ঢাকা ০৪:২৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গোপন সূচির রোমাঞ্চ নিয়ে বসছে ৫৩তম টেলুরাইড চলচ্চিত্র উৎসব ঠাকুরগাঁওয়ে হাফ ম্যারাথন: রাষ্ট্রপতিকে উৎসর্গ করে দৌড়বিদের মিলনমেলা ইন্টার মায়ামির নতুন প্রধান কোচ হিসেবে নিয়োগ পেলেন কিলি গঞ্জালেস প্রকৌশলী অধিকার দিবস উপলক্ষে বেরোবিতে মোমবাতি প্রজ্বলন ২০৩০ সালে মালয়েশিয়া-ভিয়েতনামকে ছাড়িয়ে ৩২তম অর্থনীতির দেশ হবে বাংলাদেশ বিএনপি সরকার ব্যর্থতার দিকে যাচ্ছে: সারজিস আলম যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের ৬ মাস: লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ ওয়াশিংটন, অনিশ্চিত মধ্যপ্রাচ্য ফুলবাড়ীয়ায় কাস্টমস সিপাহী হত্যা: ১৫ খণ্ড মরদেহ উদ্ধারের রহস্য উদঘাটন ইকবাল সেন্টার ছেড়ে শান্তা পিনাকলে প্রিমিয়ার ব্যাংক, সাশ্রয় বছরে ৫৬ কোটি ভ্যাটিকানের রাস্তায় ‘অস্তিত্বহীন রাষ্ট্রের’ দূতাবাস নিয়ে রহস্য

বলেশ্বর নদে পাওয়া সেই পেট কাটা লাশটি বিডিআর সদস্য নজরুলের, ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১২:১৬:০০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

২০১০ সালে বাগেরহাটের বলেশ্বর নদ থেকে উদ্ধার হওয়া পেট কাটা ও সিমেন্টের বস্তা বাঁধা গলিত লাশটি নিখোঁজ বিডিআর সদস্য নজরুল ইসলামের ছিল বলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিয়েছেন শরণখোলা থানার তৎকালীন ওসি নিজাম উদ্দিন হাওলাদার। রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ হাজির হয়ে তিনি এই জবানবন্দি দেন। আওয়ামী লীগের দেড় দশকের শাসনামলে শতাধিক মানুষকে গুম, নির্যাতন ও হত্যার অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বরখাস্ত মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে নবম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন এই সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা।

বর্তমানে ৬০ বছর বয়সী অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নিজাম উদ্দিন হাওলাদার ঘটনার সময় বাগেরহাটের শরণখোলা থানার ওসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। জবানবন্দিতে তিনি জানান, ২০১০ সালের ১৭ মে সরকারি বিশেষ কাজে তিনি বাগেরহাট জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে গিয়েছিলেন। ওই দিন বেলা ৩টার দিকে থানার একজন চৌকিদার তাকে ফোন করে জানান, বলেশ্বর নদীর পশ্চিম তীরে একটি অজ্ঞাত লাশ পড়ে রয়েছে। গলিত লাশটির মাথা কাপড় দিয়ে ঢাকা, হাত-পা বাঁধা এবং শরীরে সিমেন্টের বস্তা বাঁধা ছিল। এছাড়া লাশটির পেট কাটা ছিল।

খবর পেয়ে ওসি নিজাম উদ্দিন থানার তৎকালীন এসআই ইকবালকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। এসআই ইকবাল ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেন। রাত হয়ে যাওয়ায় লাশটি থানায় নিয়ে আসা হয়। পচন ধরা লাশটি পরদিন সকালে ময়নাতদন্তের জন্য বাগেরহাট সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। ময়নাতদন্ত শেষে পরিচয় না মেলায় আঞ্জুমান মফিদুল ইসলামের মাধ্যমে লাশটি দাফন করা হয়।

ঘটনার দুই দিন পর এক ব্যক্তি ওসিকে ফোন করে দাবি করেন, উদ্ধার হওয়া লাশটি তার ভাইয়ের। তিনি জানান, আনুমানিক দুই-তিন মাস আগে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া থেকে তার ভাইকে অপহরণ করা হয়েছিল এবং এ নিয়ে কোটালীপাড়া থানায় একটি মামলাও রয়েছে। ওসির পরামর্শে চার-পাঁচ দিন পর মৃত ব্যক্তির দুই ভাই, স্ত্রী ও চাচা শরণখোলা থানায় আসেন। তারা নিহতের পরনের শার্ট ও প্যান্ট দেখে লাশটি শনাক্ত করেন।

থানায় আসা স্বজনরা পুলিশকে জানান, মৃত ব্যক্তি একজন সাবেক বিডিআর সদস্য, যার নাম নজরুল ইসলাম। পিলখানা ট্র্যাজেডির পর পলাতক অবস্থায় তিনি গোপালগঞ্জের একটি ক্লিনিকে মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে কাজ করছিলেন। ওসি তাদের জানান, অজ্ঞাত পরিচয় হিসেবে লাশটি ইতোমধ্যে বাগেরহাট কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। তবে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত হয়ে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে তারা লাশটি বুঝে নিতে পারবেন। এর কয়েক দিন পর খুলনা বিডিআরের একজন কর্নেল ফোন করে লাশটির বিষয়ে খোঁজখবর নেন এবং প্রয়োজনীয় সহায়তার অনুরোধ জানিয়ে জানান যে বিডিআরের পক্ষ থেকেও ডিএনএ পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হতে পারে।

উল্লেখ্য, এই মামলায় নজরুল ইসলামের স্ত্রী মুন্নি আক্তারও ট্রাইব্যুনালে জবানবন্দি দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে তারা নিশ্চিত হয়েছেন যে উদ্ধার হওয়া লাশটি বিডিআর সদস্য নজরুল ইসলামেরই ছিল। গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে তারা জানতে পেরেছেন যে, জিয়াউল আহসানই তার স্বামীকে গুম করার পর হত্যা করিয়েছেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh

নিউজটি শেয়ার করুন

বলেশ্বর নদে পাওয়া সেই পেট কাটা লাশটি বিডিআর সদস্য নজরুলের, ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য

আপডেট সময় : ১২:১৬:০০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬

২০১০ সালে বাগেরহাটের বলেশ্বর নদ থেকে উদ্ধার হওয়া পেট কাটা ও সিমেন্টের বস্তা বাঁধা গলিত লাশটি নিখোঁজ বিডিআর সদস্য নজরুল ইসলামের ছিল বলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিয়েছেন শরণখোলা থানার তৎকালীন ওসি নিজাম উদ্দিন হাওলাদার। রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ হাজির হয়ে তিনি এই জবানবন্দি দেন। আওয়ামী লীগের দেড় দশকের শাসনামলে শতাধিক মানুষকে গুম, নির্যাতন ও হত্যার অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বরখাস্ত মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে নবম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন এই সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা।

বর্তমানে ৬০ বছর বয়সী অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নিজাম উদ্দিন হাওলাদার ঘটনার সময় বাগেরহাটের শরণখোলা থানার ওসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। জবানবন্দিতে তিনি জানান, ২০১০ সালের ১৭ মে সরকারি বিশেষ কাজে তিনি বাগেরহাট জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে গিয়েছিলেন। ওই দিন বেলা ৩টার দিকে থানার একজন চৌকিদার তাকে ফোন করে জানান, বলেশ্বর নদীর পশ্চিম তীরে একটি অজ্ঞাত লাশ পড়ে রয়েছে। গলিত লাশটির মাথা কাপড় দিয়ে ঢাকা, হাত-পা বাঁধা এবং শরীরে সিমেন্টের বস্তা বাঁধা ছিল। এছাড়া লাশটির পেট কাটা ছিল।

খবর পেয়ে ওসি নিজাম উদ্দিন থানার তৎকালীন এসআই ইকবালকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। এসআই ইকবাল ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেন। রাত হয়ে যাওয়ায় লাশটি থানায় নিয়ে আসা হয়। পচন ধরা লাশটি পরদিন সকালে ময়নাতদন্তের জন্য বাগেরহাট সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। ময়নাতদন্ত শেষে পরিচয় না মেলায় আঞ্জুমান মফিদুল ইসলামের মাধ্যমে লাশটি দাফন করা হয়।

ঘটনার দুই দিন পর এক ব্যক্তি ওসিকে ফোন করে দাবি করেন, উদ্ধার হওয়া লাশটি তার ভাইয়ের। তিনি জানান, আনুমানিক দুই-তিন মাস আগে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া থেকে তার ভাইকে অপহরণ করা হয়েছিল এবং এ নিয়ে কোটালীপাড়া থানায় একটি মামলাও রয়েছে। ওসির পরামর্শে চার-পাঁচ দিন পর মৃত ব্যক্তির দুই ভাই, স্ত্রী ও চাচা শরণখোলা থানায় আসেন। তারা নিহতের পরনের শার্ট ও প্যান্ট দেখে লাশটি শনাক্ত করেন।

থানায় আসা স্বজনরা পুলিশকে জানান, মৃত ব্যক্তি একজন সাবেক বিডিআর সদস্য, যার নাম নজরুল ইসলাম। পিলখানা ট্র্যাজেডির পর পলাতক অবস্থায় তিনি গোপালগঞ্জের একটি ক্লিনিকে মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে কাজ করছিলেন। ওসি তাদের জানান, অজ্ঞাত পরিচয় হিসেবে লাশটি ইতোমধ্যে বাগেরহাট কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। তবে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত হয়ে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে তারা লাশটি বুঝে নিতে পারবেন। এর কয়েক দিন পর খুলনা বিডিআরের একজন কর্নেল ফোন করে লাশটির বিষয়ে খোঁজখবর নেন এবং প্রয়োজনীয় সহায়তার অনুরোধ জানিয়ে জানান যে বিডিআরের পক্ষ থেকেও ডিএনএ পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হতে পারে।

উল্লেখ্য, এই মামলায় নজরুল ইসলামের স্ত্রী মুন্নি আক্তারও ট্রাইব্যুনালে জবানবন্দি দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে তারা নিশ্চিত হয়েছেন যে উদ্ধার হওয়া লাশটি বিডিআর সদস্য নজরুল ইসলামেরই ছিল। গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে তারা জানতে পেরেছেন যে, জিয়াউল আহসানই তার স্বামীকে গুম করার পর হত্যা করিয়েছেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh