ঢাকা ০৬:৫৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ৩১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ভালো সিদ্ধান্ত নিতে চান? সাহায্য নিতে পারেন ৫ ক্ষুদ্র পতঙ্গের কাছ থেকে স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে বিজয় ও তৃষার ভাইরাল ভিডিও জালিয়াতির অভিযোগে বিপাকে বিল গেটসের মেয়ে ফিবি গেটসের স্টার্টআপ হবিগঞ্জের ৮১ শিল্পকারখানায় গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক, চালু উৎপাদন পুত্রবধূর রাজকীয় উপাধি কেড়ে নিলেন ব্রুনেইয়ের সুলতান হবিগঞ্জে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে আওয়ামী লীগের ৬৪ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা হামের উপসর্গে আরও ৮ শিশুর মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ৯০০ ছাড়াল গ্যাস সংকট কাটাতে দুই বছর সময় লাগবে: বাণিজ্যমন্ত্রী গরুর নাম ‘বাকশাল’ রেখে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভোজের আয়োজন ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু ভবন এলাকা থেকে চারজন আটক

কুলিয়ারচরে শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে মামলা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০১:১৩:৪৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে ১১ বছর বয়সী এক শিশুকে দিনের বেলায় খোলা আকাশের নিচে জোরপূর্বক ধর্ষণের অভিযোগে স্থানীয় এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযুক্তের নাম মো. জজ মিয়া (৫৫)। তিনি উপজেলার ফরিদপুর ইউনিয়নের আলীনগর গ্রামের মৃত আব্দুল গফুরের ছেলে এবং স্থানীয় ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক। শনিবার (১৫ আগস্ট) ভুক্তভোগী শিশুর বাবা কুলিয়ারচর থানায় মামলাটি করেন। এর আগে শুক্রবার সকালে তিনি থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলেন।

মামলার এজাহার ও ভুক্তভোগী পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকাল ১১টার দিকে ফরিদপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ান্ডের আলীনগর পূর্বপাড়া গ্রামের ওই শিশুটি বাড়ির পশ্চিমে নদীর পাড়ে ফারুক মিয়ার জমিতে লাকড়ি শুকাতে যায়। সেখানে আগে থেকেই ওত পেতে থাকা জজ মিয়া শিশুটির মুখে গামছা পেঁচিয়ে টেনে-হিঁচড়ে নদীর পাড়সংলগ্ন একটি জঙ্গলে নিয়ে যান। সেখানে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। শিশুটির চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে এসে অভিযুক্ত জজ মিয়াকে হাতেনাতে আটক করে ভুক্তভোগীর বাড়িতে নিয়ে যান।

ঘটনার পর স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি সালিশের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসা করার আশ্বাস দিয়ে অভিযুক্ত জজ মিয়াকে সেখান থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে যান। অভিযোগ রয়েছে, ওই রাতেই শিশুটির বাড়িতে সালিশ বৈঠক বসিয়ে তার ‘ইজ্জতের মূল্য’ ৫০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়। ওই টাকা ভুক্তভোগী পরিবারের হাতে দিয়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। তবে পরিবারের সদস্যরা এই অন্যায় আপস মেনে না নিয়ে পরদিন সকালে শিশুটিকে সঙ্গে নিয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

ভুক্তভোগী শিশুর বাবা অভিযোগ করে বলেন, জজ মিয়া ইতিপূর্বেও এলাকায় একই ধরনের অপকর্ম করেছেন। এমনকি তার বড় ভাইয়ের ছোট মেয়ের সঙ্গেও তিনি একই ধরনের অপরাধ করেছিলেন। সেই ঘটনার উপযুক্ত বিচার না হওয়ায় অভিযুক্ত জজ মিয়া পুনরায় এমন ঘটনা ঘটানোর সাহস পেয়েছেন। তিনি আরও জানান, থানায় অভিযোগ দেওয়ার পর থেকে একটি মহল ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে এবং প্রত্যক্ষদর্শীরা আতঙ্কে সাক্ষ্য দিতে ভয় পাচ্ছেন। এ অবস্থায় তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং ন্যায়বিচারের স্বার্থে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলমের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

ভুক্তভোগীর চাচা মো. নজরুল ইসলাম জানান, থানায় অভিযোগ দেওয়ার পর থেকে অভিযুক্তের লোকজন তাদের প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। প্রভাবশালী আসামির ভয়ে পুরো পরিবার নিয়ে তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন। এদিকে ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত জজ মিয়া পলাতক রয়েছেন। তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি, যার ফলে তার কোনো বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

ফরিদপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. মোবারক হোসেন বলেন, "ঘটনার খবর পেয়ে আমি ভিকটিমের খোঁজখবর নিতে তাদের বাড়িতে গিয়েছি। অন্যায়ের কোনো ছাড় নেই। তদন্তে অপরাধ প্রমাণিত হলে অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া প্রয়োজন। আর অভিযুক্ত নিরপরাধ হলে তাকেও মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া উচিত।"

কুলিয়ারচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী আরিফ উদ্দীন জানান, লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর প্রাথমিক তদন্ত শেষে থানায় মামলা রুজু করা হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং আসামিকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ভুক্তভোগী শিশুর ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন করার প্রক্রিয়া চলছে এবং পরীক্ষার পরেই ধর্ষণ নাকি ধর্ষণের চেষ্টা, সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh

নিউজটি শেয়ার করুন

কুলিয়ারচরে শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে মামলা

আপডেট সময় : ০১:১৩:৪৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে ১১ বছর বয়সী এক শিশুকে দিনের বেলায় খোলা আকাশের নিচে জোরপূর্বক ধর্ষণের অভিযোগে স্থানীয় এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযুক্তের নাম মো. জজ মিয়া (৫৫)। তিনি উপজেলার ফরিদপুর ইউনিয়নের আলীনগর গ্রামের মৃত আব্দুল গফুরের ছেলে এবং স্থানীয় ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক। শনিবার (১৫ আগস্ট) ভুক্তভোগী শিশুর বাবা কুলিয়ারচর থানায় মামলাটি করেন। এর আগে শুক্রবার সকালে তিনি থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলেন।

মামলার এজাহার ও ভুক্তভোগী পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকাল ১১টার দিকে ফরিদপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ান্ডের আলীনগর পূর্বপাড়া গ্রামের ওই শিশুটি বাড়ির পশ্চিমে নদীর পাড়ে ফারুক মিয়ার জমিতে লাকড়ি শুকাতে যায়। সেখানে আগে থেকেই ওত পেতে থাকা জজ মিয়া শিশুটির মুখে গামছা পেঁচিয়ে টেনে-হিঁচড়ে নদীর পাড়সংলগ্ন একটি জঙ্গলে নিয়ে যান। সেখানে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। শিশুটির চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে এসে অভিযুক্ত জজ মিয়াকে হাতেনাতে আটক করে ভুক্তভোগীর বাড়িতে নিয়ে যান।

ঘটনার পর স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি সালিশের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসা করার আশ্বাস দিয়ে অভিযুক্ত জজ মিয়াকে সেখান থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে যান। অভিযোগ রয়েছে, ওই রাতেই শিশুটির বাড়িতে সালিশ বৈঠক বসিয়ে তার ‘ইজ্জতের মূল্য’ ৫০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়। ওই টাকা ভুক্তভোগী পরিবারের হাতে দিয়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। তবে পরিবারের সদস্যরা এই অন্যায় আপস মেনে না নিয়ে পরদিন সকালে শিশুটিকে সঙ্গে নিয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

ভুক্তভোগী শিশুর বাবা অভিযোগ করে বলেন, জজ মিয়া ইতিপূর্বেও এলাকায় একই ধরনের অপকর্ম করেছেন। এমনকি তার বড় ভাইয়ের ছোট মেয়ের সঙ্গেও তিনি একই ধরনের অপরাধ করেছিলেন। সেই ঘটনার উপযুক্ত বিচার না হওয়ায় অভিযুক্ত জজ মিয়া পুনরায় এমন ঘটনা ঘটানোর সাহস পেয়েছেন। তিনি আরও জানান, থানায় অভিযোগ দেওয়ার পর থেকে একটি মহল ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে এবং প্রত্যক্ষদর্শীরা আতঙ্কে সাক্ষ্য দিতে ভয় পাচ্ছেন। এ অবস্থায় তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং ন্যায়বিচারের স্বার্থে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলমের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

ভুক্তভোগীর চাচা মো. নজরুল ইসলাম জানান, থানায় অভিযোগ দেওয়ার পর থেকে অভিযুক্তের লোকজন তাদের প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। প্রভাবশালী আসামির ভয়ে পুরো পরিবার নিয়ে তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন। এদিকে ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত জজ মিয়া পলাতক রয়েছেন। তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি, যার ফলে তার কোনো বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

ফরিদপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. মোবারক হোসেন বলেন, "ঘটনার খবর পেয়ে আমি ভিকটিমের খোঁজখবর নিতে তাদের বাড়িতে গিয়েছি। অন্যায়ের কোনো ছাড় নেই। তদন্তে অপরাধ প্রমাণিত হলে অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া প্রয়োজন। আর অভিযুক্ত নিরপরাধ হলে তাকেও মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া উচিত।"

কুলিয়ারচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী আরিফ উদ্দীন জানান, লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর প্রাথমিক তদন্ত শেষে থানায় মামলা রুজু করা হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং আসামিকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ভুক্তভোগী শিশুর ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন করার প্রক্রিয়া চলছে এবং পরীক্ষার পরেই ধর্ষণ নাকি ধর্ষণের চেষ্টা, সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh