ঢাকা ০৪:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মধ্যপ্রাচ্যের সংকট কাটলে জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় করবে সরকার মেধাভিত্তিক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে শিক্ষার্থীদের প্রতি ডেপুটি স্পিকারের আহ্বান আবু ইয়াকুব ইউসুফ আল-কুমি: ইবন আরাবির বর্ণনায় এক সুফি সাধক সোনারগাঁয়ে মাদক ও সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে গ্রেপ্তার ১২ ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহে ট্যাব ও প্রশিক্ষণ শুরু সমাজসেবা অধিদপ্তরের জাতিসংঘে আজ প্রথম ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান না ফেরার দেশে প্রখ্যাত শিশুসাহিত্যিক আখতার হুসেন বঙ্গভবনের সিংহ পুকুরে মাছের পোনা অবমুক্ত করলেন প্রেসিডেন্ট বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কমল, কারণ জানাল রয়টার্স টেকসই উন্নয়নে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির আহ্বান ববি হাজ্জাজের

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ অবসানের পথ খুঁজছেন শীর্ষ মার্কিন জেনারেল

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০১:০৩:৫৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬ ১৭ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



গত কয়েক সপ্তাহ ধরে যুক্তরাষ্ট্রের জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন ডনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে ব্যক্তিগত আলোচনায় ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসার একটি পথ খোঁজার ওপর জোর দিচ্ছেন। সিএনএনের তিনটি সূত্রের বরাতে জানা গেছে, কেইন মনে করছেন বিদ্যমান সামরিক বিকল্পগুলো সংঘাত আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে এবং কেবল বিমানশক্তি ব্যবহার করে ট্রাম্পের লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব হওয়ার সম্ভাবনা কম।

জেনারেল কেইন সিআইএ পরিচালক জন র‌্যাটক্লিফ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সসহ গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাদাভাবে বৈঠক করেছেন। এই আলোচনার মূল উদ্দেশ্য ছিল বিভিন্ন সরকারি সংস্থার মধ্যে সমন্বয় বজায় রাখা এবং স্থলসেনা না পাঠিয়েও যেসব সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব, সেগুলোর সীমাবদ্ধতা ও ঝুঁকি সম্পর্কে প্রশাসনকে স্পষ্ট ধারণা দেওয়া। ট্রাম্প বরাবরই ইরানে স্থলসেনা পাঠানোর ব্যাপারে অনাগ্রহী, তবে বিমান হামলার মাধ্যমে তেহরানকে চুক্তিতে রাজি করানোর যে ধারণা তিনি পোষণ করেন, কেইন ও প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তারা ব্যক্তিগতভাবে সেটির সফলতার সম্ভাবনা কম বলেই মনে করছেন।

জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা হিসেবে কেইনের এই অবস্থান অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ তিনি ব্যক্তিগতভাবে বলছেন যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের শুরু করা এই যুদ্ধের কোনো সহজ সামরিক সমাধান নেই। কেইনের মুখপাত্র জোসেফ হলস্টেড সরাসরি কোনো মন্তব্য না করলেও হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জাতীয় নিরাপত্তা দলের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হিসেবে কেইন নির্ভুল ও পক্ষপাতহীন তথ্য দিয়ে সহায়তা করছেন।

সামরিক সক্ষমতার সীমাবদ্ধতা নিয়ে কেইনের উদ্বেগের কারণে জুলাইয়ের শেষ দিকে বড় ধরনের অভিযানের পরিকল্পনা থেকেও ট্রাম্প পিছু হটেন। মধ্যপ্রাচ্যের মিত্রদের কাছ থেকে জ্বালানি অবকাঠামোয় পাল্টা হামলার আশঙ্কার কথা শোনার পাশাপাশি মার্কিন গোলাবারুদের মজুত কমে যাওয়াও এই সিদ্ধান্তে ভূমিকা রেখেছে। কেইন ও উপসাগরীয় দেশগুলোর কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন যে, অতিরিক্ত সংঘাত ইরানের পাল্টা হামলাকে নিশ্চিত করতে পারে এবং এতে মার্কিন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর চাপ বাড়বে।

ট্রাম্পের সঙ্গে নিজের সম্পর্ক অক্ষুণ্ন রাখতে কেইন অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে সামরিক বিকল্পগুলোর নেতিবাচক দিক তুলে ধরছেন। হোয়াইট হাউসে নিয়মিত ব্রিফিংয়ের জন্য জায়গা পাওয়ার চেষ্টা করা কেইন বৈঠকে স্বীকার করেছেন যে, অভিযান চালালে যুক্তরাষ্ট্র ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালাতে সক্ষম, তবে তিনি একই সঙ্গে বিমানবাহিনীর সীমাবদ্ধতার কথাও বারবার মনে করিয়ে দিচ্ছেন।

যুদ্ধের ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও কোনো চূড়ান্ত সাফল্যের অভাবে পেন্টাগন ও সেন্ট্রাল কমান্ড এখন নতুন ও সৃজনশীল উপায়ে কৌশল পুনর্মূল্যায়ন করতে বাধ্য হচ্ছে। কেইন ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা এখন এমন একটি ‘বেরিয়ে আসার পথ’ খুঁজছেন, যা ট্রাম্পকে একটি প্রতীকী বিজয় প্রদর্শনের সুযোগ দেবে এবং একই সঙ্গে কূটনৈতিক সমঝোতার পথও খোলা রাখবে। এর একটি সম্ভাব্য উপায় হতে পারে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে একটি চুক্তি।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin

নিউজটি শেয়ার করুন

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ অবসানের পথ খুঁজছেন শীর্ষ মার্কিন জেনারেল

আপডেট সময় : ০১:০৩:৫৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬

গত কয়েক সপ্তাহ ধরে যুক্তরাষ্ট্রের জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন ডনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে ব্যক্তিগত আলোচনায় ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসার একটি পথ খোঁজার ওপর জোর দিচ্ছেন। সিএনএনের তিনটি সূত্রের বরাতে জানা গেছে, কেইন মনে করছেন বিদ্যমান সামরিক বিকল্পগুলো সংঘাত আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে এবং কেবল বিমানশক্তি ব্যবহার করে ট্রাম্পের লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব হওয়ার সম্ভাবনা কম।

জেনারেল কেইন সিআইএ পরিচালক জন র‌্যাটক্লিফ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সসহ গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাদাভাবে বৈঠক করেছেন। এই আলোচনার মূল উদ্দেশ্য ছিল বিভিন্ন সরকারি সংস্থার মধ্যে সমন্বয় বজায় রাখা এবং স্থলসেনা না পাঠিয়েও যেসব সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব, সেগুলোর সীমাবদ্ধতা ও ঝুঁকি সম্পর্কে প্রশাসনকে স্পষ্ট ধারণা দেওয়া। ট্রাম্প বরাবরই ইরানে স্থলসেনা পাঠানোর ব্যাপারে অনাগ্রহী, তবে বিমান হামলার মাধ্যমে তেহরানকে চুক্তিতে রাজি করানোর যে ধারণা তিনি পোষণ করেন, কেইন ও প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তারা ব্যক্তিগতভাবে সেটির সফলতার সম্ভাবনা কম বলেই মনে করছেন।

জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা হিসেবে কেইনের এই অবস্থান অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ তিনি ব্যক্তিগতভাবে বলছেন যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের শুরু করা এই যুদ্ধের কোনো সহজ সামরিক সমাধান নেই। কেইনের মুখপাত্র জোসেফ হলস্টেড সরাসরি কোনো মন্তব্য না করলেও হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জাতীয় নিরাপত্তা দলের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হিসেবে কেইন নির্ভুল ও পক্ষপাতহীন তথ্য দিয়ে সহায়তা করছেন।

সামরিক সক্ষমতার সীমাবদ্ধতা নিয়ে কেইনের উদ্বেগের কারণে জুলাইয়ের শেষ দিকে বড় ধরনের অভিযানের পরিকল্পনা থেকেও ট্রাম্প পিছু হটেন। মধ্যপ্রাচ্যের মিত্রদের কাছ থেকে জ্বালানি অবকাঠামোয় পাল্টা হামলার আশঙ্কার কথা শোনার পাশাপাশি মার্কিন গোলাবারুদের মজুত কমে যাওয়াও এই সিদ্ধান্তে ভূমিকা রেখেছে। কেইন ও উপসাগরীয় দেশগুলোর কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন যে, অতিরিক্ত সংঘাত ইরানের পাল্টা হামলাকে নিশ্চিত করতে পারে এবং এতে মার্কিন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর চাপ বাড়বে।

ট্রাম্পের সঙ্গে নিজের সম্পর্ক অক্ষুণ্ন রাখতে কেইন অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে সামরিক বিকল্পগুলোর নেতিবাচক দিক তুলে ধরছেন। হোয়াইট হাউসে নিয়মিত ব্রিফিংয়ের জন্য জায়গা পাওয়ার চেষ্টা করা কেইন বৈঠকে স্বীকার করেছেন যে, অভিযান চালালে যুক্তরাষ্ট্র ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালাতে সক্ষম, তবে তিনি একই সঙ্গে বিমানবাহিনীর সীমাবদ্ধতার কথাও বারবার মনে করিয়ে দিচ্ছেন।

যুদ্ধের ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও কোনো চূড়ান্ত সাফল্যের অভাবে পেন্টাগন ও সেন্ট্রাল কমান্ড এখন নতুন ও সৃজনশীল উপায়ে কৌশল পুনর্মূল্যায়ন করতে বাধ্য হচ্ছে। কেইন ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা এখন এমন একটি ‘বেরিয়ে আসার পথ’ খুঁজছেন, যা ট্রাম্পকে একটি প্রতীকী বিজয় প্রদর্শনের সুযোগ দেবে এবং একই সঙ্গে কূটনৈতিক সমঝোতার পথও খোলা রাখবে। এর একটি সম্ভাব্য উপায় হতে পারে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে একটি চুক্তি।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin