ঢাকা ০৮:১০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নেপালের অবকাঠামো ধ্বংস কেন বারবার বিপর্যয়ের মুখে পড়ছে? হিমবাহধসের পর এবার ভূমিকম্পে কাঁপল তিব্বত তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে সাউথ ব্লকের চাপ ও অস্বস্তি বেসামরিক প্রশাসনে সামরিকীকরণ ও মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃত্ব নিয়ে বিতর্ক সিলেটে ব্যবসায়ী শাহাবউদ্দিন হত্যায় রেস্টুরেন্ট কর্মচারী জালালের স্বীকারোক্তি বেসিস নির্বাচন: ২৬ সেপ্টেম্বর ভোট, চূড়ান্ত তালিকা ৫ সেপ্টেম্বর ব্রুকলিনে বাংলাদেশি ইউসুফ হত্যা: ঘাতকের ছবি প্রকাশ করল নিউইয়র্ক পুলিশ চারজনের খুনের রহস্য উন্মোচনে ব্যর্থতা সরকারের চরম ব্যর্থতা: গোলাম পরওয়ার নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ট্রেজারার হিসেবে নিয়োগ পেলেন ইমদাদুল হুদা সংসদ থেকে বিরোধী দলের ওয়াকআউট: সংস্কার নিয়ে ক্ষোভ

জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় প্রাচীন জলব্যবস্থায় ফিরছে ভারত

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:১১:২৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

জলবায়ু পরিবর্তন ও ক্রমবর্ধমান পানিসংকট মোকাবিলায় আধুনিক প্রযুক্তির পাশাপাশি প্রাচীন জলব্যবস্থার দিকে ফিরছে ভারত। দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে পরিত্যক্ত কুয়া, জলাধার, মাটির বাঁধ ও বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের প্রাচীন কাঠামো সংস্কার করে ফের ব্যবহার শুরু হয়েছে। রাজস্থানের আলওয়ার শহরের মুসি রানি সাগর স্টেপওয়েল এর একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। ২০২১ সালে সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়ার পর ২০২৫ সালে তিন দশকেরও বেশি সময় পর প্রথমবারের মতো জলাধারটির পানি পাড়ের ফুটপাথ উপচে পড়ে। ১৮০০-এর দশকের শুরুর দিকে নির্মিত ১ দশমিক ৩ একর আয়তনের এই জলাধারটি একসময় অনিয়মিত ও দূষিত পানির কারণে প্রায় অকার্যকর হয়ে পড়েছিল, কিন্তু বর্তমানে সেখানে প্রায় ৩০ ফুট পর্যন্ত পানি জমছে।

ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে বাওরি, জোহাদ, কুন্ড, টাঙ্কা ও নাদি নামে পরিচিত এসব প্রাচীন জলব্যবস্থা মূলত বৃষ্টির পানি ধীরগতিতে মাটিতে প্রবেশ করিয়ে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর পুনরায় পূরণে ভূমিকা রাখে। এসব ব্যবস্থা শত বছর ধরে গ্রামীণ ভারতের পানি ব্যবস্থাপনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল। বিশ্বের মোট জনসংখ্যার প্রায় ১৮ শতাংশ ভারতে বাস করলেও দেশটির হাতে রয়েছে বিশ্বের মিঠা পানির মাত্র প্রায় ৪ শতাংশ, যার একটি বড় অংশ দূষিত। কৃষি ও দৈনন্দিন চাহিদা মেটাতে ভারত বিশ্বের অন্য যে কোনো দেশের তুলনায় বেশি ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন করে, যা গ্রামীণ সেচ ও পানীয় জলের প্রধান উৎস।

জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে উষ্ণতা বাড়ায় মাটি দ্রুত শুকিয়ে যাচ্ছে। একইসঙ্গে বৃষ্টিপাত তীব্র হওয়ায় বৃষ্টির বড় একটি অংশ মাটিতে শোষিত হওয়ার আগেই দ্রুত প্রবাহিত হয়ে যাচ্ছে। আধুনিক বাঁধ ও খাল কিছু ক্ষেত্রে ভূগর্ভস্থ পানির পুনর্ভরণে সহায়তা করলেও খোলা জলাধারে সূর্যের তাপে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ পানি বাষ্পীভূত হয়। বিপরীতে, প্রাচীন স্টেপওয়েলসহ কিছু কাঠামো পানি মাটির গভীরে পৌঁছাতে সহায়তা করে, যেখানে তা সূর্যের তাপ থেকে তুলনামূলকভাবে সুরক্ষিত থাকে এবং ভূগর্ভস্থ জলাধার পুনরায় পূরণে ভূমিকা রাখে।

আলওয়ারে ঐতিহ্যবাহী জোহাদ ব্যবস্থার পুনরুজ্জীবনও উল্লেখযোগ্য ফল দিয়েছে। জোহাদ হলো অর্ধচন্দ্রাকৃতির মাটির বাঁধ, যা বর্ষার পানি কিছু সময় ধরে রাখে এবং ধীরে ধীরে তা মাটির নিচে প্রবেশের সুযোগ দেয়। ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক আমলে বন উজাড়, খনন কার্যক্রম এবং জলাধার এলাকার ক্ষতির ফলে আলওয়ারের পুরোনো জোহাদ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছিল। পরে গভীর নলকূপের ওপর নির্ভরতা বাড়ায় ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন হলেও তার পুনর্ভরণ যথেষ্ট হয়নি। ১৯৮০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে এ অঞ্চলের নদীগুলো শুকিয়ে যায় এবং কিছু এলাকাকে ‘ডার্ক জোন’ ঘোষণা করা হয়। ১৯৮৫ সালে আয়ুর্বেদিক চিকিৎসক রাজেন্দ্র সিং আলওয়ারে একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র স্থাপনের উদ্দেশ্যে গেলে স্থানীয়রা তাকে পানির সংকটের কথা জানান। এরপর তিনি জোহাদ নির্মাণের উদ্যোগ নেন। ১৯৮৬ সালের বর্ষায় গোপালপুরা গ্রামের পুনর্নির্মিত জোহাদ পানিতে পূর্ণ হওয়ার পর আশপাশের শুকিয়ে যাওয়া কূপগুলোতেও পানি ফিরে আসে। ১৯৯৪ থেকে ২০০৭ সালের মধ্যে আলওয়ারে ১০ হাজারের বেশি জলসংরক্ষণ কাঠামো নির্মাণের ফলে পাঁচটি নদী সারা বছর সচল হয়েছে এবং প্রায় ২৫০টি গ্রাম উপকৃত হয়েছে। এছাড়া রাজস্থানের ৭০০টিরও বেশি গ্রাম পর্যন্ত এই উদ্যোগের বিস্তার ঘটে। পশ্চিম ভারতের মারাঠওয়াড়ায় ২০১০-এর দশকের শেষ দিকে পরিচালিত একটি প্রকল্পের আওতায় ৬ হাজারের বেশি গ্রাম নিজেদের মাটি ও পানি সংরক্ষণ কাঠামো সংস্কার করে ৫৫০ বিলিয়ন লিটারের বেশি পানি সংরক্ষণের সক্ষমতা তৈরি করেছে বলে জানিয়েছে পানি ফাউন্ডেশন।

স্বাধীনতার পর ভারত বড় বাঁধ, খাল ও বৈদ্যুতিক নলকূপের মতো আধুনিক অবকাঠামো নির্মাণে ব্যাপক বিনিয়োগ করলেও ভূগর্ভস্থ পানির পুনর্ভরণের উদ্যোগ ছিল সীমিত। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটির নীতিতে পরিবর্তন এসেছে। ২০১৯ সালে সরকার প্রতিটি গ্রামীণ বাড়িতে বিশুদ্ধ পানির সংযোগ নিশ্চিত করার পাশাপাশি জোহাদ, টাঙ্কা, বাওরি ও কুন্ড নির্মাণ ও পুনরুজ্জীবনের ওপর গুরুত্ব দেয়। আরেকটি সরকারি কর্মসূচির আওতায় ৬৯ হাজার গ্রামীণ পুকুর নির্মাণ করা হয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ট্যাংক, পুকুর ও পানি সংরক্ষণ কাঠামো থেকে ভূগর্ভস্থ পানির পুনর্ভরণ ২০১৭ সালে ১৪ বিলিয়ন ঘনমিটার থেকে বেড়ে ২০২৪ সালে ২৫ বিলিয়ন ঘনমিটারে পৌঁছেছে। ২০২০ সালে ভারত সরকার কৃত্রিমভাবে ভূগর্ভস্থ পানি পুনর্ভরণের একটি মাস্টারপ্ল্যান গ্রহণ করে, যেখানে ১ কোটি ৪০ লাখ বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ও পুনর্ভরণ কাঠামো নির্মাণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ১৮৫ বিলিয়ন ঘনমিটার বর্ষার পানি ধারণ করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু পুরোনো জলকাঠামো সংস্কার করলেই সমস্যার সমাধান হবে না; নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, পলি অপসারণ এবং স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণ জরুরি। রাজস্থানের একটি গ্রামের ৬৭ বছর বয়সী বাসিন্দা বর্ষা জানান, জোহাদ নির্মাণের আগে শুকনো মৌসুমে তার গ্রামের কূপে পানি থাকত না, কিন্তু এখন সারা বছর পানি থাকে। সেন্ট্রাল অ্যারিড জোন রিসার্চ ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানী প্রতাপ মোহরানার মতে, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর কাছে টাঙ্কা ও নাদির গুরুত্বের জ্ঞান কখনো পুরোপুরি হারিয়ে যায়নি; বরং অনেক এলাকায় মানুষ এগুলো নির্মাণ করতেই থেকেছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin

নিউজটি শেয়ার করুন

জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় প্রাচীন জলব্যবস্থায় ফিরছে ভারত

আপডেট সময় : ০৫:১১:২৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬

জলবায়ু পরিবর্তন ও ক্রমবর্ধমান পানিসংকট মোকাবিলায় আধুনিক প্রযুক্তির পাশাপাশি প্রাচীন জলব্যবস্থার দিকে ফিরছে ভারত। দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে পরিত্যক্ত কুয়া, জলাধার, মাটির বাঁধ ও বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের প্রাচীন কাঠামো সংস্কার করে ফের ব্যবহার শুরু হয়েছে। রাজস্থানের আলওয়ার শহরের মুসি রানি সাগর স্টেপওয়েল এর একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। ২০২১ সালে সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়ার পর ২০২৫ সালে তিন দশকেরও বেশি সময় পর প্রথমবারের মতো জলাধারটির পানি পাড়ের ফুটপাথ উপচে পড়ে। ১৮০০-এর দশকের শুরুর দিকে নির্মিত ১ দশমিক ৩ একর আয়তনের এই জলাধারটি একসময় অনিয়মিত ও দূষিত পানির কারণে প্রায় অকার্যকর হয়ে পড়েছিল, কিন্তু বর্তমানে সেখানে প্রায় ৩০ ফুট পর্যন্ত পানি জমছে।

ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে বাওরি, জোহাদ, কুন্ড, টাঙ্কা ও নাদি নামে পরিচিত এসব প্রাচীন জলব্যবস্থা মূলত বৃষ্টির পানি ধীরগতিতে মাটিতে প্রবেশ করিয়ে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর পুনরায় পূরণে ভূমিকা রাখে। এসব ব্যবস্থা শত বছর ধরে গ্রামীণ ভারতের পানি ব্যবস্থাপনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল। বিশ্বের মোট জনসংখ্যার প্রায় ১৮ শতাংশ ভারতে বাস করলেও দেশটির হাতে রয়েছে বিশ্বের মিঠা পানির মাত্র প্রায় ৪ শতাংশ, যার একটি বড় অংশ দূষিত। কৃষি ও দৈনন্দিন চাহিদা মেটাতে ভারত বিশ্বের অন্য যে কোনো দেশের তুলনায় বেশি ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন করে, যা গ্রামীণ সেচ ও পানীয় জলের প্রধান উৎস।

জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে উষ্ণতা বাড়ায় মাটি দ্রুত শুকিয়ে যাচ্ছে। একইসঙ্গে বৃষ্টিপাত তীব্র হওয়ায় বৃষ্টির বড় একটি অংশ মাটিতে শোষিত হওয়ার আগেই দ্রুত প্রবাহিত হয়ে যাচ্ছে। আধুনিক বাঁধ ও খাল কিছু ক্ষেত্রে ভূগর্ভস্থ পানির পুনর্ভরণে সহায়তা করলেও খোলা জলাধারে সূর্যের তাপে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ পানি বাষ্পীভূত হয়। বিপরীতে, প্রাচীন স্টেপওয়েলসহ কিছু কাঠামো পানি মাটির গভীরে পৌঁছাতে সহায়তা করে, যেখানে তা সূর্যের তাপ থেকে তুলনামূলকভাবে সুরক্ষিত থাকে এবং ভূগর্ভস্থ জলাধার পুনরায় পূরণে ভূমিকা রাখে।

আলওয়ারে ঐতিহ্যবাহী জোহাদ ব্যবস্থার পুনরুজ্জীবনও উল্লেখযোগ্য ফল দিয়েছে। জোহাদ হলো অর্ধচন্দ্রাকৃতির মাটির বাঁধ, যা বর্ষার পানি কিছু সময় ধরে রাখে এবং ধীরে ধীরে তা মাটির নিচে প্রবেশের সুযোগ দেয়। ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক আমলে বন উজাড়, খনন কার্যক্রম এবং জলাধার এলাকার ক্ষতির ফলে আলওয়ারের পুরোনো জোহাদ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছিল। পরে গভীর নলকূপের ওপর নির্ভরতা বাড়ায় ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন হলেও তার পুনর্ভরণ যথেষ্ট হয়নি। ১৯৮০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে এ অঞ্চলের নদীগুলো শুকিয়ে যায় এবং কিছু এলাকাকে ‘ডার্ক জোন’ ঘোষণা করা হয়। ১৯৮৫ সালে আয়ুর্বেদিক চিকিৎসক রাজেন্দ্র সিং আলওয়ারে একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র স্থাপনের উদ্দেশ্যে গেলে স্থানীয়রা তাকে পানির সংকটের কথা জানান। এরপর তিনি জোহাদ নির্মাণের উদ্যোগ নেন। ১৯৮৬ সালের বর্ষায় গোপালপুরা গ্রামের পুনর্নির্মিত জোহাদ পানিতে পূর্ণ হওয়ার পর আশপাশের শুকিয়ে যাওয়া কূপগুলোতেও পানি ফিরে আসে। ১৯৯৪ থেকে ২০০৭ সালের মধ্যে আলওয়ারে ১০ হাজারের বেশি জলসংরক্ষণ কাঠামো নির্মাণের ফলে পাঁচটি নদী সারা বছর সচল হয়েছে এবং প্রায় ২৫০টি গ্রাম উপকৃত হয়েছে। এছাড়া রাজস্থানের ৭০০টিরও বেশি গ্রাম পর্যন্ত এই উদ্যোগের বিস্তার ঘটে। পশ্চিম ভারতের মারাঠওয়াড়ায় ২০১০-এর দশকের শেষ দিকে পরিচালিত একটি প্রকল্পের আওতায় ৬ হাজারের বেশি গ্রাম নিজেদের মাটি ও পানি সংরক্ষণ কাঠামো সংস্কার করে ৫৫০ বিলিয়ন লিটারের বেশি পানি সংরক্ষণের সক্ষমতা তৈরি করেছে বলে জানিয়েছে পানি ফাউন্ডেশন।

স্বাধীনতার পর ভারত বড় বাঁধ, খাল ও বৈদ্যুতিক নলকূপের মতো আধুনিক অবকাঠামো নির্মাণে ব্যাপক বিনিয়োগ করলেও ভূগর্ভস্থ পানির পুনর্ভরণের উদ্যোগ ছিল সীমিত। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটির নীতিতে পরিবর্তন এসেছে। ২০১৯ সালে সরকার প্রতিটি গ্রামীণ বাড়িতে বিশুদ্ধ পানির সংযোগ নিশ্চিত করার পাশাপাশি জোহাদ, টাঙ্কা, বাওরি ও কুন্ড নির্মাণ ও পুনরুজ্জীবনের ওপর গুরুত্ব দেয়। আরেকটি সরকারি কর্মসূচির আওতায় ৬৯ হাজার গ্রামীণ পুকুর নির্মাণ করা হয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ট্যাংক, পুকুর ও পানি সংরক্ষণ কাঠামো থেকে ভূগর্ভস্থ পানির পুনর্ভরণ ২০১৭ সালে ১৪ বিলিয়ন ঘনমিটার থেকে বেড়ে ২০২৪ সালে ২৫ বিলিয়ন ঘনমিটারে পৌঁছেছে। ২০২০ সালে ভারত সরকার কৃত্রিমভাবে ভূগর্ভস্থ পানি পুনর্ভরণের একটি মাস্টারপ্ল্যান গ্রহণ করে, যেখানে ১ কোটি ৪০ লাখ বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ও পুনর্ভরণ কাঠামো নির্মাণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ১৮৫ বিলিয়ন ঘনমিটার বর্ষার পানি ধারণ করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু পুরোনো জলকাঠামো সংস্কার করলেই সমস্যার সমাধান হবে না; নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, পলি অপসারণ এবং স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণ জরুরি। রাজস্থানের একটি গ্রামের ৬৭ বছর বয়সী বাসিন্দা বর্ষা জানান, জোহাদ নির্মাণের আগে শুকনো মৌসুমে তার গ্রামের কূপে পানি থাকত না, কিন্তু এখন সারা বছর পানি থাকে। সেন্ট্রাল অ্যারিড জোন রিসার্চ ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানী প্রতাপ মোহরানার মতে, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর কাছে টাঙ্কা ও নাদির গুরুত্বের জ্ঞান কখনো পুরোপুরি হারিয়ে যায়নি; বরং অনেক এলাকায় মানুষ এগুলো নির্মাণ করতেই থেকেছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin