ঢাকা ১২:৩৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শৈলকুপা শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পুরস্কারের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ নেপালে হিমবাহ ধসে মৃতের সংখ্যা ৪৭২, নতুন বন্যার ঝুঁকিতে এলাকা কারওয়ান বাজারে শুরু হলো প্রথম আলো বন্ধুসভার ‘লেখক বন্ধু উৎসব’ সিলেটে হাম ও উপসর্গে আরও তিন শিশুর মৃত্যু নেপাল সীমান্তে হিমালয় কন্যার বুকে প্রলয়ংকরী জলবোমার আঘাত সিরাজগঞ্জের হাড়ের গুঁড়ো এখন ওষুধ শিল্পের বড় চাহিদা মেটাচ্ছে অর্থনৈতিক চাপে ‘ভূমিকম্পের মতো’ পাল্টা আঘাতের হুমকি ইরানের ঢাকার আইনশৃঙ্খলা ও উন্নয়ন তদারকির দায়িত্বে প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু জামায়াত ১৬ বছর আ.লীগের ভেতরে লুকিয়ে ছিল: রাশেদ খাঁন নেতানিয়াহুকে ‘জাহান্নামে’ পাঠানোর হুঁশিয়ারি ইরানি জেনারেলের

ওয়াশরুমের কথা বলে পালালেন কর্মচারী, গায়েব ১০০ ভরি সোনা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:০২:২২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

চট্টগ্রাম বিভাগের খবর (Chattogram Division News) থেকে জানা যায়, নিজের জিম্মায় থাকা প্রায় ১০০ ভরি সোনার অলংকার সরিয়ে সেখানে ইমিটেশনের গয়না রেখে চম্পট দিয়েছেন এক জুয়েলারি দোকানের কর্মচারী। অভিযুক্ত ওই কর্মচারীর নাম রোমেন দে (৩৬)। তিনি যে দোকানে কর্মরত ছিলেন, সেখানকার সোনার চুড়িগুলো তাঁর রক্ষণাবেক্ষণ ও তত্ত্বাবধানে ছিল। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে তিনি একে একে আসল সোনার চুড়িগুলো সরিয়ে ফেলেন। মালিক পক্ষ যাতে সহজে টের না পায়, সে জন্য আসল চুড়ির জায়গায় হুবহু ইমিটেশনের চুড়ি বসিয়ে রাখেন তিনি। ২০২৬ সালের ২১ আগস্ট (2026-08-21) তারিখে এই ঘটনার একটি চিত্র হোয়াটসঅ্যাপে (WhatsApp-Image-2026-08-21-at-6.52.26-PM.jpeg, fcwt1pqz) প্রকাশ পায়।

দোকান থেকে এভাবে সুকৌশলে সরিয়ে নেওয়া স্বর্ণালংকারগুলো রোমেন দে বিভিন্ন জুয়েলার্স ও ব্যবসায়ীর কাছে বন্ধক রেখেছিলেন। এভাবে বন্ধক রেখে তিনি বিপুল পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নেন বলে জানা গেছে। সম্প্রতি দোকানের সোনার হিসাব মেলাতে গিয়ে এই জালিয়াতি ধরা পড়ে যায়। মালিক বিষয়টি বুঝতে পেরেছেন এবং তিনি দোকানে আসছেন—এমন খবর জানতে পেরে রোমেন দে কৌশলের আশ্রয় নেন। ওয়াশরুমে যাওয়ার কথা বলে দোকান থেকে বের হয়ে তিনি দ্রুত পালিয়ে যান।

সোনা একটি ধাতব হলুদ বর্ণের মৌলিক ধাতু, যার সঙ্গে মানুষ প্রাচীনকাল থেকেই পরিচিত। অপরিবর্তনীয় বৈশিষ্ট্য, চকচকে বর্ণ, বিনিময়ের সহজ মাধ্যম ও কাঠামোর স্থায়িত্বের কারণে এটি অতি মূল্যবান ধাতু হিসেবে চিহ্নিত। বিশেষ করে সোনার তৈরি গয়না বাংলাদেশের নারীদের প্রথম পছন্দ। ধারণা করা হয়, সোনা মানুষের আবিষ্কৃত প্রাচীনতম মৌল, যা নব প্রস্তর যুগেও পাথরের জিনিসের সঙ্গে ব্যবহূত হতো। বিখ্যাত জার্মান সমাজতত্ত্ববিদ কার্ল মার্ক্সও সোনাকে মানুষের আবিষ্কৃত প্রথম ধাতু হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। অপরিবর্তনীয় রূপ, সহজ বণ্টনযোগ্যতা এবং চকচকে প্রকৃতির জন্য এটি অনেক আগে থেকেই অর্থের প্রধান মানদণ্ড হিসেবে ব্যবহূত হতো।

সোনার ইতিহাস যেমন সমৃদ্ধ, তেমনি এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে অনেক বেদনাবিধুর ও ভয়ংকর কাহিনি। সোনা পাওয়ার লক্ষ্যে জাতিতে জাতিতে যুদ্ধ হয়েছে, প্রাণ হারিয়েছে অগণিত মানুষ। প্রাচীনকালে সব জাতিতেই এর ব্যবহার ছিল। মিসরীয় সম্রাটদের পিরামিডগুলো খনন করে প্রচুর সোনার অলংকার ও জিনিস উদ্ধার করা হয়, যা মিসরীয় ঐতিহ্যের সঙ্গে সোনার সুগভীর সম্পর্কের প্রমাণ দেয়। এ ছাড়া চীন ও ভারতে খ্রিষ্টপূর্ব দশম শতাব্দীতে সোনা ব্যবহূত হতো। খ্রিষ্টপূর্ব অষ্টম-সপ্তম শতাব্দীতে গ্রিসে এবং খ্রিষ্টপূর্ব প্রথম শতাব্দীতে আর্মেনিয়ায় সোনার তৈরি মুদ্রার প্রচলন ছিল। ভারত এবং উত্তর-পূর্ব আফ্রিকার নুরিয়া অঞ্চলে প্রাচীনতম সোনার খনির সন্ধান পাওয়া গেছে। দক্ষিণ ও মধ্য আমেরিকা বিজয়ের জন্য স্পেনীয়রা অভিযান পরিচালনা করার পর প্রাচীন ইনকা সভ্যতায় সোনার প্রাচুর্য দেখে কিমিয়াবিদরা অভিভূত হয়েছিলেন। ইনকাদের কাছে সোনা ছিল সূর্য দেবতার ধাতু এবং তাদের মন্দিরগুলোতে বিপুল পরিমাণ সোনা রক্ষিত থাকত। পরবর্তীতে ১৬০০ সালে রাশিয়ার খনি থেকে সোনা উত্তোলন শুরু হলেও তার পরিমাণ খুব বেশি ছিল না। তবে ১৯০০ খ্রিষ্টাব্দের পর থেকে সেখানে সোনা উত্তোলনের পরিমাণ অনেকগুণ বেড়েছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

নিউজটি শেয়ার করুন

ওয়াশরুমের কথা বলে পালালেন কর্মচারী, গায়েব ১০০ ভরি সোনা

আপডেট সময় : ০৮:০২:২২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬

চট্টগ্রাম বিভাগের খবর (Chattogram Division News) থেকে জানা যায়, নিজের জিম্মায় থাকা প্রায় ১০০ ভরি সোনার অলংকার সরিয়ে সেখানে ইমিটেশনের গয়না রেখে চম্পট দিয়েছেন এক জুয়েলারি দোকানের কর্মচারী। অভিযুক্ত ওই কর্মচারীর নাম রোমেন দে (৩৬)। তিনি যে দোকানে কর্মরত ছিলেন, সেখানকার সোনার চুড়িগুলো তাঁর রক্ষণাবেক্ষণ ও তত্ত্বাবধানে ছিল। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে তিনি একে একে আসল সোনার চুড়িগুলো সরিয়ে ফেলেন। মালিক পক্ষ যাতে সহজে টের না পায়, সে জন্য আসল চুড়ির জায়গায় হুবহু ইমিটেশনের চুড়ি বসিয়ে রাখেন তিনি। ২০২৬ সালের ২১ আগস্ট (2026-08-21) তারিখে এই ঘটনার একটি চিত্র হোয়াটসঅ্যাপে (WhatsApp-Image-2026-08-21-at-6.52.26-PM.jpeg, fcwt1pqz) প্রকাশ পায়।

দোকান থেকে এভাবে সুকৌশলে সরিয়ে নেওয়া স্বর্ণালংকারগুলো রোমেন দে বিভিন্ন জুয়েলার্স ও ব্যবসায়ীর কাছে বন্ধক রেখেছিলেন। এভাবে বন্ধক রেখে তিনি বিপুল পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নেন বলে জানা গেছে। সম্প্রতি দোকানের সোনার হিসাব মেলাতে গিয়ে এই জালিয়াতি ধরা পড়ে যায়। মালিক বিষয়টি বুঝতে পেরেছেন এবং তিনি দোকানে আসছেন—এমন খবর জানতে পেরে রোমেন দে কৌশলের আশ্রয় নেন। ওয়াশরুমে যাওয়ার কথা বলে দোকান থেকে বের হয়ে তিনি দ্রুত পালিয়ে যান।

সোনা একটি ধাতব হলুদ বর্ণের মৌলিক ধাতু, যার সঙ্গে মানুষ প্রাচীনকাল থেকেই পরিচিত। অপরিবর্তনীয় বৈশিষ্ট্য, চকচকে বর্ণ, বিনিময়ের সহজ মাধ্যম ও কাঠামোর স্থায়িত্বের কারণে এটি অতি মূল্যবান ধাতু হিসেবে চিহ্নিত। বিশেষ করে সোনার তৈরি গয়না বাংলাদেশের নারীদের প্রথম পছন্দ। ধারণা করা হয়, সোনা মানুষের আবিষ্কৃত প্রাচীনতম মৌল, যা নব প্রস্তর যুগেও পাথরের জিনিসের সঙ্গে ব্যবহূত হতো। বিখ্যাত জার্মান সমাজতত্ত্ববিদ কার্ল মার্ক্সও সোনাকে মানুষের আবিষ্কৃত প্রথম ধাতু হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। অপরিবর্তনীয় রূপ, সহজ বণ্টনযোগ্যতা এবং চকচকে প্রকৃতির জন্য এটি অনেক আগে থেকেই অর্থের প্রধান মানদণ্ড হিসেবে ব্যবহূত হতো।

সোনার ইতিহাস যেমন সমৃদ্ধ, তেমনি এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে অনেক বেদনাবিধুর ও ভয়ংকর কাহিনি। সোনা পাওয়ার লক্ষ্যে জাতিতে জাতিতে যুদ্ধ হয়েছে, প্রাণ হারিয়েছে অগণিত মানুষ। প্রাচীনকালে সব জাতিতেই এর ব্যবহার ছিল। মিসরীয় সম্রাটদের পিরামিডগুলো খনন করে প্রচুর সোনার অলংকার ও জিনিস উদ্ধার করা হয়, যা মিসরীয় ঐতিহ্যের সঙ্গে সোনার সুগভীর সম্পর্কের প্রমাণ দেয়। এ ছাড়া চীন ও ভারতে খ্রিষ্টপূর্ব দশম শতাব্দীতে সোনা ব্যবহূত হতো। খ্রিষ্টপূর্ব অষ্টম-সপ্তম শতাব্দীতে গ্রিসে এবং খ্রিষ্টপূর্ব প্রথম শতাব্দীতে আর্মেনিয়ায় সোনার তৈরি মুদ্রার প্রচলন ছিল। ভারত এবং উত্তর-পূর্ব আফ্রিকার নুরিয়া অঞ্চলে প্রাচীনতম সোনার খনির সন্ধান পাওয়া গেছে। দক্ষিণ ও মধ্য আমেরিকা বিজয়ের জন্য স্পেনীয়রা অভিযান পরিচালনা করার পর প্রাচীন ইনকা সভ্যতায় সোনার প্রাচুর্য দেখে কিমিয়াবিদরা অভিভূত হয়েছিলেন। ইনকাদের কাছে সোনা ছিল সূর্য দেবতার ধাতু এবং তাদের মন্দিরগুলোতে বিপুল পরিমাণ সোনা রক্ষিত থাকত। পরবর্তীতে ১৬০০ সালে রাশিয়ার খনি থেকে সোনা উত্তোলন শুরু হলেও তার পরিমাণ খুব বেশি ছিল না। তবে ১৯০০ খ্রিষ্টাব্দের পর থেকে সেখানে সোনা উত্তোলনের পরিমাণ অনেকগুণ বেড়েছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo