ঢাকা ০৯:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬, ৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণ হয়েছে, এখন মাছ রপ্তানি বাড়াতে হবে: প্রতিমন্ত্রী টুকু বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গঠনই জুলাই শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা: সাইফুল হক রোহিঙ্গাদের ‘বাঙালি’ বলায় মিয়ানমারের বিবৃতির সঙ্গে দ্বিমত বাংলাদেশের ইরানের সঙ্গে কোনো আলোচনা চলছে না: ডোনাল্ড ট্রাম্প বগুড়ায় বদিউজ্জামান হত্যা মামলায় প্রতিবেশী খয়বরের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড লালমোহনে স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে টমটম চাপায় শিশু নিহত চা-শ্রমিকদের ২০ হাজার রেইনকোট বিতরণ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী খুলনায় ছেলেধরা সন্দেহে গণপিটুনিতে যুবক নিহত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সহায়তার জন্য নির্বাচন কমিশনের ২০ কর্মকর্তা নিয়োগ রোহিঙ্গারা ‘বাঙালি’ নয়, মিয়ানমারকে ঢাকার কড়া বার্তা

হামাস নিরস্ত্র না হওয়া পর্যন্ত গাজা পুনর্গঠন নয়: কুশনার

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:০১:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

হামাস সম্পূর্ণভাবে নিরস্ত্র না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা উপত্যকার পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের অনুমতি দেবে না যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত জ্যারেড কুশনার এই সাফ বার্তা দিয়েছেন। ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, গাজা পুনর্গঠনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছে একটি নির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে, তবে তা বাস্তবায়নের পূর্বশর্ত হলো হামাসের সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণ।

কুশনারের মতে, দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের কোনো অঞ্চলে কোনো পক্ষই নতুন করে অর্থ বিনিয়োগ করতে আগ্রহী নয়, যেখানে ভবিষ্যতে আবারো ‘সন্ত্রাসীদের নিয়ন্ত্রণ’ প্রতিষ্ঠা বা নতুন করে ধ্বংসযজ্ঞের আশঙ্কা থাকে। সোমবার (১৭ আগস্ট) ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠক করেন কুশনার। তবে গাজার জন্য হামাস যে রোডম্যাপে ইতিপূর্বে সম্মতি দিয়েছিল, তা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে এই বৈঠকে কোনো অগ্রগতি লক্ষ্য করা যায়নি।

মূলত, মার্কিন সমর্থিত একটি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে হামাস নিজেদের অস্ত্র ত্যাগে সম্মত হয়েছিল। এর বিনিময়ে গাজা থেকে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহার এবং ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে প্রাণঘাতী হামলা বন্ধের শর্ত ছিল। তবে চলতি মাসের শুরুর দিকে ইসরাইল এই প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করে জানায়, গাজা পুরোপুরি নিরস্ত্রীকরণ না হওয়া পর্যন্ত তারা কোনো ছাড় দেবে না। সাক্ষাৎকারে কুশনারও হামাসের সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণের ওপর জোর দিয়ে বলেন, কোনো তাৎক্ষণিক হুমকি দেখা দিলে ইসরাইলের আত্মরক্ষার অধিকার কোনোভাবেই সীমিত করা হবে না।

এদিকে গাজায় ইসরাইলি সামরিক অভিযান ও হামলা অব্যাহত রয়েছে। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই অভিযানে এ পর্যন্ত মোট ৭৩ হাজার ৩৯৯ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এমনকি গত বছর ‘কথিত যুদ্ধবিরতি’ কার্যকর হওয়ার পর থেকেও উপত্যকাটিতে ইসরাইলি হামলায় অন্তত ১ হাজার ২৬৫ জন প্রাণ হারিয়েছেন। তবে সোমবার ট্রাম্প গাজায় ইসরাইলি হামলা বন্ধের আহ্বান জানিয়ে বলেন, ইসরাইলিদের গাজায় হামলা চালানো উচিত নয়, কারণ হামাস অস্ত্র সমর্পণে সম্মত হয়েছে।

গাজা চুক্তিকে ইসরাইলের জন্য অত্যন্ত লাভজনক হিসেবে উল্লেখ করে কুশনার বলেন, আগামী ৬০ থেকে ৯০ দিনের মধ্যে হামাস যদি স্বেচ্ছায় তাদের সব অস্ত্র ও সুড়ঙ্গগুলো হস্তান্তর করে, তবে ইসরাইলের একটি বড় নিরাপত্তা হুমকি দূর হবে। উল্লেখ্য, বিগত তিন বছরে যুক্তরাষ্ট্র ইসরাইলকে প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলারের সামরিক সহায়তা দিয়েছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের কর্মকর্তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে নেতানিয়াহু সরকারকে জোরালো সমর্থন দিয়ে আসছে ওয়াশিংটন।

সংকট সমাধানের অংশ হিসেবে গত রোববার হামাস কর্মকর্তাদের সঙ্গেও একটি বৈঠক করেন কুশনার। সেই আলোচনাকে ‘সৌহার্দ্যপূর্ণ’ আখ্যা দিলেও কুশনার সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, ওয়াশিংটন হামাসকে তাদের কথার চেয়ে কাজের মাধ্যমেই মূল্যায়ন করবে। অতীতে ‘ভয়াবহ নৃশংসতা’ চালানোর অভিযোগ থাকা কোনো সংগঠনকে সহজে বিশ্বাস করা কঠিন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Jugantor

নিউজটি শেয়ার করুন

হামাস নিরস্ত্র না হওয়া পর্যন্ত গাজা পুনর্গঠন নয়: কুশনার

আপডেট সময় : ০৭:০১:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬

হামাস সম্পূর্ণভাবে নিরস্ত্র না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা উপত্যকার পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের অনুমতি দেবে না যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত জ্যারেড কুশনার এই সাফ বার্তা দিয়েছেন। ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, গাজা পুনর্গঠনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছে একটি নির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে, তবে তা বাস্তবায়নের পূর্বশর্ত হলো হামাসের সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণ।

কুশনারের মতে, দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের কোনো অঞ্চলে কোনো পক্ষই নতুন করে অর্থ বিনিয়োগ করতে আগ্রহী নয়, যেখানে ভবিষ্যতে আবারো ‘সন্ত্রাসীদের নিয়ন্ত্রণ’ প্রতিষ্ঠা বা নতুন করে ধ্বংসযজ্ঞের আশঙ্কা থাকে। সোমবার (১৭ আগস্ট) ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠক করেন কুশনার। তবে গাজার জন্য হামাস যে রোডম্যাপে ইতিপূর্বে সম্মতি দিয়েছিল, তা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে এই বৈঠকে কোনো অগ্রগতি লক্ষ্য করা যায়নি।

মূলত, মার্কিন সমর্থিত একটি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে হামাস নিজেদের অস্ত্র ত্যাগে সম্মত হয়েছিল। এর বিনিময়ে গাজা থেকে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহার এবং ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে প্রাণঘাতী হামলা বন্ধের শর্ত ছিল। তবে চলতি মাসের শুরুর দিকে ইসরাইল এই প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করে জানায়, গাজা পুরোপুরি নিরস্ত্রীকরণ না হওয়া পর্যন্ত তারা কোনো ছাড় দেবে না। সাক্ষাৎকারে কুশনারও হামাসের সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণের ওপর জোর দিয়ে বলেন, কোনো তাৎক্ষণিক হুমকি দেখা দিলে ইসরাইলের আত্মরক্ষার অধিকার কোনোভাবেই সীমিত করা হবে না।

এদিকে গাজায় ইসরাইলি সামরিক অভিযান ও হামলা অব্যাহত রয়েছে। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই অভিযানে এ পর্যন্ত মোট ৭৩ হাজার ৩৯৯ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এমনকি গত বছর ‘কথিত যুদ্ধবিরতি’ কার্যকর হওয়ার পর থেকেও উপত্যকাটিতে ইসরাইলি হামলায় অন্তত ১ হাজার ২৬৫ জন প্রাণ হারিয়েছেন। তবে সোমবার ট্রাম্প গাজায় ইসরাইলি হামলা বন্ধের আহ্বান জানিয়ে বলেন, ইসরাইলিদের গাজায় হামলা চালানো উচিত নয়, কারণ হামাস অস্ত্র সমর্পণে সম্মত হয়েছে।

গাজা চুক্তিকে ইসরাইলের জন্য অত্যন্ত লাভজনক হিসেবে উল্লেখ করে কুশনার বলেন, আগামী ৬০ থেকে ৯০ দিনের মধ্যে হামাস যদি স্বেচ্ছায় তাদের সব অস্ত্র ও সুড়ঙ্গগুলো হস্তান্তর করে, তবে ইসরাইলের একটি বড় নিরাপত্তা হুমকি দূর হবে। উল্লেখ্য, বিগত তিন বছরে যুক্তরাষ্ট্র ইসরাইলকে প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলারের সামরিক সহায়তা দিয়েছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের কর্মকর্তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে নেতানিয়াহু সরকারকে জোরালো সমর্থন দিয়ে আসছে ওয়াশিংটন।

সংকট সমাধানের অংশ হিসেবে গত রোববার হামাস কর্মকর্তাদের সঙ্গেও একটি বৈঠক করেন কুশনার। সেই আলোচনাকে ‘সৌহার্দ্যপূর্ণ’ আখ্যা দিলেও কুশনার সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, ওয়াশিংটন হামাসকে তাদের কথার চেয়ে কাজের মাধ্যমেই মূল্যায়ন করবে। অতীতে ‘ভয়াবহ নৃশংসতা’ চালানোর অভিযোগ থাকা কোনো সংগঠনকে সহজে বিশ্বাস করা কঠিন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Jugantor