ঢাকা ০২:৪২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নিজেদের প্রয়োজনে বিমান কিনছে বাংলাদেশ, কোনো পক্ষকে খুশি করতে নয় ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শেষ প্রান্তিকে জিডিপি প্রবৃদ্ধি বেড়ে ৪.৬ শতাংশ কটিয়াদীতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা বাড়াতে জামায়াতের কর্মসূচি ১০টি উড়োজাহাজ কিনতে এয়ারবাসের সাথে বিমান বাংলাদেশের চুক্তি সই মতিঝিলের আলোচিত বাংলার বাণী ভবন এখন প্রতিমন্ত্রীর কব্জায় সৌদির দুই বিমানবন্দরে হুতি হামলা, নিহত ৩ ও আহত ৩৬ বগুড়ায় কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য: পাঁচ মাসে ৩৯ খুন ভুল করে নাটোর স্টেশনে নেমে ল্যাপটপ ও ক্যামেরা হারালেন জার্মান পর্যটক যশোরে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার ওপর হামলা, পাঁচ দিনেও অধরা আসামিরা রাঙ্গামাটিতে ছাত্রলীগের সাবেক নেতাসহ ১১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ

নামাজে একাগ্রতা ও চোখের দৃষ্টি রাখার নিয়মাবলি

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৭:৪৯:৫৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬ ১৯ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



নামাজে আল্লাহকে কাছে পাওয়ার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো একনিষ্ঠতা ও একাগ্রতার সঙ্গে নামাজ আদায় করা। এই একাগ্রতা তৈরির একটি অন্যতম মাধ্যম হলো নামাজের সময় দৃষ্টি সংযত রাখা। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাত অনুযায়ী, নামাজের বিভিন্ন অবস্থায় চোখের দৃষ্টির নির্দিষ্ট স্থান রয়েছে। বিভিন্ন বর্ণনায় এসেছে যে, রাসুলুল্লাহ (সা.) নামাজে দাঁড়ানো এবং রুকু অবস্থায় সেজদার জায়গায় দৃষ্টি রাখতেন এবং বসা অবস্থায় শাহাদাত আঙুলের দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ রাখতেন (নাসায়ি : ১১৬০, ১২৭৫)।

আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) যখন নামাজে দাঁড়াতেন, তখন তিনি মাথা নিচু করে জমিনের দিকে দৃষ্টি নিক্ষেপ করতেন (মুসতাদরাকে হাকেম : ১/৪৭৯)। ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর মতে, নামাজের বিভিন্ন অবস্থায় দৃষ্টির স্থান হলো—দাঁড়ানো অবস্থায় সেজদার দিকে, রুকু অবস্থায় দুই পায়ের মাঝখানে, বসা অবস্থায় কোলের দিকে এবং সেজদা অবস্থায় নাকের দিকে (কিতাবুল মাবসুত, ১/২৮)। তবে কিছু ইমামের মতে, পুরো নামাজে দৃষ্টি সেজদার দিকে রাখাই উত্তম।

নামাজে দাঁড়িয়ে এদিক-সেদিক তাকানো উচিত নয়, কারণ এটি একাগ্রতা নষ্ট করে। আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, নামাজে এদিক-সেদিক তাকানো শয়তানের ছোঁ মারা, যা বান্দাকে নামাজে অমনোযোগী করে তোলে (বোখারি : ৭১৮)। তবে কোনো কারণে দৃষ্টি এদিক-সেদিক চলে গেলে নামাজ ভঙ্গ হবে না (আদ দুররুল মুখতার, ১/৪৭৯)।

নামাজে চোখ বন্ধ করে রাখা মাকরুহ। আল্লামা ইবনে হুমাম (রহ.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) চোখ বন্ধ করে নামাজ পড়তে নিষেধ করেছেন। নামাজে চোখ বন্ধ রাখলে সেজদার স্থানের দিকে তাকিয়ে নামাজ পড়ার সুন্নাত আমলটি ছুটে যায় (বাদায়েউস সানায়ে, ১/২১৬)।

নামাজে দাঁড়িয়ে এদিক-সেদিক তাকানো যাবে না। একাগ্রতা ধরে রাখতে হবে। পূর্ণ মনোযোগের সঙ্গে নামাজ আদায় করতে হবে। এদিক-সেদিক তাকানো শুভলক্ষণ নয়। আয়েশা (রা.) বলেন, ‘আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞেস করেছি, নামাজে এদিক-সেদিক তাকানোর ব্যাপারে আপনি কী বলেন? জবাবে তিনি বলেছেন, এটি হলো শয়তানের ছোঁ মারা, যা দিয়ে শয়তান আল্লাহর বান্দাদের নামাজ থেকে অমনোযোগী ও উদাসীন করে ফেলে।’ (বোখারি : ৭১৮)। তবে কোনোভাবে কারও দৃষ্টি এদিক-সেদিক চলে গেলে নামাজ ভঙ্গ হবে না। (আদ দুররুল মুখতার, ১/৪৪৭)।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Alokito Bangladesh

নিউজটি শেয়ার করুন

নামাজে একাগ্রতা ও চোখের দৃষ্টি রাখার নিয়মাবলি

আপডেট সময় : ০৭:৪৯:৫৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬

নামাজে আল্লাহকে কাছে পাওয়ার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো একনিষ্ঠতা ও একাগ্রতার সঙ্গে নামাজ আদায় করা। এই একাগ্রতা তৈরির একটি অন্যতম মাধ্যম হলো নামাজের সময় দৃষ্টি সংযত রাখা। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাত অনুযায়ী, নামাজের বিভিন্ন অবস্থায় চোখের দৃষ্টির নির্দিষ্ট স্থান রয়েছে। বিভিন্ন বর্ণনায় এসেছে যে, রাসুলুল্লাহ (সা.) নামাজে দাঁড়ানো এবং রুকু অবস্থায় সেজদার জায়গায় দৃষ্টি রাখতেন এবং বসা অবস্থায় শাহাদাত আঙুলের দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ রাখতেন (নাসায়ি : ১১৬০, ১২৭৫)।

আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) যখন নামাজে দাঁড়াতেন, তখন তিনি মাথা নিচু করে জমিনের দিকে দৃষ্টি নিক্ষেপ করতেন (মুসতাদরাকে হাকেম : ১/৪৭৯)। ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর মতে, নামাজের বিভিন্ন অবস্থায় দৃষ্টির স্থান হলো—দাঁড়ানো অবস্থায় সেজদার দিকে, রুকু অবস্থায় দুই পায়ের মাঝখানে, বসা অবস্থায় কোলের দিকে এবং সেজদা অবস্থায় নাকের দিকে (কিতাবুল মাবসুত, ১/২৮)। তবে কিছু ইমামের মতে, পুরো নামাজে দৃষ্টি সেজদার দিকে রাখাই উত্তম।

নামাজে দাঁড়িয়ে এদিক-সেদিক তাকানো উচিত নয়, কারণ এটি একাগ্রতা নষ্ট করে। আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, নামাজে এদিক-সেদিক তাকানো শয়তানের ছোঁ মারা, যা বান্দাকে নামাজে অমনোযোগী করে তোলে (বোখারি : ৭১৮)। তবে কোনো কারণে দৃষ্টি এদিক-সেদিক চলে গেলে নামাজ ভঙ্গ হবে না (আদ দুররুল মুখতার, ১/৪৭৯)।

নামাজে চোখ বন্ধ করে রাখা মাকরুহ। আল্লামা ইবনে হুমাম (রহ.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) চোখ বন্ধ করে নামাজ পড়তে নিষেধ করেছেন। নামাজে চোখ বন্ধ রাখলে সেজদার স্থানের দিকে তাকিয়ে নামাজ পড়ার সুন্নাত আমলটি ছুটে যায় (বাদায়েউস সানায়ে, ১/২১৬)।

নামাজে দাঁড়িয়ে এদিক-সেদিক তাকানো যাবে না। একাগ্রতা ধরে রাখতে হবে। পূর্ণ মনোযোগের সঙ্গে নামাজ আদায় করতে হবে। এদিক-সেদিক তাকানো শুভলক্ষণ নয়। আয়েশা (রা.) বলেন, ‘আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞেস করেছি, নামাজে এদিক-সেদিক তাকানোর ব্যাপারে আপনি কী বলেন? জবাবে তিনি বলেছেন, এটি হলো শয়তানের ছোঁ মারা, যা দিয়ে শয়তান আল্লাহর বান্দাদের নামাজ থেকে অমনোযোগী ও উদাসীন করে ফেলে।’ (বোখারি : ৭১৮)। তবে কোনোভাবে কারও দৃষ্টি এদিক-সেদিক চলে গেলে নামাজ ভঙ্গ হবে না। (আদ দুররুল মুখতার, ১/৪৪৭)।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Alokito Bangladesh