ঢাকা ১১:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রাজশাহীতে হত্যা মামলায় পান দোকানিকে ফাঁসানোর অভিযোগ, পরিবারের সংবাদ সম্মেলন উয়েফার বিরুদ্ধে ‘অপপ্রচার ও হয়রানির’ অভিযোগ আনল ফিফা ক্যালিফোর্নিয়ার সরকারি ছুটির তালিকায় যুক্ত হলো দুই ঈদ মনপুরায় ১০০ ইয়াবাসহ দুই যুবক আটক রণবীরের জন্মদিনে আলিয়ার বিশেষ পোস্ট, নেটদুনিয়ায় মুগ্ধতা ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন: ৬ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা সংসার সাজানোর আগেই ডেঙ্গুতে প্রাণ হারালেন চিকিৎসক আঁচল রায় জয়পুরহাটে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের দায়ে এক ব্যক্তির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ধ্বংসস্তূপের মাঝেও টিকে আছে গাজার মানুষের জীবন ও স্বপ্ন উগান্ডায় নতুন রাজা হিসেবে অভিষিক্ত হচ্ছেন সাংবাদিক এডওয়ার্ড রুকিদি

জুলাই জাদুঘরে অব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা ঝুঁকি, শহীদদের স্মৃতিচিহ্ন অরক্ষিত

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৪:৪৮:৫০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬ ১৪ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



কোনো প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাপনা বা নিরাপত্তা প্রটোকল ছাড়াই হুট করে চালু করা হয়েছে জুলাই স্মৃতি জাদুঘর। এই অব্যবস্থাপনার কারণে শহীদদের অমূল্য স্মৃতিচিহ্ন ও স্পর্শকাতর স্থাপনাসমূহ এখন বড় ধরনের হুমকির মুখে পড়েছে। এছাড়া জাদুঘরের গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক সেকশন ও স্মারক সরিয়ে ফেলার অভিযোগ ওঠায় ইতিহাস বিকৃতির শঙ্কাও তৈরি হয়েছে।

সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী কোনো ধরনের জনবল বা স্টাফ নিয়োগ না দিয়ে এবং সিকিউরিটি প্রটোকলের মহড়া ছাড়াই জাদুঘর খুলে দেওয়ার ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, এটি একটি কেপিআই ওয়ানভুক্ত ইনস্টলেশন হওয়া সত্ত্বেও কেন এমন এতিম দশায় ওপেন করা হলো, তা বোধগম্য নয়। শহীদদের স্মৃতিচিহ্ন ও ইলেকট্রনিক ইকুইপমেন্টের নিরাপত্তার বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়ে তিনি বলেন, যথাযথ স্টাফিং ও সিকিউরিটি প্রটোকল নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এটি সাময়িক বন্ধ রাখা যেত।

জাদুঘর প্রস্তুতির সঙ্গে যুক্ত এক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, বর্তমানে কোনো পেশাদার ব্যবস্থাপনা কমিটি নেই। এর ফলে গবেষকদেরও শ্রমিক ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীর মতো কাজ করতে হচ্ছে। পর্যাপ্ত লোকবলের অভাবে শহীদদের স্মৃতি স্মারকগুলো অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে। বিশেষ করে শহীদ ইব্রাহিমের সাইকেলের মতো বড় স্মারকগুলোর সামনে কেবল একটি লোহার শেকল দেওয়া হয়েছে, যা স্পর্শ করা থেকে দর্শনার্থীদের বিরত রাখার জন্য যথেষ্ট নয়। এছাড়া আন্দোলনের আইকনিক ছবি ও অন্যান্য ইনস্টলেশন মানুষের স্পর্শে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

জাদুঘরের অভ্যন্তরে নজরদারির অভাব থাকায় পথচারীরাও অবাধে প্রবেশ করছে, যা নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়িয়ে দিয়েছে। ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টের ভিকটিমদের জন্য নির্দিষ্ট রুমের বিশেষ ইনস্টলেশনগুলো সরিয়ে ফেলা হয়েছে এবং সীমান্ত হত্যাবিষয়ক রুমটিও বর্তমানে প্রায় ফাঁকা।

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম জাদুঘর পরিদর্শন শেষে অভিযোগ করেছেন যে, এখান থেকে সীমান্ত হত্যা ও মোদিবিরোধী আন্দোলনের স্মৃতি সরিয়ে ফেলা হয়েছে। তিনি জানান, বর্ডার কিলিং রুম, ফেলানীর ভাস্কর্য এবং লংমার্চ টু ঢাকা কর্মসূচির অংশগুলো অপসারণ করা হয়েছে। তিনি দ্রুত জনবল নিয়োগের আহ্বান জানিয়ে বলেন, ২০০ জনের প্রয়োজন থাকলেও বর্তমানে মাত্র ১৫-২০ জন স্বেচ্ছাসেবক দিয়ে কার্যক্রম চালানো হচ্ছে, যা জাদুঘরটিকে চরম নিরাপত্তাহীনতার মুখে ঠেলে দিয়েছে।

প্রকাশ : ০৯ আগস্ট ২০২৬, ১০: ৪৪আপডেট : ০৯ আগস্ট ২০২৬, ১১: ৫৬

এদিকে জুলাই জাদুঘর পরিদর্শন শেষে গতকাল শনিবার জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘সদ্য উদ্বোধন হওয়া জুলাই ৩৬ গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর থেকে সীমান্ত হত্যা এবং মোদিবিরোধী আন্দোলনের স্মৃতি সরিয়ে ফেলা হয়েছে।’

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh

নিউজটি শেয়ার করুন

জুলাই জাদুঘরে অব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা ঝুঁকি, শহীদদের স্মৃতিচিহ্ন অরক্ষিত

আপডেট সময় : ০৪:৪৮:৫০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬

কোনো প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাপনা বা নিরাপত্তা প্রটোকল ছাড়াই হুট করে চালু করা হয়েছে জুলাই স্মৃতি জাদুঘর। এই অব্যবস্থাপনার কারণে শহীদদের অমূল্য স্মৃতিচিহ্ন ও স্পর্শকাতর স্থাপনাসমূহ এখন বড় ধরনের হুমকির মুখে পড়েছে। এছাড়া জাদুঘরের গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক সেকশন ও স্মারক সরিয়ে ফেলার অভিযোগ ওঠায় ইতিহাস বিকৃতির শঙ্কাও তৈরি হয়েছে।

সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী কোনো ধরনের জনবল বা স্টাফ নিয়োগ না দিয়ে এবং সিকিউরিটি প্রটোকলের মহড়া ছাড়াই জাদুঘর খুলে দেওয়ার ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, এটি একটি কেপিআই ওয়ানভুক্ত ইনস্টলেশন হওয়া সত্ত্বেও কেন এমন এতিম দশায় ওপেন করা হলো, তা বোধগম্য নয়। শহীদদের স্মৃতিচিহ্ন ও ইলেকট্রনিক ইকুইপমেন্টের নিরাপত্তার বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়ে তিনি বলেন, যথাযথ স্টাফিং ও সিকিউরিটি প্রটোকল নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এটি সাময়িক বন্ধ রাখা যেত।

জাদুঘর প্রস্তুতির সঙ্গে যুক্ত এক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, বর্তমানে কোনো পেশাদার ব্যবস্থাপনা কমিটি নেই। এর ফলে গবেষকদেরও শ্রমিক ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীর মতো কাজ করতে হচ্ছে। পর্যাপ্ত লোকবলের অভাবে শহীদদের স্মৃতি স্মারকগুলো অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে। বিশেষ করে শহীদ ইব্রাহিমের সাইকেলের মতো বড় স্মারকগুলোর সামনে কেবল একটি লোহার শেকল দেওয়া হয়েছে, যা স্পর্শ করা থেকে দর্শনার্থীদের বিরত রাখার জন্য যথেষ্ট নয়। এছাড়া আন্দোলনের আইকনিক ছবি ও অন্যান্য ইনস্টলেশন মানুষের স্পর্শে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

জাদুঘরের অভ্যন্তরে নজরদারির অভাব থাকায় পথচারীরাও অবাধে প্রবেশ করছে, যা নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়িয়ে দিয়েছে। ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টের ভিকটিমদের জন্য নির্দিষ্ট রুমের বিশেষ ইনস্টলেশনগুলো সরিয়ে ফেলা হয়েছে এবং সীমান্ত হত্যাবিষয়ক রুমটিও বর্তমানে প্রায় ফাঁকা।

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম জাদুঘর পরিদর্শন শেষে অভিযোগ করেছেন যে, এখান থেকে সীমান্ত হত্যা ও মোদিবিরোধী আন্দোলনের স্মৃতি সরিয়ে ফেলা হয়েছে। তিনি জানান, বর্ডার কিলিং রুম, ফেলানীর ভাস্কর্য এবং লংমার্চ টু ঢাকা কর্মসূচির অংশগুলো অপসারণ করা হয়েছে। তিনি দ্রুত জনবল নিয়োগের আহ্বান জানিয়ে বলেন, ২০০ জনের প্রয়োজন থাকলেও বর্তমানে মাত্র ১৫-২০ জন স্বেচ্ছাসেবক দিয়ে কার্যক্রম চালানো হচ্ছে, যা জাদুঘরটিকে চরম নিরাপত্তাহীনতার মুখে ঠেলে দিয়েছে।

প্রকাশ : ০৯ আগস্ট ২০২৬, ১০: ৪৪আপডেট : ০৯ আগস্ট ২০২৬, ১১: ৫৬

এদিকে জুলাই জাদুঘর পরিদর্শন শেষে গতকাল শনিবার জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘সদ্য উদ্বোধন হওয়া জুলাই ৩৬ গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর থেকে সীমান্ত হত্যা এবং মোদিবিরোধী আন্দোলনের স্মৃতি সরিয়ে ফেলা হয়েছে।’

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh