উপসাগরীয় দেশগুলোর আস্থার সংকটে মার্কিন নিরাপত্তা ছাতা
- আপডেট সময় : ০৫:১৭:১৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে

মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় দেশগুলোর নেতারা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর আস্থা হারাচ্ছেন। ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে আঞ্চলিক নিরাপত্তার বিষয়ে তাদের মধ্যে গভীর হতাশা তৈরি হয়েছে। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত ও বাহরাইনের মতো দেশগুলো ওয়াশিংটনের বর্তমান কর্মকাণ্ডে ক্রমশ বিরক্ত হয়ে উঠছে। তাদের প্রধান উদ্বেগের কারণ হলো, ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ থামানোর মতো কার্যকর কোনো কূটনীতি পরিচালনায় ব্যর্থ হচ্ছেন।
ওয়াশিংটন পোস্টের তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্প সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকবার কঠোর সামরিক হুমকি দিয়েছেন। কিন্তু আবার আলোচনার অগ্রগতির কথা বলে সেই হুমকি থেকে সরে এসেছেন। উপসাগরীয় মিত্র দেশগুলো এই ধরনের অনিশ্চিত নীতিতে বড় ধরনের সংকটের মুখে পড়েছে। জেরুজালেম পোস্ট জানিয়েছে, তিনজন কর্মকর্তা ও একজন প্রাক্তন মার্কিন কূটনীতিক ওয়াশিংটন পোস্টের কাছে অভিযোগ করেছেন যে, উপসাগরীয় মিত্ররা এখন ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে।
এই পরিস্থিতি এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, কিছু উপসাগরীয় দেশের নেতারা মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রাখার যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন। তাদের এই চিন্তা কেবল ট্রাম্পের ওপর অসন্তোষের বিষয় নয়, বরং দীর্ঘদিনের মার্কিন নিরাপত্তা কাঠামোর কার্যকারিতা নিয়েও তারা সন্দিহান। উপসাগরীয় অঞ্চলের একজন কর্মকর্তা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, 'ট্রাম্প এই যুদ্ধ শুরু করেছেন এবং আমরা তার মূল্য দিচ্ছি।' চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি মিত্র দেশগুলোর ক্ষোভ বাড়তে থাকে।
বাস্তবতা হলো, ইরান ও এই অঞ্চলের চলমান যুদ্ধে দেখা গেছে যে, মার্কিন সামরিক উপস্থিতি থাকা সত্ত্বেও অঞ্চলটি এখন আর পুরোপুরি নিরাপদ নয়। যদিও ওয়াশিংটন উপসাগরীয় দেশগুলোর ঘনিষ্ঠ নিরাপত্তা অংশীদার এবং অস্ত্র সরবরাহকারী, তবুও বর্তমান পরিস্থিতির কারণে তারা এখন আর ওয়াশিংটনের ওপর পুরোপুরি নির্ভর করতে চাচ্ছে না। নিজেদের নিরাপত্তার স্বার্থেই উপসাগরীয় দেশগুলো এখন আরও বৈচিত্রময় অংশীদারত্বের কথা ভাবতে বাধ্য হচ্ছে।



























