ঢাকা ১১:৩৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কেন্দুয়ায় মাদকবিরোধী অভিযানে নারীসহ ৩ জনের ৬ মাসের কারাদণ্ড ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে মতবিরোধের ইঙ্গিত দিলেন জেডি ভ্যান্স মিরপুরে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় ডা. শফিকুর রহমানের প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর উদ্যোগ প্রধানমন্ত্রীর প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে ভাতা বাড়ানোর আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর ইনানীতে টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ম্যানেজার পুলিশ হেফাজতে কক্সবাজারের ইনানীতে রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ পর্যটকের মৃত্যু, তদন্ত কমিটি ফ্যামিলি কার্ড তালাক বন্ধ করেছে, দাবি চিফ হুইপের তরুণদের হাত ধরেই গড়ে উঠবে সবার জন্য বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী নিহত সাংবাদিক আলিফের পরিবারের পাশে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল

চাটমোহরে কুপিবাতি ও জ্যোৎস্নার আলোয় ঐতিহ্যবাহী পুথি পাঠের আসর

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৯:২২:১৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬ ১৯ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আধুনিক আলোকসজ্জা ও যান্ত্রিকতার ভিড়ে চাটমোহরে আয়োজিত হলো এক মায়াবী রাত, যা যেন এক টুকরো স্মৃতির অ্যালবামের মতো ফুটে উঠেছিল। কৃত্রিম আলোর চাকচিক্য এড়িয়ে এই আসরে কেবল চাঁদের ধবল আলো আর মাটিতে রাখা নিভু নিভু কুপিবাতি ও হারিকেনের আলো ব্যবহার করা হয়েছিল। চটের চাদর ও মাদুর বিছানো প্রাঙ্গণে আয়োজিত এই আসরে গায়েন তার কণ্ঠের জাদুতে উপস্থিত শ্রোতাদের সুরের ভেলায় ভাসিয়ে নিয়ে যান। পরিবেশটি এমন ছিল যে, উপস্থিতদের মনে হচ্ছিল তারা যেন মুহূর্তের জন্য ১৭ শতকের গ্রামবাংলায় ফিরে গেছেন।

এই আসরে পরিবেশন করা হয় একসময়ের জনপ্রিয় কাব্য বিবি সোনাভান এবং গাজীকালু চম্পাবতীর পুথি পাঠ। আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য ছিল ইট-কাঠের যান্ত্রিক ব্যস্ততাকে দূরে সরিয়ে গ্রামবাংলার মাটির গন্ধ ও হারিয়ে যাওয়া সংস্কৃতিকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরা।

আয়োজনটি সম্পর্কে দোলং গ্রামের ২০ বছর বয়সী আশরাফুল ইসলাম জানান, আগে কখনও তিনি পুথি পাঠ শোনেননি। পোস্টার ও প্রচারণার মাধ্যমে আগ্রহী হয়ে তিনি এই ডিজিটাল যুগে হারিকেন ও চাঁদের আলোয় গল্প শুনে দারুণ মুগ্ধ হয়েছেন। রামনগর এলাকার বাসিন্দা ৩০ বছর বয়সী জুয়েল বলেন, আগে বই বা বড়দের কাছে পুথি পাঠের গল্প শুনলেও এবার বাস্তবে তা দেখার অভিজ্ঞতা তার হয়েছে। বাঙালি সংস্কৃতি তরুণদের জানাতে এমন আয়োজনের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন তিনি। এছাড়া সোনাহার এলাকার ১৮ বছর বয়সী মাছুমা জানান, তিনি বিবি সোনাভানের গল্প শুনে অনুপ্রাণিত হয়েছেন এবং নিয়মিত এমন আয়োজনের দাবি জানান।

সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও আয়োজক ডা. এস. এম. আতিকুল আলম জানান, ১৭-১৮ শতকের এই সাহিত্য আশি-নব্বই দশকের দিকে ধীরে ধীরে হারিয়ে যেতে থাকে। তরুণ প্রজন্মের কাছে আদি সংস্কৃতিকে পৌঁছে দিতেই তিনি এই উদ্যোগ নিয়েছেন।

কলেজের সহকারী অধ্যাপক আবুল কাশেম বলেন, পুথি পাঠ বাঙালির ঐতিহ্যের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এই আয়োজন প্রমাণ করে যে বাংলার মানুষ তাদের আদি সংস্কৃতি ভুলে যায়নি। বিলচলন ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম আয়োজকদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, লোকজ সংস্কৃতি চর্চার মাধ্যমেই বাঙালির ইতিহাস ও ঐতিহ্য মানুষের মনে বেঁচে থাকবে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh

নিউজটি শেয়ার করুন

চাটমোহরে কুপিবাতি ও জ্যোৎস্নার আলোয় ঐতিহ্যবাহী পুথি পাঠের আসর

আপডেট সময় : ০৯:২২:১৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬

আধুনিক আলোকসজ্জা ও যান্ত্রিকতার ভিড়ে চাটমোহরে আয়োজিত হলো এক মায়াবী রাত, যা যেন এক টুকরো স্মৃতির অ্যালবামের মতো ফুটে উঠেছিল। কৃত্রিম আলোর চাকচিক্য এড়িয়ে এই আসরে কেবল চাঁদের ধবল আলো আর মাটিতে রাখা নিভু নিভু কুপিবাতি ও হারিকেনের আলো ব্যবহার করা হয়েছিল। চটের চাদর ও মাদুর বিছানো প্রাঙ্গণে আয়োজিত এই আসরে গায়েন তার কণ্ঠের জাদুতে উপস্থিত শ্রোতাদের সুরের ভেলায় ভাসিয়ে নিয়ে যান। পরিবেশটি এমন ছিল যে, উপস্থিতদের মনে হচ্ছিল তারা যেন মুহূর্তের জন্য ১৭ শতকের গ্রামবাংলায় ফিরে গেছেন।

এই আসরে পরিবেশন করা হয় একসময়ের জনপ্রিয় কাব্য বিবি সোনাভান এবং গাজীকালু চম্পাবতীর পুথি পাঠ। আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য ছিল ইট-কাঠের যান্ত্রিক ব্যস্ততাকে দূরে সরিয়ে গ্রামবাংলার মাটির গন্ধ ও হারিয়ে যাওয়া সংস্কৃতিকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরা।

আয়োজনটি সম্পর্কে দোলং গ্রামের ২০ বছর বয়সী আশরাফুল ইসলাম জানান, আগে কখনও তিনি পুথি পাঠ শোনেননি। পোস্টার ও প্রচারণার মাধ্যমে আগ্রহী হয়ে তিনি এই ডিজিটাল যুগে হারিকেন ও চাঁদের আলোয় গল্প শুনে দারুণ মুগ্ধ হয়েছেন। রামনগর এলাকার বাসিন্দা ৩০ বছর বয়সী জুয়েল বলেন, আগে বই বা বড়দের কাছে পুথি পাঠের গল্প শুনলেও এবার বাস্তবে তা দেখার অভিজ্ঞতা তার হয়েছে। বাঙালি সংস্কৃতি তরুণদের জানাতে এমন আয়োজনের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন তিনি। এছাড়া সোনাহার এলাকার ১৮ বছর বয়সী মাছুমা জানান, তিনি বিবি সোনাভানের গল্প শুনে অনুপ্রাণিত হয়েছেন এবং নিয়মিত এমন আয়োজনের দাবি জানান।

সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও আয়োজক ডা. এস. এম. আতিকুল আলম জানান, ১৭-১৮ শতকের এই সাহিত্য আশি-নব্বই দশকের দিকে ধীরে ধীরে হারিয়ে যেতে থাকে। তরুণ প্রজন্মের কাছে আদি সংস্কৃতিকে পৌঁছে দিতেই তিনি এই উদ্যোগ নিয়েছেন।

কলেজের সহকারী অধ্যাপক আবুল কাশেম বলেন, পুথি পাঠ বাঙালির ঐতিহ্যের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এই আয়োজন প্রমাণ করে যে বাংলার মানুষ তাদের আদি সংস্কৃতি ভুলে যায়নি। বিলচলন ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম আয়োজকদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, লোকজ সংস্কৃতি চর্চার মাধ্যমেই বাঙালির ইতিহাস ও ঐতিহ্য মানুষের মনে বেঁচে থাকবে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh