এমন আশা করা ঠিক নয়। দৃশ্যমান পরিবর্তন দেখতে কয়েক মাস পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।

চুল পড়াকে কেবল সৌন্দর্যের সমস্যা হিসেবে না দেখে শরীরের ভেতরের স্বাস্থ্যের দিকেও নজর দেওয়া জরুরি। বিশেষ করে হঠাৎ বা দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত চুল পড়ার সঙ্গে যদি ক্লান্তি, ওজনের পরিবর্তন বা তাপমাত্রা সহ্য করার ক্ষমতায় বদল আসার মতো লক্ষণ থাকে, তবে দ্রুত থাইরয়েডসহ অন্যান্য সম্ভাব্য কারণ পরীক্ষা করা উচিত। সুস্থ চুলের জন্য বাহ্যিক যত্নের পাশাপাশি ভেতরের সুস্থতা বজায় রাখা সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

নিবন্ধটি লিখেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুড অ্যান্ড নিউট্রিশন বিভাগ থেকে বিএসসি (অনার্স) সম্পন্নকারী রাইসা মেহজাবীন, যিনি নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে এমপিএইচ করছেন এবং ইনস্পিরন ফিটনেস অ্যান্ড ডায়েট কনসালটেন্সি সেন্টারের ধানমন্ডি শাখার ব্রাঞ্চ ম্যানেজার ও নিউট্রিশন ফর চেঞ্জ-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত আছেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh