ইলিয়াস কাঞ্চনের বাসায় সুচন্দা ও চম্পা, আড্ডায় ফিরল সোনালি স্মৃতি
- আপডেট সময় : ০৬:৫২:১৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬ ২৬ বার পড়া হয়েছে

দীর্ঘ ১৫ মাস যুক্তরাজ্যে চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরেছেন বরেণ্য চিত্রনায়ক ও ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ (নিসচা)-এর চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চন। তাঁর ফেরার খবর শুনে গুলশানের বাসায় ছুটে এসেছিলেন চলচ্চিত্রের দুই প্রিয় সহকর্মী সুচন্দা ও চম্পা। গত শনিবার রাতের সেই কয়েক ঘণ্টার আড্ডায় হাসি, গান আর পুরোনো দিনের স্মৃতিচারণায় আবেগঘন এক পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
গুলশান ১ নম্বরের ১৩৬ নম্বর রোডের বাসায় শনিবার রাত আটটার দিকে আসেন দুই বোন সুচন্দা ও চম্পা। ইলিয়াস কাঞ্চনের ছেলে জয় তাঁদের স্বাগত জানান। কাঞ্চন তখন মাগরিবের নামাজ পড়ে ঘুমাচ্ছিলেন। রাত নয়টার দিকে ছেলে তাঁকে বসার ঘরে নিয়ে এলে প্রিয় সহকর্মীদের দেখে তাঁর মুখে হাসি ফোটে। এ সময় পরিচালক গাজী মাহবুবও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। শুরুতেই কাঞ্চনের হাতে ফুলের তোড়া তুলে দেওয়া হয়। একপর্যায়ে চম্পা যখন বলেন, ‘আমরা আপনাকে ভালোবাসি’, তখন কাঞ্চনও দুই হাত প্রসারিত করে তাঁর ভালোবাসার কথা জানান।
আড্ডার একপর্যায়ে ফিরে আসে সুচন্দা প্রযোজিত ‘তিনকন্যা’ সিনেমার স্মৃতি, যাতে অভিনয় করেছিলেন ইলিয়াস কাঞ্চন। দুই বোনের অনুরোধে তিনি গেয়ে শোনান ‘অচেনা’ ছবির জনপ্রিয় গান ‘আর যাব না আমেরিকা’। সুচন্দা ও চম্পাও তাঁর সঙ্গে ঠোঁট মেলান। এরপর কাঞ্চনের মুখে জমজমের পানি তুলে দেন চম্পা এবং উপহার হিসেবে কয়েকটি পাঞ্জাবি দেন, যা কাঞ্চনকে পরবর্তী সময়ে লন্ডনে যাওয়ার সময় সঙ্গে নিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করেন তিনি।
আড্ডা চলাকালীন সেখানে আরও হাজির হন অভিনেতা সুব্রত, জ্যাকি আলমগীর, প্রযোজক নেতা খোরশেদ আলম এবং চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির পক্ষে জয় চৌধুরী ও আবীর চৌধুরী। রাত সাড়ে দশটায় বিদায়ের সময় ঘনিয়ে আসে। লিফটে নামার সময় সুচন্দা জানান, চমৎকার আড্ডা হয়েছে এবং কাঞ্চন সাহেব এটি খুব উপভোগ করেছেন। এর আগে বরেণ্য অভিনেতা আলমগীর, রোজিনা, আনোয়ারা, তাঁর মেয়ে মুক্তি এবং দিতির মেয়ে লামিয়া চৌধুরীও কাঞ্চনকে দেখতে তাঁর বাসায় গিয়েছিলেন।
উল্লেখ্য, ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত হয়ে গত বছরের এপ্রিল থেকে লন্ডনে চিকিৎসাধীন ছিলেন ইলিয়াস কাঞ্চন। সেখানে গত বছরের আগস্টে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তাঁর টিউমারের বড় অংশ অপসারণ করা হলেও ঝুঁকি থাকায় পুরোটি সরানো যায়নি। চিকিৎসকেরা তাঁকে ব্রেন ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার কথা জানান। পারিবারিক সূত্রমতে, সপ্তাহে পাঁচ দিন করে ১২ সপ্তাহের চিকিৎসায় তাঁকে নিতে হয়েছে ৬০টির বেশি কেমোথেরাপি। এরপর তিন ধাপে প্রায় ১০০টি কেমোথেরাপি ও ওরাল থেরাপি শেষে গত ৩ আগস্ট তিনি দেশে ফেরেন।





























