ঢাকা ১১:৫৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রণালয়ের নতুন সচিব ড. নূরুন্নাহার চৌধুরী মন্ত্রীকে না জানিয়ে সরকারি সফরে এপিএস, দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি অসুস্থতার ভান করে মেকআপ মেখে ৫ চাকরি, প্রতারণায় অভিযুক্ত বাংলাদেশি ২০২৭ সালের মধ্যে সমন্বিত সড়ক নিরাপত্তা আইন: সরকারের দৃঢ় অঙ্গীকার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চরফ্যাশনের বৃক্ষপ্রেমী ইমাম বাবুলের সাক্ষাৎ অক্টোবরের ১৩ দিনে ১৭ হাজার ২৮১ কোটি টাকার রেমিট্যান্স কুমিল্লায় জামায়াতের দুগ্রুপের সংঘর্ষ, সেক্রেটারি মাহবুবের গাড়ি ভাঙচুর বই পড়া ও হাজার বছরের সংস্কৃতি তুলে ধরতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ ডেঙ্গু প্রতিরোধে ঘর-আশপাশ পরিষ্কারের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর শারদীয় দুর্গাপূজায় মণ্ডপের নিরাপত্তায় পুলিশের ৫ দফা পরামর্শ

বর্ষায় চোখ ওঠা রোগের লক্ষণ, চিকিৎসা ও প্রতিরোধের উপায়

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০১:৪৩:৩৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬ ২১ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



বর্ষাকালে আমাদের চারপাশে চোখ ওঠা বা কনজাংকটিভাইটিসের সমস্যা বেশ সাধারণ এবং এটি অত্যন্ত সংক্রামক একটি রোগ। মূলত বাতাসে ভেসে থাকা ভাইরাসের মাধ্যমে এই রোগটি খুব দ্রুত এক ব্যক্তি থেকে অন্য ব্যক্তিতে এবং পরিবারের সদস্যদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। চিকিৎসকদের মতে, সাধারণত আক্রান্ত ব্যক্তির প্রথমে একটি চোখ সংক্রমিত হয় এবং পরবর্তীতে তা অন্য চোখেও ছড়িয়ে পড়তে পারে।

এই রোগে আক্রান্ত হলে চোখের নিচের অংশটি বেশ লাল হয়ে যায়। সেই সঙ্গে চোখে তীব্র ব্যথা অনুভূত হতে থাকে এবং চোখ থেকে অনবরত পানি পড়তে শুরু করে। এমন সংক্রমণ দেখা দিলে চোখের বাড়তি যত্ন নেওয়া এবং সতর্ক থাকা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়ে।

চোখ পরিষ্কার রাখার জন্য কিছুক্ষণ পর পর ঠান্ডা পানির ঝাপটা দেওয়া যেতে পারে। তবে চোখে পানির ঝাপটা দেওয়ার আগে নিজের হাত দুটি সাবান দিয়ে খুব ভালো করে ধুয়ে নিতে হবে। চোখ মোছার জন্য সবসময় পরিষ্কার টিস্যু পেপার ব্যবহার করা উচিত এবং ব্যবহারের পর সেই টিস্যু অবশ্যই একটি ঢাকনাযুক্ত ডাস্টবিনে ফেলে দিতে হবে, যাতে অন্য কেউ এই ভাইরাসে সংক্রমিত না হয়। এছাড়া ধুলাবালি, ধোঁয়া এবং অসাবধানতাবশত বারবার চোখে হাত দেওয়া থেকে বিরত থাকতে চশমা ব্যবহার করা বেশ উপকারী।

চোখের সংক্রমণের তীব্রতা কমাতে নিজে থেকে কোনো সিদ্ধান্ত না নিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সঠিক অ্যান্টিবায়োটিক আই ড্রপ ব্যবহার করতে হবে। একই সঙ্গে এই সময়ে নিজের ব্যবহৃত প্রসাধন সামগ্রী, তোয়ালে বা রুমাল অন্য কাউকে ব্যবহার করতে দেওয়া যাবে না এবং অন্যের জিনিসপত্র নিজে ব্যবহার করা থেকেও বিরত থাকতে হবে। কোনো অবস্থাতেই চোখ বারবার স্পর্শ করা বা চুলকানো যাবে না। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নিজে নিজে কোনো ওষুধ কিংবা অন্যের আই ড্রপ চোখে ব্যবহার করলে পুনরায় সংক্রমণ হতে পারে বা চোখের বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে।

এই রোগ প্রতিরোধে বারবার হাত ধোয়া বা হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করা উচিত। এছাড়া ঘরের দরজার হ্যান্ডেল, পানির কল বা দৈনন্দিন ব্যবহারের যেসব জিনিস সবাই স্পর্শ করে, সেগুলো নিয়মিত অ্যান্টিসেপটিক দিয়ে পরিষ্কার রাখতে হবে। বর্ষার সময়ে সাঁতার কাটার ক্ষেত্রে পানিতে থাকা ব্যাকটেরিয়া ও জীবাণুর সংক্রমণ এড়াতে সুইমিং গগলস ব্যবহার করা আবশ্যক। পাশাপাশি বাইরে বের হওয়ার সময় রোদচশমা বা সানগ্লাস ব্যবহার করা ভালো। মূলত সঠিক সচেতনতা ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার মাধ্যমেই এই রোগ থেকে চোখকে সুরক্ষিত রাখা সম্ভব।

উল্লেখ্য, অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই পরামর্শগুলো দিয়েছেন চক্ষুরোগ বিশেষজ্ঞ ও সার্জন এবং মার্কস মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের ভাইস প্রিন্সিপাল। তিনি ঢাকার আদাবরের রিং রোডের ৩৮/৩-৪ নম্বরে অবস্থিত আইডিয়াল আই কেয়ার সেন্টার লিমিটেডের কনসালট্যান্ট হিসেবে কর্মরত আছেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Amader Shomoy

নিউজটি শেয়ার করুন

বর্ষায় চোখ ওঠা রোগের লক্ষণ, চিকিৎসা ও প্রতিরোধের উপায়

আপডেট সময় : ০১:৪৩:৩৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬

বর্ষাকালে আমাদের চারপাশে চোখ ওঠা বা কনজাংকটিভাইটিসের সমস্যা বেশ সাধারণ এবং এটি অত্যন্ত সংক্রামক একটি রোগ। মূলত বাতাসে ভেসে থাকা ভাইরাসের মাধ্যমে এই রোগটি খুব দ্রুত এক ব্যক্তি থেকে অন্য ব্যক্তিতে এবং পরিবারের সদস্যদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। চিকিৎসকদের মতে, সাধারণত আক্রান্ত ব্যক্তির প্রথমে একটি চোখ সংক্রমিত হয় এবং পরবর্তীতে তা অন্য চোখেও ছড়িয়ে পড়তে পারে।

এই রোগে আক্রান্ত হলে চোখের নিচের অংশটি বেশ লাল হয়ে যায়। সেই সঙ্গে চোখে তীব্র ব্যথা অনুভূত হতে থাকে এবং চোখ থেকে অনবরত পানি পড়তে শুরু করে। এমন সংক্রমণ দেখা দিলে চোখের বাড়তি যত্ন নেওয়া এবং সতর্ক থাকা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়ে।

চোখ পরিষ্কার রাখার জন্য কিছুক্ষণ পর পর ঠান্ডা পানির ঝাপটা দেওয়া যেতে পারে। তবে চোখে পানির ঝাপটা দেওয়ার আগে নিজের হাত দুটি সাবান দিয়ে খুব ভালো করে ধুয়ে নিতে হবে। চোখ মোছার জন্য সবসময় পরিষ্কার টিস্যু পেপার ব্যবহার করা উচিত এবং ব্যবহারের পর সেই টিস্যু অবশ্যই একটি ঢাকনাযুক্ত ডাস্টবিনে ফেলে দিতে হবে, যাতে অন্য কেউ এই ভাইরাসে সংক্রমিত না হয়। এছাড়া ধুলাবালি, ধোঁয়া এবং অসাবধানতাবশত বারবার চোখে হাত দেওয়া থেকে বিরত থাকতে চশমা ব্যবহার করা বেশ উপকারী।

চোখের সংক্রমণের তীব্রতা কমাতে নিজে থেকে কোনো সিদ্ধান্ত না নিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সঠিক অ্যান্টিবায়োটিক আই ড্রপ ব্যবহার করতে হবে। একই সঙ্গে এই সময়ে নিজের ব্যবহৃত প্রসাধন সামগ্রী, তোয়ালে বা রুমাল অন্য কাউকে ব্যবহার করতে দেওয়া যাবে না এবং অন্যের জিনিসপত্র নিজে ব্যবহার করা থেকেও বিরত থাকতে হবে। কোনো অবস্থাতেই চোখ বারবার স্পর্শ করা বা চুলকানো যাবে না। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নিজে নিজে কোনো ওষুধ কিংবা অন্যের আই ড্রপ চোখে ব্যবহার করলে পুনরায় সংক্রমণ হতে পারে বা চোখের বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে।

এই রোগ প্রতিরোধে বারবার হাত ধোয়া বা হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করা উচিত। এছাড়া ঘরের দরজার হ্যান্ডেল, পানির কল বা দৈনন্দিন ব্যবহারের যেসব জিনিস সবাই স্পর্শ করে, সেগুলো নিয়মিত অ্যান্টিসেপটিক দিয়ে পরিষ্কার রাখতে হবে। বর্ষার সময়ে সাঁতার কাটার ক্ষেত্রে পানিতে থাকা ব্যাকটেরিয়া ও জীবাণুর সংক্রমণ এড়াতে সুইমিং গগলস ব্যবহার করা আবশ্যক। পাশাপাশি বাইরে বের হওয়ার সময় রোদচশমা বা সানগ্লাস ব্যবহার করা ভালো। মূলত সঠিক সচেতনতা ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার মাধ্যমেই এই রোগ থেকে চোখকে সুরক্ষিত রাখা সম্ভব।

উল্লেখ্য, অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই পরামর্শগুলো দিয়েছেন চক্ষুরোগ বিশেষজ্ঞ ও সার্জন এবং মার্কস মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের ভাইস প্রিন্সিপাল। তিনি ঢাকার আদাবরের রিং রোডের ৩৮/৩-৪ নম্বরে অবস্থিত আইডিয়াল আই কেয়ার সেন্টার লিমিটেডের কনসালট্যান্ট হিসেবে কর্মরত আছেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Amader Shomoy