ঢাকা ১২:২৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬, ৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সিসিটিভি ফুটেজ চেয়ে হল প্রাধ্যক্ষের কার্যালয়ে শিক্ষকদের পথ আগলে ধরলেন ছাত্রনেতারা রাজধানীতে ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে পাঁচ শতাধিক আলেমের বিশেষ আলোচনা সভা নাটোরের লালপুর ও বাগাতিপাড়ায় ইউএনও কার্যালয়ে হামলা: ২০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা ভারতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সর্বোচ্চ সম্মান জানানো হবে: দীনেশ ত্রিবেদী জনরায় উপেক্ষা করে সরকার টিকে থাকতে পারে না: খেলাফত মজলিস ইরানের সঙ্গে কোনো আলোচনা চলছে না, সাফ জানালেন ট্রাম্প জাতীয় সংসদের স্পিকারের আসনের পেছনে বসানো হলো কালেমা তায়্যিবা সাবেক মেয়র লিটনসহ ৩৪ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত ক্যানিজিয়ার উপস্থিতিতে ডিআইএসসিএল চ্যাম্পিয়ন নৌবাহিনী কলেজ

উপজেলায় বিশেষায়িত চক্ষুসেবা কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা সরকারের

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:৩১:২১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বাংলাদেশে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) 'স্পেকস ২০৩০' উদ্যোগের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছে। এই উদ্যোগটিকে সারাদেশে মানসম্মত, সাশ্রয়ী ও জনকেন্দ্রিক চক্ষুসেবার সুযোগ সম্প্রসারণের পথে একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। মঙ্গলবার রাজধানীর একটি হোটেলে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।

অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী জানান, সরকার উপজেলা পর্যায়ে নির্মিতব্য ১৫১ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালগুলোতে চক্ষুসেবার জন্য বিশেষায়িত বহির্বিভাগ, অন্তর্বিভাগ এবং অপারেশন থিয়েটার সুবিধা স্থাপনের পরিকল্পনা করছে। তিনি বলেন, সরকার একটি সমন্বিত জাতীয় চক্ষুসেবা পরিকল্পনা চূড়ান্ত করছে, যার লক্ষ্য প্রায় ১০ লাখ ছানি অস্ত্রোপচার, কয়েক কোটি চশমা বিতরণ এবং ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথির চিকিৎসা সম্প্রসারণ করা। ডা. মুহিত আরও বলেন, আমরা আধুনিক চক্ষুসেবা তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছে দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। প্রায় ৫০০ উপজেলায় উন্নত চক্ষুসেবার আওতা বাড়ানো হবে, যাতে মানুষকে চিকিৎসার জন্য জেলা শহর বা ঢাকায় যেতে না হয়। এছাড়া বর্তমানে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় থাকা প্রায় ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মীর প্রশিক্ষণে প্রাথমিক চক্ষুসেবাকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে বলেও তিনি জানান।

সরকার বিদ্যমান জেলা হাসপাতালের অবকাঠামোর সমন্বয়ের মাধ্যমে দেশের অন্তত অর্ধেক জেলায় নিয়মিত ছানি অপারেশন এবং প্রতিসরণ ত্রুটি (রিফ্র্যাক্টিভ এরর) সংশোধনসেবা বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে। গত ছয় মাস ধরে আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় সংস্থাগুলোর সাথে সমন্বয়ের মাধ্যমে সরকার আগামী তিন থেকে চার বছরের মধ্যে চক্ষুসেবা খাতে যুগান্তকারী ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে কাজ করছে।

২০২৪ সালের মে মাসে বিশ্বব্যাপী চালু হওয়া ডব্লিউএইচও-এর এই উদ্যোগের লক্ষ্য হলো বিশ্বজুড়ে রিফ্র্যাক্টিভ এরর-সংক্রান্ত সেবা সহজলভ্য করা। এই উদ্যোগের জাতীয় পর্যায়ের সূচনায় অরবিস ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ সমন্বয়কারী ও সংগঠকের ভূমিকা পালন করেছে। স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব শেখ মোমেনা মনি বলেন, বাংলাদেশ ২০৩০ সালের মধ্যে একটি সমন্বিত চক্ষুসেবা ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে এবং রিফ্র্যাক্টিভ এরর চিকিৎসার আওতা বাড়াতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি শিশুদের স্কুলভিত্তিক দৃষ্টিশক্তি পরীক্ষা ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর জন্য সেবা নিশ্চিতের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

অনুষ্ঠানে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং সরকারি প্রতিনিধিরা বিদ্যমান ঘাটতি পূরণে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, প্রশিক্ষিত কর্মী, রেফারেল ব্যবস্থা এবং শক্তিশালী সহযোগিতার ওপর জোর দেন। উদ্বোধন শেষে বাংলাদেশে স্পেকস ২০৩০ বাস্তবায়নের মাধ্যমে চক্ষুসেবা শক্তিশালীকরণ বিষয়ক একটি প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় সংস্থার প্রতিনিধিরা কর্মক্ষেত্রে চক্ষুস্বাস্থ্য ও নীতি প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা করেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin

নিউজটি শেয়ার করুন

উপজেলায় বিশেষায়িত চক্ষুসেবা কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা সরকারের

আপডেট সময় : ১০:৩১:২১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬

বাংলাদেশে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) 'স্পেকস ২০৩০' উদ্যোগের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছে। এই উদ্যোগটিকে সারাদেশে মানসম্মত, সাশ্রয়ী ও জনকেন্দ্রিক চক্ষুসেবার সুযোগ সম্প্রসারণের পথে একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। মঙ্গলবার রাজধানীর একটি হোটেলে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।

অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী জানান, সরকার উপজেলা পর্যায়ে নির্মিতব্য ১৫১ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালগুলোতে চক্ষুসেবার জন্য বিশেষায়িত বহির্বিভাগ, অন্তর্বিভাগ এবং অপারেশন থিয়েটার সুবিধা স্থাপনের পরিকল্পনা করছে। তিনি বলেন, সরকার একটি সমন্বিত জাতীয় চক্ষুসেবা পরিকল্পনা চূড়ান্ত করছে, যার লক্ষ্য প্রায় ১০ লাখ ছানি অস্ত্রোপচার, কয়েক কোটি চশমা বিতরণ এবং ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথির চিকিৎসা সম্প্রসারণ করা। ডা. মুহিত আরও বলেন, আমরা আধুনিক চক্ষুসেবা তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছে দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। প্রায় ৫০০ উপজেলায় উন্নত চক্ষুসেবার আওতা বাড়ানো হবে, যাতে মানুষকে চিকিৎসার জন্য জেলা শহর বা ঢাকায় যেতে না হয়। এছাড়া বর্তমানে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় থাকা প্রায় ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মীর প্রশিক্ষণে প্রাথমিক চক্ষুসেবাকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে বলেও তিনি জানান।

সরকার বিদ্যমান জেলা হাসপাতালের অবকাঠামোর সমন্বয়ের মাধ্যমে দেশের অন্তত অর্ধেক জেলায় নিয়মিত ছানি অপারেশন এবং প্রতিসরণ ত্রুটি (রিফ্র্যাক্টিভ এরর) সংশোধনসেবা বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে। গত ছয় মাস ধরে আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় সংস্থাগুলোর সাথে সমন্বয়ের মাধ্যমে সরকার আগামী তিন থেকে চার বছরের মধ্যে চক্ষুসেবা খাতে যুগান্তকারী ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে কাজ করছে।

২০২৪ সালের মে মাসে বিশ্বব্যাপী চালু হওয়া ডব্লিউএইচও-এর এই উদ্যোগের লক্ষ্য হলো বিশ্বজুড়ে রিফ্র্যাক্টিভ এরর-সংক্রান্ত সেবা সহজলভ্য করা। এই উদ্যোগের জাতীয় পর্যায়ের সূচনায় অরবিস ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ সমন্বয়কারী ও সংগঠকের ভূমিকা পালন করেছে। স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব শেখ মোমেনা মনি বলেন, বাংলাদেশ ২০৩০ সালের মধ্যে একটি সমন্বিত চক্ষুসেবা ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে এবং রিফ্র্যাক্টিভ এরর চিকিৎসার আওতা বাড়াতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি শিশুদের স্কুলভিত্তিক দৃষ্টিশক্তি পরীক্ষা ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর জন্য সেবা নিশ্চিতের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

অনুষ্ঠানে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং সরকারি প্রতিনিধিরা বিদ্যমান ঘাটতি পূরণে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, প্রশিক্ষিত কর্মী, রেফারেল ব্যবস্থা এবং শক্তিশালী সহযোগিতার ওপর জোর দেন। উদ্বোধন শেষে বাংলাদেশে স্পেকস ২০৩০ বাস্তবায়নের মাধ্যমে চক্ষুসেবা শক্তিশালীকরণ বিষয়ক একটি প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় সংস্থার প্রতিনিধিরা কর্মক্ষেত্রে চক্ষুস্বাস্থ্য ও নীতি প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা করেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin