সিলেটে দম্পতি ও গৃহকর্মী হত্যা: তাহমিনার শরীরে ১৮ ছুরিকাঘাত
- আপডেট সময় : ১১:৪১:৪৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬ ২৫ বার পড়া হয়েছে

সিলেট নগরের রায়নগর এলাকায় দম্পতি ও তাদের গৃহকর্মীকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় বাবুল মিয়া নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার পর তাকে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। সিলেট কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান মো. মঈনুল জাকির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। নিহত দম্পতির সন্তান দেশে ফেরার পর শুক্রবার মামলার এজাহার দায়েরের সম্ভাবনা রয়েছে।
গত ১২ আগস্ট সকালে রায়নগর মিতালী আবাসিক এলাকার ১১১ নম্বর বাসার দোতলা থেকে আব্দুস সাত্তার (৮২), তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগম (৭২) ও গৃহকর্মী তাহমিনা (১৫)-এর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে দেখা গেছে, সুরাইয়া বেগমের ডান হাতের চারটি আঙুল কাটা ছিল এবং তার শরীরেও ধারালো অস্ত্রের আঘাত ছিল। আব্দুস সাত্তারের গলা ও ঘাড়ে একাধিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। এছাড়া গৃহকর্মী তাহমিনার শরীরে ১৭ থেকে ১৮টি ছুরিকাঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে।
পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বাবুল মিয়া জানিয়েছেন, তিনি ওই বাসায় রং মিস্ত্রির কাজ করার সময় তাহমিনার সঙ্গে পরিচিত হয়েছিলেন। তাহমিনার কোনো আচরণে ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি প্রথমে তাকে ছুরিকাঘাত করেন। এরপর সুরাইয়া বেগম তাকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে তিনিও ছুরিকাঘাতের শিকার হন। সবশেষে আব্দুস সাত্তারের সঙ্গে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে তাকেও হত্যা করা হয় বলে বাবুল দাবি করেছেন। এরপর তিনি বারান্দা দিয়ে পালিয়ে যান বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন।
তদন্তের অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার সকালে রায়নগরের একটি খালি জায়গা থেকে রক্তমাখা একটি ছোরা উদ্ধার করেছে পুলিশ। বাবুলের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই ছোরাটি উদ্ধার করা হয়। সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার (উত্তর) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য ছোরাটি পাঠানো হবে। ছোরার ধাতব অংশে শুকনো রক্তের দাগ এবং একটি ব্যাগেও রক্তের দাগ পাওয়া গেছে। এছাড়া ঘটনাস্থলের বেসিন ও হাত ধোয়ার স্থানে রক্তের চিহ্ন পাওয়া গেছে। উপপুলিশ কমিশনার আরও জানান, ঘটনাস্থলে দরজার নিচের ছোট ছিটকানি ভাঙা অবস্থায় পাওয়া গেছে এবং বাবুলের পালানোর বারান্দার রেলিংয়ে হাত ও পায়ের ছাপ এবং নিচে রক্তের চিহ্ন পাওয়া গেছে।


























