ঢাকা ০৫:৪০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬, ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সিংগাইরে মদ্যপ অবস্থায় মারামারি, চিকিৎসাধীন যুবকের মৃত্যু দেশজুড়ে আশঙ্কাজনকহারে বেড়েছে খুন, ৭ মাসে ২০৭৬ হত্যাকাণ্ড ২৯ আগস্ট থেকে চুয়াডাঙ্গায় আন্তঃজেলা বাস চলাচল বন্ধের ঘোষণা আষাঢ়িয়ারচর ব্রিজে ফাটল: ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দীর্ঘ যানজট রূপপুর প্রকল্পে লিফট থেকে পড়ে শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু কুলাউড়ায় এনসিপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ১০, গ্রেপ্তার ৫ নারায়ণগঞ্জে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনা ও পানিতে ডুবে ৩ জনের মৃত্যু রূপগঞ্জে জলসিঁড়ি আবাসন প্রকল্পের বিরুদ্ধে কৃষিজমি রক্ষার দাবি ইউএস ওপেনে ওয়াইল্ড কার্ড পেলেন সেরেনা-ভেনাস, চার বছর পর ফিরছে উইলিয়ামস জুটি টালিউড অভিনেত্রী মধুমিতার সঙ্গে বড়পর্দায় ফিরছেন বাপ্পারাজ

কাউখালীতে পরিত্যক্ত ভবনের কারণে আটকে আছে নতুন সেতুর কাজ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০১:১২:২৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

পিরোজপুরের কাউখালী-স্বরূপকাঠী-গড়িয়ার পার-বরিশাল আঞ্চলিক সড়কের কচুয়াকাঠী এলাকায় একটি পুরোনো ও পরিত্যক্ত ভবনের কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন চালক ও সাধারণ পথচারীরা। সড়কের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা এই ভবনটি অপসারণ না করায় একদিকে যেমন যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে, অন্যদিকে কচুয়াকাঠী বেইলি ব্রিজের স্থানে নতুন সেতু নির্মাণের কাজও আটকে গেছে। এছাড়া সরু ও দৃষ্টিবাধাগ্রস্ত এই অংশে প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৮০-এর দশকে যখন এই সড়কটি নির্মাণ করা হয়, তখন সংশ্লিষ্ট জমির মালিকদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছিল। তবে ভবনটির মালিক মাওলানা আব্দুল হকের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও রেকর্ড যথাযথ না থাকায় তিনি সে সময় সড়ক বিভাগের কাছ থেকে কোনো ক্ষতিপূরণ পাননি। পরবর্তী সময়ে সড়ক বিভাগ ভবনটি অপসারণের উদ্যোগ নিলে বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায়।

সেতু নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও সড়ক বিভাগের পক্ষ থেকে ভবন মালিকের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক করা হয়েছে। মানবিক দিক বিবেচনা করে ভবনটি সরিয়ে নেওয়ার জন্য তাকে ১৩ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি এই প্রস্তাবে সম্মত না হয়ে ভবন অপসারণ বন্ধের দাবিতে পুনরায় আদালতে আপিল করেন। বর্তমানে মামলাটি শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে।

কাউখালী উপজেলা বিএনপির নেতা গিয়াসউদ্দিন অলি জানান, ভবনটি অপসারণ না হওয়ায় নতুন ব্রিজের কাজ ব্যাহত হচ্ছে। এ নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে আলোচনা ও ক্ষতিপূরণের প্রস্তাব দেওয়া হলেও ভবন মালিক তা না মেনে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। এদিকে স্থানীয় বাসিন্দা ও চালকদের অভিযোগ, বেইলি ব্রিজের উত্তর পাশে অ্যাপ্রোচ সড়কের একটি অংশজুড়ে ভবনটি থাকায় বিপরীত দিক থেকে আসা যানবাহন আগে থেকে দেখা যায় না। ফলে মুখোমুখি সংঘর্ষের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এক অটোশ্রমিক নেতা বলেন, ভবনটির কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে। ভবিষ্যতে কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে এর মালিকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে শ্রমিকদের মধ্যে আলোচনা চলছে।

পিরোজপুর সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাসেল মুঠোফোনে জানান, সম্প্রতি গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আহমেদ সোহেল মনজুর এই সেতু নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেছেন। তিনি বলেন, পরিত্যক্ত ভবনের মালিকের সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে। ব্রিজ নির্মাণে কোনো বাধা নেই, তবে অ্যাপ্রোচ করতে হলে ভবনটি অপসারণ করা প্রয়োজন। আশা করি, তিনি জনদুর্ভোগের বিষয়টি বিবেচনা করে ভবনটি অপসারণে সহযোগিতা করবেন। তবে এ বিষয়ে ভবন মালিক বা তার আইনজীবীর কোনো বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

কাউখালী উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান এস এম আহসান কবির বলেন, মানুষের জীবন ও সড়ক নিরাপত্তার স্বার্থে পরিত্যক্ত ভবনটি দ্রুত অপসারণের চেষ্টা চলছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রত্যাশা, আদালত শুনানির সময় জনস্বার্থ, সড়ক নিরাপত্তা ও উন্নয়নকাজের বিষয়টি বিবেচনা করে একটি আইনানুগ সিদ্ধান্ত দেবেন, যাতে কচুয়াকাঠী এলাকায় দ্রুত নিরাপদ যান চলাচলের ব্যবস্থা নিশ্চিত হয়।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Alokito Bangladesh

নিউজটি শেয়ার করুন

কাউখালীতে পরিত্যক্ত ভবনের কারণে আটকে আছে নতুন সেতুর কাজ

আপডেট সময় : ০১:১২:২৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬

পিরোজপুরের কাউখালী-স্বরূপকাঠী-গড়িয়ার পার-বরিশাল আঞ্চলিক সড়কের কচুয়াকাঠী এলাকায় একটি পুরোনো ও পরিত্যক্ত ভবনের কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন চালক ও সাধারণ পথচারীরা। সড়কের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা এই ভবনটি অপসারণ না করায় একদিকে যেমন যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে, অন্যদিকে কচুয়াকাঠী বেইলি ব্রিজের স্থানে নতুন সেতু নির্মাণের কাজও আটকে গেছে। এছাড়া সরু ও দৃষ্টিবাধাগ্রস্ত এই অংশে প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৮০-এর দশকে যখন এই সড়কটি নির্মাণ করা হয়, তখন সংশ্লিষ্ট জমির মালিকদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছিল। তবে ভবনটির মালিক মাওলানা আব্দুল হকের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও রেকর্ড যথাযথ না থাকায় তিনি সে সময় সড়ক বিভাগের কাছ থেকে কোনো ক্ষতিপূরণ পাননি। পরবর্তী সময়ে সড়ক বিভাগ ভবনটি অপসারণের উদ্যোগ নিলে বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায়।

সেতু নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও সড়ক বিভাগের পক্ষ থেকে ভবন মালিকের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক করা হয়েছে। মানবিক দিক বিবেচনা করে ভবনটি সরিয়ে নেওয়ার জন্য তাকে ১৩ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি এই প্রস্তাবে সম্মত না হয়ে ভবন অপসারণ বন্ধের দাবিতে পুনরায় আদালতে আপিল করেন। বর্তমানে মামলাটি শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে।

কাউখালী উপজেলা বিএনপির নেতা গিয়াসউদ্দিন অলি জানান, ভবনটি অপসারণ না হওয়ায় নতুন ব্রিজের কাজ ব্যাহত হচ্ছে। এ নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে আলোচনা ও ক্ষতিপূরণের প্রস্তাব দেওয়া হলেও ভবন মালিক তা না মেনে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। এদিকে স্থানীয় বাসিন্দা ও চালকদের অভিযোগ, বেইলি ব্রিজের উত্তর পাশে অ্যাপ্রোচ সড়কের একটি অংশজুড়ে ভবনটি থাকায় বিপরীত দিক থেকে আসা যানবাহন আগে থেকে দেখা যায় না। ফলে মুখোমুখি সংঘর্ষের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এক অটোশ্রমিক নেতা বলেন, ভবনটির কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে। ভবিষ্যতে কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে এর মালিকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে শ্রমিকদের মধ্যে আলোচনা চলছে।

পিরোজপুর সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাসেল মুঠোফোনে জানান, সম্প্রতি গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আহমেদ সোহেল মনজুর এই সেতু নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেছেন। তিনি বলেন, পরিত্যক্ত ভবনের মালিকের সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে। ব্রিজ নির্মাণে কোনো বাধা নেই, তবে অ্যাপ্রোচ করতে হলে ভবনটি অপসারণ করা প্রয়োজন। আশা করি, তিনি জনদুর্ভোগের বিষয়টি বিবেচনা করে ভবনটি অপসারণে সহযোগিতা করবেন। তবে এ বিষয়ে ভবন মালিক বা তার আইনজীবীর কোনো বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

কাউখালী উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান এস এম আহসান কবির বলেন, মানুষের জীবন ও সড়ক নিরাপত্তার স্বার্থে পরিত্যক্ত ভবনটি দ্রুত অপসারণের চেষ্টা চলছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রত্যাশা, আদালত শুনানির সময় জনস্বার্থ, সড়ক নিরাপত্তা ও উন্নয়নকাজের বিষয়টি বিবেচনা করে একটি আইনানুগ সিদ্ধান্ত দেবেন, যাতে কচুয়াকাঠী এলাকায় দ্রুত নিরাপদ যান চলাচলের ব্যবস্থা নিশ্চিত হয়।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Alokito Bangladesh