৫২ লাখ মানুষকে কলেরার টিকা দিচ্ছে সরকার, শুরু হচ্ছে ক্যাম্পেইন
- আপডেট সময় : ০৬:৫৬:২৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬ ২২ বার পড়া হয়েছে

দেশের ঝুঁকিপূর্ণ ১৪টি উপজেলা ও থানায় প্রায় ৫২ লাখ মানুষকে বিনামূল্যে কলেরার টিকা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। 'প্রিভেন্টিভ ওরাল কলেরা ভ্যাকসিনেশন ক্যাম্পেইন-২০২৬'-এর আওতায় মোট ৫১ লাখ ৭৫ হাজার মানুষকে এই টিকার আওতায় আনা হবে। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সকালে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) নগর ভবন অডিটরিয়ামে এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী, আগামী ২২ আগস্ট থেকে ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রথম ডোজ এবং ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত দ্বিতীয় ডোজের টিকা খাওয়ানো হবে। গর্ভবতী নারী ছাড়া এক বছর বা তার বেশি বয়সী সব নাগরিক প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত বিনামূল্যে এই ওরাল টিকা গ্রহণ করতে পারবেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, অতীতে কলেরার কারণে পুরো গ্রাম উজাড় হয়ে যেত। বর্তমানে এটি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও সাম্প্রতিক প্রাদুর্ভাবের কারণে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। এ সময় ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে মন্ত্রী দাবি করেন, মশক প্রজননের ক্ষেত্রগুলো অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে এবং ঢাকা শহরের মানুষই বলছে এবার মশার উপদ্রব কম। এই সফলতার জন্য ডিএসসিসি প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, মশক নিধনের কাজ প্রতিনিয়ত চালিয়ে যেতে হবে, কারণ সামনে আরও তিন মাস বাকি রয়েছে। পিরোজপুরের উদাহরণ দিয়ে তিনি জানান, সেখানে জমে থাকা পানিতে মশার লার্ভা পাওয়ায় ডেঙ্গুর প্রকোপ বেশি, যা দূর করতে স্থানীয় পর্যায়ে কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।
টিকাদান কর্মসূচির আওতায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের লালবাগ, গেন্ডারিয়া, কদমতলী ও কামরাঙ্গীরচর থানার ১৭টি ওয়ার্ডের ১৯২টি কেন্দ্রের মাধ্যমে প্রায় ১১ লাখ ৭০ হাজার মানুষকে টিকা দেওয়া হবে। এছাড়া ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের শেরেবাংলা নগর, খিলক্ষেত ও তেজগাঁও থানা এবং মুন্সিগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নির্দিষ্ট এলাকাগুলোতেও এই ক্যাম্পেইন পরিচালিত হবে।
অনুষ্ঠানে ডিএসসিসির প্রশাসক মো. আবদুস সালাম জানান, জরিপ ও যথাযথ পদক্ষেপের কারণে এবার ঢাকা দক্ষিণে ডেঙ্গুর প্রকোপ কম। তিনি নগরবাসীকে যত্রতত্র ময়লা না ফেলে ডাস্টবিনে ফেলার এবং পরিচ্ছন্ন থাকার আহ্বান জানান। কলেরার টিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পুরান ঢাকাসহ ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় ইপিআই কার্যক্রমের সফল অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে ১৭টি ওয়ার্ডে এই ক্যাম্পেইন সফল করা হবে। টিকাদানের পাশাপাশি নিরাপদ পানি সরবরাহ, উন্নত স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে কলেরায় দীর্ঘমেয়াদি সাফল্য আসবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব শেখ মোমেনা মনি, ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. খয়বর রহমান, ইউনিসেফের ডেপুটি রিপ্রেজেনটেটিভ পিটার জর্জ এল মাইস, ডব্লিউএইচওর প্রতিনিধি ডা. আহমেদ জামশীদ মোহামেদ, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির মহাসচিব মো. হাবিবুর রহমান খান, আইসিডিডিআর,বির জ্যেষ্ঠ বিজ্ঞানী ড. ফিরদৌসী কাদরী এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মো. জাহিদ রায়হান।



























