ঢাকা ০৫:২০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কানাডার সামরিক ঘাঁটিতে বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ড, নিহত অন্তত ৭ বিচ্ছেদের পর প্রকৃতির সান্নিধ্যে শেহতাজ, ভাইরাল নতুন ছবি বগুড়ায় সৌরবিদ্যুৎ চালিত সেচ পাম্পে সাশ্রয়ের মুখ দেখছেন কৃষকরা কক্সবাজারে ৬ শতাধিক হোটেল-মোটেলের মধ্যে অনুমোদন আছে মাত্র ৫০টির আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ১৬ হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করলেন বাবর আজম ইশরাকের পদত্যাগের খবর ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত: প্রেস কর্মকর্তা আবাসন ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধিতে ইউরোপজুড়ে তীব্র ক্ষোভ, ছড়াচ্ছে বিক্ষোভ দুর্গাপূজা নিয়ে জামায়াত-শিবির-এনসিপি চক্রান্ত করছে: ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক ট্রাম্পের আহ্বানের মধ্যেও রাশিয়ায় ইউক্রেনের বড় ড্রোন হামলা, নিহত ১ লালমোহনে মা ইলিশ রক্ষা অভিযানে জাল জব্দ, বিতরণে এতিমখানা

একুশ আগস্ট গ্রেনেড হামলা: ২২ বছর পর বিচারের নতুন সমীকরণ

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ১২:১৩:৪৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬ ১৬ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সমাবেশে চালানো ভয়াবহ গ্রেনেড হামলার আজ ২২ বছর পূর্ণ হলো। ২০০৪ সালের ২১ আগস্টের ওই নারকীয় হামলায় ২৪ জন নিহত হয়েছিলেন এবং তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা শেখ হাসিনাসহ তিন শতাধিক নেতাকর্মী আহত হন। এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছিল যে, শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যেই এই হামলা চালানো হয়েছিল। এ ঘটনায় মতিঝিল থানায় পুলিশ হত্যা ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে দুটি মামলা দায়ের করে।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ২০০৭ সালে মামলাগুলোর নতুন করে তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়। ২০০৮ সালে দেওয়া প্রথম অভিযোগপত্রে বিএনপি নেতা আবদুস সালাম পিন্টু, তার ভাই মাওলানা তাজউদ্দিন এবং হরকাতুল জিহাদের নেতা মুফতি হান্নানসহ ২২ জনকে আসামি করা হয়। পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়। ২০১১ সালে তারেক রহমানসহ ৩০ জনকে আসামি করে সম্পূরক অভিযোগপত্র দাখিল করা হলে মামলার মোট আসামির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৫২ জনে। তবে কয়েকটি মামলায় অভিযুক্তদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ায় তাদের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়ে।

২০১৮ সালের ১০ অক্টোবর ঢাকার বিচারিক আদালত সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরসহ ১৯ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেন। একই রায়ে তারেক রহমানসহ ১৯ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং অন্য ১১ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা প্রদান করা হয়। তবে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ২০২৪ সালের ১ ডিসেম্বর হাইকোর্ট আসামিদের আপিল মঞ্জুর করে সবাইকে খালাস দেন এবং মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আবেদন খারিজ করে দেন। হাইকোর্ট পর্যবেক্ষণ দিয়ে জানান যে, বিচারিক আদালতের রায়টি দুর্বল ও শোনা সাক্ষ্যের ওপর ভিত্তি করে দেওয়া হয়েছিল। এছাড়া পুনঃতদন্তের আদেশ ও সম্পূরক অভিযোগপত্রের আইনগত বৈধতা নিয়েও আদালত প্রশ্ন তোলেন।

হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায়ে হত্যাকাণ্ডের সঠিক ও স্বাধীন তদন্তের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। তবে ২০২৫ সালের ৪ সেপ্টেম্বর আপিল বিভাগ চূড়ান্ত বিচারে রায়ের ওই অংশটি বাদ দেয়। এই প্রেক্ষাপটে গ্রেনেড হামলার ২২ বছর পরও প্রকৃত দায়ীদের শনাক্ত ও বিচারের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। আইনজীবীদের মতে, রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত ও নিরপেক্ষ তদন্ত ছাড়া নিহত ও আহতদের পরিবার প্রকৃত বিচার থেকে বঞ্চিতই থেকে যাবে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Ei Din

নিউজটি শেয়ার করুন

একুশ আগস্ট গ্রেনেড হামলা: ২২ বছর পর বিচারের নতুন সমীকরণ

আপডেট সময় : ১২:১৩:৪৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬

রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সমাবেশে চালানো ভয়াবহ গ্রেনেড হামলার আজ ২২ বছর পূর্ণ হলো। ২০০৪ সালের ২১ আগস্টের ওই নারকীয় হামলায় ২৪ জন নিহত হয়েছিলেন এবং তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা শেখ হাসিনাসহ তিন শতাধিক নেতাকর্মী আহত হন। এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছিল যে, শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যেই এই হামলা চালানো হয়েছিল। এ ঘটনায় মতিঝিল থানায় পুলিশ হত্যা ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে দুটি মামলা দায়ের করে।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ২০০৭ সালে মামলাগুলোর নতুন করে তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়। ২০০৮ সালে দেওয়া প্রথম অভিযোগপত্রে বিএনপি নেতা আবদুস সালাম পিন্টু, তার ভাই মাওলানা তাজউদ্দিন এবং হরকাতুল জিহাদের নেতা মুফতি হান্নানসহ ২২ জনকে আসামি করা হয়। পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়। ২০১১ সালে তারেক রহমানসহ ৩০ জনকে আসামি করে সম্পূরক অভিযোগপত্র দাখিল করা হলে মামলার মোট আসামির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৫২ জনে। তবে কয়েকটি মামলায় অভিযুক্তদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ায় তাদের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়ে।

২০১৮ সালের ১০ অক্টোবর ঢাকার বিচারিক আদালত সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরসহ ১৯ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেন। একই রায়ে তারেক রহমানসহ ১৯ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং অন্য ১১ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা প্রদান করা হয়। তবে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ২০২৪ সালের ১ ডিসেম্বর হাইকোর্ট আসামিদের আপিল মঞ্জুর করে সবাইকে খালাস দেন এবং মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আবেদন খারিজ করে দেন। হাইকোর্ট পর্যবেক্ষণ দিয়ে জানান যে, বিচারিক আদালতের রায়টি দুর্বল ও শোনা সাক্ষ্যের ওপর ভিত্তি করে দেওয়া হয়েছিল। এছাড়া পুনঃতদন্তের আদেশ ও সম্পূরক অভিযোগপত্রের আইনগত বৈধতা নিয়েও আদালত প্রশ্ন তোলেন।

হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায়ে হত্যাকাণ্ডের সঠিক ও স্বাধীন তদন্তের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। তবে ২০২৫ সালের ৪ সেপ্টেম্বর আপিল বিভাগ চূড়ান্ত বিচারে রায়ের ওই অংশটি বাদ দেয়। এই প্রেক্ষাপটে গ্রেনেড হামলার ২২ বছর পরও প্রকৃত দায়ীদের শনাক্ত ও বিচারের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। আইনজীবীদের মতে, রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত ও নিরপেক্ষ তদন্ত ছাড়া নিহত ও আহতদের পরিবার প্রকৃত বিচার থেকে বঞ্চিতই থেকে যাবে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Ei Din