ঢাকা ০৯:৪০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬, ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সৈয়দপুরে বাসের লকারে ২৪ কেজি গাঁজা, নারী গ্রেপ্তার আজ কিংবদন্তি মাইকেল জ্যাকসনের জন্মদিন ৯/১১-কে ‘সন্ত্রাসী হামলা’ না বলার নির্দেশ নিয়ে সিবিসির সমালোচনা ৭০ লাখ টাকায় নির্মিত অতিথিশালা, ১৪ বছরেও পর্যটকশূন্য হালান্ড ও চেরকির জোড়া গোল, ক্রিস্টাল প্যালেসকে ৪-১ ব্যবধানে ওড়াল ম্যানসিটি অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে মেটার নতুন নিয়ম জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব নিলেন আইরিন খান মৌলভীবাজারের সবুজে সোনালি চন্দ্রপ্রভার হলুদ উৎসব সরকারি কলেজে শিক্ষক সংকট ও শিক্ষার মানোন্নয়নের চ্যালেঞ্জ উদ্বোধনের পরই অচল অন্তর্বর্তী সরকারের নাগরিক সেবাকেন্দ্র, ৪টিতেই তালা

স্বাস্থ্য খাতের আমূল সংস্কারে স্বাস্থ্য কমিশন গঠনের প্রস্তাব

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:০৮:১৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

প্রকাশ : ২৯ আগস্ট ২০২৬, ০৭: ৪৯ আপডেট : ২৯ আগস্ট ২০২৬, ০৭: ৪৯

স্বাস্থ্য খাতের বিদ্যমান সংকট ও জনগণের অসন্তোষ মূলত সেবার মান এবং পরিমাণের ঘাটতি থেকে উদ্ভূত। এই পরিস্থিতির পেছনে প্রাতিষ্ঠানিক ও গণজবাবদিহিতার দুর্বলতা মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে স্বাস্থ্য খাত সংস্কার কমিশন একটি স্বাধীন 'বাংলাদেশ স্বাস্থ্য কমিশন' গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে। এই কমিশনের মূল দায়িত্ব হবে জনস্বাস্থ্য ও হাসপাতাল সেবার মান তদারকি করা, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও হাসপাতাল ব্যবস্থাপনায় স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং নিয়োগ ও পদোন্নতির শর্তাবলি প্রতিপালন হচ্ছে কি না তা পর্যবেক্ষণ করা। কমিশনটি সরাসরি সরকারপ্রধানের কাছে জবাবদিহি করবে এবং মন্ত্রণালয়ের উর্ধ্বে থেকে অন্যান্য খাতের সঙ্গে সমন্বয়ের প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে।

প্রস্তাবিত কমিশনের সদস্য হিসেবে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, রোগতত্ত্ববিদ, আইনজ্ঞ, অর্থনীতিবিদ, হিসাববিজ্ঞানের বিশেষজ্ঞ, সিভিল ইঞ্জিনিয়ার, নার্সিং ও প্যারামেডিক প্রতিনিধি এবং হাসপাতাল ব্যবস্থাপকদের মতো সংশ্লিষ্ট বিষয়ের বিশেষজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করা হয়েছে। কমিশনের প্রধান হবেন জনস্বাস্থ্য বা ক্লিনিক্যাল বিষয়ের একজন অভিজ্ঞ চিকিৎসক। এর একটি নিজস্ব সাচিবিক দপ্তর ও থোক বরাদ্দকৃত বাজেট থাকবে, যা অন্য কোনোভাবে নিয়ন্ত্রিত হবে না।

সংস্কার কমিশন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়কে একটি পৃথক ও স্বয়ংসম্পূর্ণ অবকাঠামোয় রূপান্তরের প্রস্তাব দিয়েছে। যার নীতি ও কৌশল নির্ধারণে নেতৃত্ব দেবেন জনপ্রতিনিধিরা। একজন সচিবের (চিফ) নেতৃত্বে তিনজন মহাপরিচালক কাজ করবেন। এই তিনজনের পদমর্যাদা ২৪, ৭২, ২০১১ ও ১১২০ নম্বর বিধিমালা অনুযায়ী নির্ধারণের প্রস্তাব রয়েছে। সিভিল সার্জন থেকে শুরু করে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের পদমর্যাদা পুনর্নির্ধারণের প্রস্তাবও রয়েছে। এছাড়া কর্মস্থলের দুর্গমতা অনুযায়ী বেতন-ভাতার ৩০ থেকে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত প্রণোদনা প্রদানের সুপারিশ করা হয়েছে, যাতে চিকিৎসকদের মেধা ও সততাকে মূল্যায়ন করা যায়।

মেডিকেল ও সহযোগী শিক্ষার মানোন্নয়নে মেডিকেল শিক্ষা অধিদপ্তরে নার্সিং ও প্যারামেডিক শিক্ষার জন্য অতিরিক্ত মহাপরিচালক পদ সৃষ্টির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। জনস্বাস্থ্য কার্যক্রম পরিচালনার জন্য একটি পৃথক ও শক্তিশালী জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তর গঠনের প্রয়োজনীয়তার ওপর কমিশন জোর দিয়েছে, যা রোগ প্রতিরোধ ও স্বাস্থ্য সুরক্ষায় কাজ করবে। জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তর গঠিত হলে এর মহাপরিচালকের অধীন চারজন অতিরিক্ত মহাপরিচালক থাকবেন—গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবা, নগর স্বাস্থ্যসেবা, পারিবারিক স্বাস্থ্যসেবা এবং পুষ্টিসেবার জন্য। পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরকে এই জনস্বাস্থ্য বিভাগের সাথে আত্মীকরণের মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া মহামারি বা দুর্যোগকালীন সময়ে যেকোনো সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ব্যবহারের ক্ষমতা এই অধিদপ্তরের হাতে থাকবে।

ক্লিনিক্যাল ও রোগ নির্ণায়ক সেবার জন্য বর্তমান স্বাস্থ্যসেবা অধিদপ্তরকে 'হাসপাতাল ও রোগ নির্ণায়ক সেবা অধিদপ্তর' হিসেবে পুনর্গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে। সেবার মান বাড়াতে নার্স ও চিকিৎসকদের একই ব্যবস্থাপনার অধীনে আনার কথা বলা হয়েছে। জিডিপির ৫ শতাংশ স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা সর্বজনীনভাবে বিনামূল্যে প্রদানের নিশ্চয়তা দিতে কমিশন সুপারিশ করেছে, যা হতে হবে বার্ষিক উন্নয়ন পরিকল্পনার ১৫ শতাংশ। এছাড়া যারা সংগঠিত খাতে কর্মরত তাদের জন্য সামাজিক স্বাস্থ্যবীমা এবং ২০ শতাংশ অতিদরিদ্রের জন্য বিনামূল্যে সেবার প্রস্তাবও এই সংস্কার পরিকল্পনার অন্তর্ভুক্ত।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh

নিউজটি শেয়ার করুন

স্বাস্থ্য খাতের আমূল সংস্কারে স্বাস্থ্য কমিশন গঠনের প্রস্তাব

আপডেট সময় : ০৮:০৮:১৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬

প্রকাশ : ২৯ আগস্ট ২০২৬, ০৭: ৪৯ আপডেট : ২৯ আগস্ট ২০২৬, ০৭: ৪৯

স্বাস্থ্য খাতের বিদ্যমান সংকট ও জনগণের অসন্তোষ মূলত সেবার মান এবং পরিমাণের ঘাটতি থেকে উদ্ভূত। এই পরিস্থিতির পেছনে প্রাতিষ্ঠানিক ও গণজবাবদিহিতার দুর্বলতা মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে স্বাস্থ্য খাত সংস্কার কমিশন একটি স্বাধীন 'বাংলাদেশ স্বাস্থ্য কমিশন' গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে। এই কমিশনের মূল দায়িত্ব হবে জনস্বাস্থ্য ও হাসপাতাল সেবার মান তদারকি করা, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও হাসপাতাল ব্যবস্থাপনায় স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং নিয়োগ ও পদোন্নতির শর্তাবলি প্রতিপালন হচ্ছে কি না তা পর্যবেক্ষণ করা। কমিশনটি সরাসরি সরকারপ্রধানের কাছে জবাবদিহি করবে এবং মন্ত্রণালয়ের উর্ধ্বে থেকে অন্যান্য খাতের সঙ্গে সমন্বয়ের প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে।

প্রস্তাবিত কমিশনের সদস্য হিসেবে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, রোগতত্ত্ববিদ, আইনজ্ঞ, অর্থনীতিবিদ, হিসাববিজ্ঞানের বিশেষজ্ঞ, সিভিল ইঞ্জিনিয়ার, নার্সিং ও প্যারামেডিক প্রতিনিধি এবং হাসপাতাল ব্যবস্থাপকদের মতো সংশ্লিষ্ট বিষয়ের বিশেষজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করা হয়েছে। কমিশনের প্রধান হবেন জনস্বাস্থ্য বা ক্লিনিক্যাল বিষয়ের একজন অভিজ্ঞ চিকিৎসক। এর একটি নিজস্ব সাচিবিক দপ্তর ও থোক বরাদ্দকৃত বাজেট থাকবে, যা অন্য কোনোভাবে নিয়ন্ত্রিত হবে না।

সংস্কার কমিশন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়কে একটি পৃথক ও স্বয়ংসম্পূর্ণ অবকাঠামোয় রূপান্তরের প্রস্তাব দিয়েছে। যার নীতি ও কৌশল নির্ধারণে নেতৃত্ব দেবেন জনপ্রতিনিধিরা। একজন সচিবের (চিফ) নেতৃত্বে তিনজন মহাপরিচালক কাজ করবেন। এই তিনজনের পদমর্যাদা ২৪, ৭২, ২০১১ ও ১১২০ নম্বর বিধিমালা অনুযায়ী নির্ধারণের প্রস্তাব রয়েছে। সিভিল সার্জন থেকে শুরু করে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের পদমর্যাদা পুনর্নির্ধারণের প্রস্তাবও রয়েছে। এছাড়া কর্মস্থলের দুর্গমতা অনুযায়ী বেতন-ভাতার ৩০ থেকে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত প্রণোদনা প্রদানের সুপারিশ করা হয়েছে, যাতে চিকিৎসকদের মেধা ও সততাকে মূল্যায়ন করা যায়।

মেডিকেল ও সহযোগী শিক্ষার মানোন্নয়নে মেডিকেল শিক্ষা অধিদপ্তরে নার্সিং ও প্যারামেডিক শিক্ষার জন্য অতিরিক্ত মহাপরিচালক পদ সৃষ্টির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। জনস্বাস্থ্য কার্যক্রম পরিচালনার জন্য একটি পৃথক ও শক্তিশালী জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তর গঠনের প্রয়োজনীয়তার ওপর কমিশন জোর দিয়েছে, যা রোগ প্রতিরোধ ও স্বাস্থ্য সুরক্ষায় কাজ করবে। জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তর গঠিত হলে এর মহাপরিচালকের অধীন চারজন অতিরিক্ত মহাপরিচালক থাকবেন—গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবা, নগর স্বাস্থ্যসেবা, পারিবারিক স্বাস্থ্যসেবা এবং পুষ্টিসেবার জন্য। পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরকে এই জনস্বাস্থ্য বিভাগের সাথে আত্মীকরণের মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া মহামারি বা দুর্যোগকালীন সময়ে যেকোনো সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ব্যবহারের ক্ষমতা এই অধিদপ্তরের হাতে থাকবে।

ক্লিনিক্যাল ও রোগ নির্ণায়ক সেবার জন্য বর্তমান স্বাস্থ্যসেবা অধিদপ্তরকে 'হাসপাতাল ও রোগ নির্ণায়ক সেবা অধিদপ্তর' হিসেবে পুনর্গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে। সেবার মান বাড়াতে নার্স ও চিকিৎসকদের একই ব্যবস্থাপনার অধীনে আনার কথা বলা হয়েছে। জিডিপির ৫ শতাংশ স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা সর্বজনীনভাবে বিনামূল্যে প্রদানের নিশ্চয়তা দিতে কমিশন সুপারিশ করেছে, যা হতে হবে বার্ষিক উন্নয়ন পরিকল্পনার ১৫ শতাংশ। এছাড়া যারা সংগঠিত খাতে কর্মরত তাদের জন্য সামাজিক স্বাস্থ্যবীমা এবং ২০ শতাংশ অতিদরিদ্রের জন্য বিনামূল্যে সেবার প্রস্তাবও এই সংস্কার পরিকল্পনার অন্তর্ভুক্ত।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh