যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ট্রাম্পের জরুরি অবস্থা জারির আশঙ্কা
- আপডেট সময় : ০৯:১৭:৫২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

আসন্ন নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রে জাতীয় জরুরি অবস্থা জারি হতে পারে বলে জোরালো আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন কর্তৃক একের পর এক স্পর্শকাতর নথি প্রকাশ, অ-নাগরিকদের ভোটদানের অভিযোগ এবং নির্বাচনে বিদেশি হস্তক্ষেপের দাবিকে কেন্দ্র করে এই উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সমালোচক ও নির্বাচন বিশেষজ্ঞদের ধারণা, জাতীয় নিরাপত্তার অজুহাতে নির্বাচনব্যবস্থায় কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতেই ট্রাম্প এমন পদক্ষেপ নিতে পারেন।
স্বয়ং ডোনাল্ড ট্রাম্পও এই ধরনের কোনো সম্ভাবনাকে উড়িয়ে দেননি। এ বিষয়ে সরাসরি জানতে চাওয়া হলে তিনি মন্তব্য করেন, ‘এর চেয়েও অদ্ভুত ঘটনা ঘটেছে।’ ট্রাম্পের সাবেক রাজনৈতিক কৌশলবিদ স্টিভ ব্যানন বিষয়টিকে আরও উসকে দিয়েছেন। গত ২৯ জুলাই নিজের ‘ওয়ার রুম’ ভিডিও পডকাস্টে তিনি আগস্টের শেষ সপ্তাহের জন্য প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এমন একটি ঘোষণা আসলেই আসতে চলেছে। তার এই বক্তব্য মধ্যবর্তী নির্বাচনে জাতীয় নিরাপত্তাজনিত জরুরি অবস্থা জারির প্রস্তুতির ধারণাকে আরও জোরদার করেছে。
তবে আইনি ও সাংবিধানিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জরুরি অবস্থা জারি করলেও তা নির্বাচন পরিচালনার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করতে পারবে না। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এর আগে কোনো প্রেসিডেন্ট জরুরি অবস্থা জারি করে সরাসরি ভোট গ্রহণের ওপর নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেননি। ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে নির্বাচন সংক্রান্ত মামলা লড়া আইনজীবী আরিয়া ব্রাঞ্চ মনে করেন, নির্বাচনে কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার জন্য প্রশাসন একটি আইনি ভিত্তি খোঁজার চেষ্টা করছে এবং প্রেসিডেন্ট যেকোনো সুযোগের অপেক্ষায় আছেন।
ভোটারদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন ‘ভোটার্স অব টুমরো’-এর প্রেসিডেন্ট সান্তিয়াগো মেয়ার ট্রাম্পের সম্ভাব্য যেকোনো পদক্ষেপ মোকাবিলার তাগিদ দিয়েছেন। তিনি বলেন, ট্রাম্প ক্রমেই বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছেন। তাদের সংগঠনের মূল লক্ষ্য হলো পর্যাপ্ত ভোটারকে কেন্দ্রে নিয়ে আসা, যাতে ট্রাম্পের যেকোনো অপচেষ্টা ব্যর্থ করে দেওয়া যায়।
এদিকে ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারাও সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুতি নিচ্ছেন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তৈরি ভুয়া ভিডিও ছড়ানো এবং ভোটকেন্দ্রে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের (আইসিই) সদস্য মোতায়েনের মতো বিষয়গুলো নিয়ে তাদের মধ্যে আলোচনা চলছে। এছাড়া বিভিন্ন প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক সংগঠন, রাজ্য প্রশাসন এবং নাগরিক সমাজও নভেম্বরের নির্বাচনে সম্ভাব্য কেন্দ্রীয় হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে প্রস্তুতি গ্রহণ করছে।



























