বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের অভিবাসী ভিসা স্থগিতের নীতি বাতিল করলেন মার্কিন বিচারক
- আপডেট সময় : ১১:২৯:৩৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা প্রদান স্থগিত রাখার বিষয়ে ডনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের নেয়া সিদ্ধান্তটি বাতিল করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের একজন বিচারক। ম্যানহাটনের মার্কিন জেলা আদালতের বিচারক জেনেট ভার্গাস শুক্রবার তার রায়ে বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের এই নীতি পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর আইনগত ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, জানুয়ারিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃক ঘোষিত এই নীতি ‘স্পষ্টতই বেআইনি’ এবং এটি ফেডারেল অভিবাসন আইনের সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক। বিচারকের মতে, অভিবাসী ভিসা প্রক্রিয়াকরণের ক্ষেত্রে কনস্যুলার কর্মকর্তাদের ওপর পররাষ্ট্রমন্ত্রীর যে ক্ষমতা রয়েছে, তা বিদ্যমান আইনে স্পষ্টভাবে সীমিত করা হয়েছে।
বিচারক তার রায়ে লিখেছেন, আবেদনকারীর জাতীয়তার ওপর ভিত্তি করে অভিবাসী ভিসা দেয়া পুরোপুরি নিষিদ্ধ করার এই নীতি আইনে নির্ধারিত ব্যবস্থাকে অকার্যকর করে দেয়। জানুয়ারিতে কার্যকর হওয়া এই স্থগিতাদেশের আওতায় বাংলাদেশ ও পাকিস্তানসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো, লাতিন আমেরিকার ব্রাজিল, কলম্বিয়া ও উরুগুয়ে, বলকান অঞ্চলের বসনিয়া ও আলবেনিয়া এবং আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের আরও অনেক দেশের নাগরিকরা পড়েছিলেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তখন যুক্তি দিয়েছিল যে, এসব দেশের আবেদনকারীরা যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছেন। তবে এই রায়ের বিষয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।
উল্লেখ্য যে, ডেমোক্রেট দলের সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের নিয়োগ দেয়া বিচারক ভার্গাস অভিবাসী অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন ‘ক্যাথলিক লিগ্যাল ইমিগ্রেশন নেটওয়ার্ক’ ও ‘আফ্রিকান কমিউনিটিজ টুগেদার’ এবং ভুক্তভোগী আবেদনকারী ও মার্কিন নাগরিকদের করা মামলার পরিপ্রেক্ষিতে এই রায় প্রদান করেন। ওই মার্কিন নাগরিকরা সংশ্লিষ্ট দেশগুলো থেকে পরিবারের সদস্যদের যুক্তরাষ্ট্রে আনার জন্য ভিসার পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প তার এই পদক্ষেপকে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা জোরদারের অংশ হিসেবে দাবি করেছিলেন। অন্যদিকে, অধিকারকর্মীরা বলছেন, এই অভিযান যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া লঙ্ঘন করেছে এবং জাতিগত সংখ্যালঘুদের জন্য অনিরাপদ পরিস্থিতি তৈরি করেছে। তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ‘রেশিয়াল প্রোফাইলিং’ বা জাতিগত পরিচয়ের ভিত্তিতে নজরদারি নিয়েও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।


























