বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগে ফিরতে পারে ম্যানেজিং কমিটি
- আপডেট সময় : ০৫:৩২:২৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬ ২৩ বার পড়া হয়েছে

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। বর্তমানে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশ করা হলেও, পুনরায় ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডির মাধ্যমে নিয়োগ দেয়ার বিষয়টি শিক্ষা মন্ত্রণালয় গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। বিষয়টি এখনো প্রাথমিক আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে এবং কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি।
গত ৩রা আগস্ট এই নিয়োগ পদ্ধতি নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে একটি বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় এনটিআরসিএ’র মাধ্যমে নিয়োগ সুপারিশের বর্তমান ব্যবস্থার পরিবর্তে ম্যানেজিং কমিটির হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়। জাতীয় সংসদে আইনমন্ত্রী এডভোকেট মো. আসাদুজ্জামানের বক্তব্যের সূত্র ধরেই এই বিষয়টি আলোচনায় এসেছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
বৈঠকে এনটিআরসিএ’র আইনি ভিত্তি এবং কার্যপরিধি নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। কর্মকর্তাদের মতে, সংস্থাটির মূল দায়িত্ব হলো শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা নেয়া এবং সনদ প্রদান করা, নিয়োগ সুপারিশ সরাসরি তাদের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না। এছাড়া এনটিআরসিএ’র মাধ্যমে নিয়োগের ফলে শিক্ষকদের নিজ জেলা বা উপজেলার বাইরে অনেক দূরের প্রতিষ্ঠানে যোগ দিতে হচ্ছে, যা নিয়ে অসন্তোষ রয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ে ম্যানেজিং কমিটির মাধ্যমে নিয়োগ দেয়া হলে শিক্ষকদের নিজ এলাকা বা জেলায় চাকরির সুযোগ বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, বিষয়টি বাস্তবায়নের আগে বিস্তারিত সমীক্ষা বা সার্ফেস স্টাডি করা হবে। ভালো-মন্দ সব দিক বিবেচনা করেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে। তবে শেষ পর্যন্ত ম্যানেজিং কমিটির হাতেই নিয়োগের দায়িত্ব ফিরে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
উল্লেখ্য, এনটিআরসিএ’র মাধ্যমে নিয়োগ সুপারিশ চালু হওয়ার আগে বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো নিজেরাই জাতীয় বা স্থানীয় দৈনিকে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতো। তখন ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডির অধীনে গঠিত বোর্ড লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে প্রার্থী নির্বাচন করতো। তবে তখনো এনটিআরসিএ’র নিবন্ধন সনদ থাকা বাধ্যতামূলক ছিল। ২০০৫ সালে এনটিআরসিএ প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর প্রথম এক দশক সংস্থাটি শুধু নিবন্ধন পরীক্ষা ও সনদ প্রদানের দায়িত্ব পালন করেছে। ২০১৫ সালের ৩০শে ডিসেম্বর থেকে তারা শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশ কার্যক্রম শুরু করে। এখন পর্যন্ত এনটিআরসিএ মোট এক লাখ ৭৭ হাজার ৫৭১ জন শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশ করেছে।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক জানান, শিক্ষক নিয়োগের বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি। সরকার সবদিক বিচার-বিশ্লেষণ করে যেটি জনস্বার্থে ভালো হবে, সেই সিদ্ধান্তই গ্রহণ করবে।





























