দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সামরিক মহড়া কমানোর নির্দেশ দিলেন ট্রাম্প
- আপডেট সময় : ০৪:০৫:৫০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে যৌথ সামরিক মহড়ার পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর জন্য পেন্টাগনকে কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন। এই সিদ্ধান্তের পেছনের কারণ হিসেবে তিনি বার্ষিক এই মহড়ার উচ্চ ব্যয় এবং ইরানের বিরুদ্ধে যৌথ পদক্ষেপ গ্রহণের ক্ষেত্রে সিউলের অস্বীকৃতিকে দায়ী করেছেন। মহড়া শুরুর মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে নিজের ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে ট্রাম্প অসন্তোষ প্রকাশ করে জানান যে, তিনি এই যৌথ মহড়ায় অংশগ্রহণ নিয়ে সন্তুষ্ট নন।
উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে ব্যক্তিগত সুসম্পর্কের বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দিয়ে ট্রাম্প দাবি করেন, এ ধরনের সামরিক মহড়া অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং পিয়ংইয়ংয়ের জন্য ভুল বার্তা প্রদান করে। তিনি দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষিণ কোরিয়ায় মোতায়েন থাকা ২৮ হাজার ৫০০ মার্কিন সেনার ব্যয়ভার বহনের ক্ষেত্রে সিউলকে আরও বেশি অবদান রাখার দাবি জানিয়ে আসছেন।
ট্রাম্পের এই মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফ অব স্টাফ নিশ্চিত করেছেন যে, নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী মহড়া শুরু হয়েছে এবং এতে প্রায় ১৮ হাজার দক্ষিণ কোরীয় সেনা অংশ নিচ্ছেন। সিউলের ব্লু হাউস জানিয়েছে, তারা ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্মিলিত প্রতিরক্ষাব্যবস্থা বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে ইরানের বিষয়ে মার্কিন প্রস্তাবের ক্ষেত্রে তারা নিজেদের আইনি ও নিরাপত্তার বাধ্যবাধকতাগুলো খতিয়ে দেখছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই আকস্মিক পদক্ষেপ উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে নতুন আলোচনার দুয়ার খুলে দিতে পারে। পাশাপাশি এটি রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার সামরিক সম্পর্ক সীমিত করার একটি কৌশল হতে পারে। তবে সামরিক উদ্বেগের পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক টানাপড়েনও স্পষ্ট। শুল্ক কমানোর বিনিময়ে ৩৫০ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ চুক্তি বাস্তবায়নে সিউলের ধীরগতি এবং মার্কিন ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান কুপাং-সংক্রান্ত তদন্ত নিয়ে ওয়াশিংটন বেশ ক্ষুব্ধ। সামগ্রিকভাবে, ট্রাম্পের এই নতুন সিদ্ধান্ত ওয়াশিংটন ও সিউলের কূটনৈতিক ও কৌশলগত জোটে নতুন করে টানাপড়েন তৈরি করেছে।



























