ঢাকা ০৩:৩৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
হরমুজ প্রণালিকে ‘পারমাণবিক বোমা’ হিসেবে ব্যবহার করছে ইরান দক্ষিণ কোরিয়ায় ২৪৩ বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর টাকা ফেরত পেতে আইনি লড়াই শুরু নাটোরে ১৪০ বোতল এসকাফ সিরাপসহ দুই মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার আফ্রিকার দুর্গম এলাকায় চিকিৎসাসেবার জন্য সৌর অ্যাম্বুলেন্স উদ্ভাবন মঠবাড়িয়ায় পানি সংকট নিরসনে সরেজমিনে ইউএনও ও পৌর প্রশাসক লালমোহনে ৫০ ইয়াবাসহ চার মাদক কারবারি আটক চাঁপাইনবাবগঞ্জে নদীতে গোসল করতে নেমে ৫ শিশুর মৃত্যু কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গোলাগুলি, ৫ বছরের শিশু নিহত নেপালে বন্যার মরদেহের দুল চুরির ঘটনায় গ্রেপ্তার ২ কক্সবাজারে মদের বারে মাতালদের সংঘর্ষ, নিহত ২

মাউন্ট ফুজির সাড়ে ৬ হাজার ফুট উঁচুতে ৭ বছরের ছেলেকে ফেলে গেলেন বাবা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:৫০:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

জাপানের সর্বোচ্চ পর্বত মাউন্ট ফুজির সাড়ে ছয় হাজার ফুটেরও বেশি উচ্চতায় নিজের সাত বছরের ছেলেকে একা ফেলে রেখে চূড়ার দিকে চলে যান এক বাবা। কুয়াশাচ্ছন্ন ও গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির আবহাওয়ার মধ্যে একটি বেঞ্চে কেবল একটি কোমল পানীয়র বোতল ও কিছু হালকা খাবার দিয়ে শিশুটিকে রেখে যাওয়া হয়েছিল। এই দায়িত্বজ্ঞানহীন কাণ্ডের তদন্তে নেমেছে স্থানীয় পুলিশ।

জানা গেছে, ৪৮ বছর বয়সী ওই ব্যক্তি তাঁর দুই ছেলেকে নিয়ে মাউন্ট ফুজিতে হাইকিং করতে গিয়েছিলেন। পর্বতে ওঠার সময় ছোট ছেলেটি ক্লান্ত হয়ে পড়লে বাবা তাকে সেখানে অপেক্ষা করার নির্দেশ দেন। এরপর তিনি বড় ছেলেকে নিয়ে পর্বতারোহণ অব্যাহত রাখেন। পরবর্তীতে একটি আশ্রয়কেন্দ্রের কর্মীরা হাইকিং পথের ষষ্ঠ স্টেশনের কাছ থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করে পুলিশকে খবর দেন。

পুলিশ যখন শিশুটির বাবাকে খুঁজে পায়, তখন তিনি সপ্তম ও অষ্টম স্টেশনের মাঝামাঝি অবস্থানে ছিলেন। উদ্ধার হওয়া স্থান থেকে তাঁর অবস্থান ছিল প্রায় তিন ঘণ্টার হাঁটা পথ। গত বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে সাতটায় শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়। টানা আট ঘণ্টা একা অপেক্ষা করতে করতে ক্লান্ত ও বিরক্ত হয়ে পড়েছিল শিশুটি। পরে ওপরের স্টেশন থেকে ফিরে এসে বাবার সঙ্গে শিশুটির মিলন ঘটে। এমন আচরণের জন্য পুলিশ কর্মকর্তারা ওই ব্যক্তিকে তীব্র তিরস্কার করেছেন। একজন কর্মকর্তা তাঁকে বলেন, এভাবে কোনো শিশুকে একা ফেলে যাওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। প্রয়োজনে পুরো পর্বতারোহণের পরিকল্পনা বাতিল করা উচিত ছিল। নিজের এই সিদ্ধান্তের জন্য ওই বাবা ক্ষমা চেয়েছেন।

এই পরিবারটি ফুজিনোমিয়া রুট ব্যবহার করে পর্বতে উঠেছিল, যা পর্বতের পঞ্চম স্টেশন থেকে শুরু হয়। এই স্টেশন পর্যন্ত গণপরিবহনে যাওয়া যায়। গাইডদের মতে, সেখান থেকে চূড়ায় পৌঁছাতে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা এবং নিচে নামতে আরও তিন ঘণ্টা সময় লাগে।

১২ হাজার ৩৮৯ ফুট (৩ হাজার ৭৭৬ মিটার) উচ্চতার মাউন্ট ফুজিতে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেশ কিছু দুর্ঘটনা ঘটেছে। গত জুলাই মাসে ৯৯ বছর বয়সী এক নারী এখানে ওঠার সময় পড়ে গিয়ে আহত হন এবং তাঁকে উদ্ধার করতে হয়। এছাড়া গত বছর নির্ধারিত মৌসুমের বাইরে পর্বতটিতে আরোহণ করা ২৭ বছর বয়সী এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীকে চার দিনের মধ্যে দুবার উদ্ধার করতে হয়েছিল, যিনি দ্বিতীয়বার হারিয়ে যাওয়া মোবাইল খুঁজতে পাহাড়ে উঠেছিলেন।

রাজধানী টোকিওর দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত এই সক্রিয় আগ্নেয়গিরিটিকে ২০১৩ সালে বিশ্ব ঐতিহ্যের মর্যাদা দেওয়া হয়। মাউন্ট তাতে ও মাউন্ট হাকুর পাশাপাশি এটি জাপানের ঐতিহ্যবাহী তিনটি 'পবিত্র পর্বতের' অন্যতম। প্রতি বছর প্রায় দুই লাখ মানুষ এই পর্বতে আরোহণ করেন। অতিরিক্ত ভিড় এড়াতে এখন কয়েকটি রুটে প্রতিদিন কতজন উঠতে পারবেন, তার সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া মানুষের বর্জ্যের কারণে মাউন্ট ফুজির পরিবেশও নোংরা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

নিউজটি শেয়ার করুন

মাউন্ট ফুজির সাড়ে ৬ হাজার ফুট উঁচুতে ৭ বছরের ছেলেকে ফেলে গেলেন বাবা

আপডেট সময় : ০৪:৫০:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬

জাপানের সর্বোচ্চ পর্বত মাউন্ট ফুজির সাড়ে ছয় হাজার ফুটেরও বেশি উচ্চতায় নিজের সাত বছরের ছেলেকে একা ফেলে রেখে চূড়ার দিকে চলে যান এক বাবা। কুয়াশাচ্ছন্ন ও গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির আবহাওয়ার মধ্যে একটি বেঞ্চে কেবল একটি কোমল পানীয়র বোতল ও কিছু হালকা খাবার দিয়ে শিশুটিকে রেখে যাওয়া হয়েছিল। এই দায়িত্বজ্ঞানহীন কাণ্ডের তদন্তে নেমেছে স্থানীয় পুলিশ।

জানা গেছে, ৪৮ বছর বয়সী ওই ব্যক্তি তাঁর দুই ছেলেকে নিয়ে মাউন্ট ফুজিতে হাইকিং করতে গিয়েছিলেন। পর্বতে ওঠার সময় ছোট ছেলেটি ক্লান্ত হয়ে পড়লে বাবা তাকে সেখানে অপেক্ষা করার নির্দেশ দেন। এরপর তিনি বড় ছেলেকে নিয়ে পর্বতারোহণ অব্যাহত রাখেন। পরবর্তীতে একটি আশ্রয়কেন্দ্রের কর্মীরা হাইকিং পথের ষষ্ঠ স্টেশনের কাছ থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করে পুলিশকে খবর দেন。

পুলিশ যখন শিশুটির বাবাকে খুঁজে পায়, তখন তিনি সপ্তম ও অষ্টম স্টেশনের মাঝামাঝি অবস্থানে ছিলেন। উদ্ধার হওয়া স্থান থেকে তাঁর অবস্থান ছিল প্রায় তিন ঘণ্টার হাঁটা পথ। গত বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে সাতটায় শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়। টানা আট ঘণ্টা একা অপেক্ষা করতে করতে ক্লান্ত ও বিরক্ত হয়ে পড়েছিল শিশুটি। পরে ওপরের স্টেশন থেকে ফিরে এসে বাবার সঙ্গে শিশুটির মিলন ঘটে। এমন আচরণের জন্য পুলিশ কর্মকর্তারা ওই ব্যক্তিকে তীব্র তিরস্কার করেছেন। একজন কর্মকর্তা তাঁকে বলেন, এভাবে কোনো শিশুকে একা ফেলে যাওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। প্রয়োজনে পুরো পর্বতারোহণের পরিকল্পনা বাতিল করা উচিত ছিল। নিজের এই সিদ্ধান্তের জন্য ওই বাবা ক্ষমা চেয়েছেন।

এই পরিবারটি ফুজিনোমিয়া রুট ব্যবহার করে পর্বতে উঠেছিল, যা পর্বতের পঞ্চম স্টেশন থেকে শুরু হয়। এই স্টেশন পর্যন্ত গণপরিবহনে যাওয়া যায়। গাইডদের মতে, সেখান থেকে চূড়ায় পৌঁছাতে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা এবং নিচে নামতে আরও তিন ঘণ্টা সময় লাগে।

১২ হাজার ৩৮৯ ফুট (৩ হাজার ৭৭৬ মিটার) উচ্চতার মাউন্ট ফুজিতে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেশ কিছু দুর্ঘটনা ঘটেছে। গত জুলাই মাসে ৯৯ বছর বয়সী এক নারী এখানে ওঠার সময় পড়ে গিয়ে আহত হন এবং তাঁকে উদ্ধার করতে হয়। এছাড়া গত বছর নির্ধারিত মৌসুমের বাইরে পর্বতটিতে আরোহণ করা ২৭ বছর বয়সী এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীকে চার দিনের মধ্যে দুবার উদ্ধার করতে হয়েছিল, যিনি দ্বিতীয়বার হারিয়ে যাওয়া মোবাইল খুঁজতে পাহাড়ে উঠেছিলেন।

রাজধানী টোকিওর দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত এই সক্রিয় আগ্নেয়গিরিটিকে ২০১৩ সালে বিশ্ব ঐতিহ্যের মর্যাদা দেওয়া হয়। মাউন্ট তাতে ও মাউন্ট হাকুর পাশাপাশি এটি জাপানের ঐতিহ্যবাহী তিনটি 'পবিত্র পর্বতের' অন্যতম। প্রতি বছর প্রায় দুই লাখ মানুষ এই পর্বতে আরোহণ করেন। অতিরিক্ত ভিড় এড়াতে এখন কয়েকটি রুটে প্রতিদিন কতজন উঠতে পারবেন, তার সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া মানুষের বর্জ্যের কারণে মাউন্ট ফুজির পরিবেশও নোংরা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo