ঢাকা ০৬:২৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রাজশাহীতে হত্যা মামলায় পান দোকানিকে ফাঁসানোর অভিযোগ, পরিবারের সংবাদ সম্মেলন উয়েফার বিরুদ্ধে ‘অপপ্রচার ও হয়রানির’ অভিযোগ আনল ফিফা ক্যালিফোর্নিয়ার সরকারি ছুটির তালিকায় যুক্ত হলো দুই ঈদ মনপুরায় ১০০ ইয়াবাসহ দুই যুবক আটক রণবীরের জন্মদিনে আলিয়ার বিশেষ পোস্ট, নেটদুনিয়ায় মুগ্ধতা ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন: ৬ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা সংসার সাজানোর আগেই ডেঙ্গুতে প্রাণ হারালেন চিকিৎসক আঁচল রায় জয়পুরহাটে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের দায়ে এক ব্যক্তির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ধ্বংসস্তূপের মাঝেও টিকে আছে গাজার মানুষের জীবন ও স্বপ্ন উগান্ডায় নতুন রাজা হিসেবে অভিষিক্ত হচ্ছেন সাংবাদিক এডওয়ার্ড রুকিদি

হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ওমানের সঙ্গে চুক্তির পথে ইরান

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০২:২০:৪৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৭ অগাস্ট ২০২৬ ২১ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল ও এই জলপথের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ওমানের সঙ্গে একটি চূড়ান্ত চুক্তির পথে রয়েছে ইরান। গত বুধবার রাতে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই ওমানের সঙ্গে প্রাথমিক ঐকমত্যের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বর্তমানে চূড়ান্ত পর্যালোচনা চলছে এবং শিগগিরই চুক্তিটি ঘোষণা করা হতে পারে।

প্রাথমিক সমঝোতা অনুযায়ী, চুক্তি চূড়ান্ত হলে হরমুজ দিয়ে পারস্য উপসাগরে প্রবেশ ও বের হওয়ার পথের নিয়ন্ত্রণ তেহরানের হাতে থাকবে। ইরানের পররাষ্ট্র উপমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এছাড়া কিংস কলেজ লন্ডনের শিক্ষক রব জেইস্ট পিনফোল্ডের মতে, এই সমঝোতার আওতায় হরমুজে দুটি পথ থাকবে—একটি ইরানের উপকূল দিয়ে এবং অন্যটি ওমানের উপকূল দিয়ে। তবে যুদ্ধের আগের তুলনায় এই নতুন পথে জাহাজ চলাচলের সক্ষমতা কিছুটা সীমিত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

চুক্তির অন্যতম প্রধান বিষয় হলো সেবা ফি বা টোল আদায়ের প্রক্রিয়া। ইরান ও ওমানের মধ্যে এ নিয়ে কিছুটা মতভেদ রয়েছে। তেহরান জাহাজে থাকা পণ্যের মূল্যের ৫ থেকে ৭ শতাংশ ফি হিসেবে নিতে চায়, অন্যদিকে ওমান তা ৩ শতাংশে নামিয়ে আনার পক্ষে আলোচনা করছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র অবশ্য যেকোনো ধরনের ফি আদায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে এবং এই আলোচনায় তাদের যুক্ত করা হয়নি।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান–যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ রেখেছে তেহরান, যা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করেছে। এই জলপথ দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ জ্বালানি পরিবহন করা হতো। ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন মার্কিন প্রশাসন প্রণালিটি পুনরায় সচল করতে মরিয়া হলেও ইরান তাদের অবস্থানে অনড় রয়েছে।

ইরানি কর্তৃপক্ষের দাবি, হরমুজে তাদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার অর্থ হলো আঞ্চলিক ক্ষমতার ভারসাম্যে তেহরানের অবস্থান শক্তিশালী হওয়া। তবে উপসাগর থেকে বেরিয়ে যাওয়া জাহাজগুলোর ওপর ইরানের কর্তৃত্ব কেমন হবে, তা নিয়ে এখনও পর্যালোচনা চলছে। বৃহস্পতিবারের মধ্যে চুক্তি ঘোষণার সম্ভাবনা থাকলেও, যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ এবং যুদ্ধ বন্ধে আলোচনার অভাবের কারণে সংকট পুরোপুরি কেটে যাবে কি না, তা নিয়ে বিশ্লেষকদের সংশয় রয়েই গেছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

নিউজটি শেয়ার করুন

হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ওমানের সঙ্গে চুক্তির পথে ইরান

আপডেট সময় : ০২:২০:৪৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৭ অগাস্ট ২০২৬

হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল ও এই জলপথের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ওমানের সঙ্গে একটি চূড়ান্ত চুক্তির পথে রয়েছে ইরান। গত বুধবার রাতে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই ওমানের সঙ্গে প্রাথমিক ঐকমত্যের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বর্তমানে চূড়ান্ত পর্যালোচনা চলছে এবং শিগগিরই চুক্তিটি ঘোষণা করা হতে পারে।

প্রাথমিক সমঝোতা অনুযায়ী, চুক্তি চূড়ান্ত হলে হরমুজ দিয়ে পারস্য উপসাগরে প্রবেশ ও বের হওয়ার পথের নিয়ন্ত্রণ তেহরানের হাতে থাকবে। ইরানের পররাষ্ট্র উপমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এছাড়া কিংস কলেজ লন্ডনের শিক্ষক রব জেইস্ট পিনফোল্ডের মতে, এই সমঝোতার আওতায় হরমুজে দুটি পথ থাকবে—একটি ইরানের উপকূল দিয়ে এবং অন্যটি ওমানের উপকূল দিয়ে। তবে যুদ্ধের আগের তুলনায় এই নতুন পথে জাহাজ চলাচলের সক্ষমতা কিছুটা সীমিত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

চুক্তির অন্যতম প্রধান বিষয় হলো সেবা ফি বা টোল আদায়ের প্রক্রিয়া। ইরান ও ওমানের মধ্যে এ নিয়ে কিছুটা মতভেদ রয়েছে। তেহরান জাহাজে থাকা পণ্যের মূল্যের ৫ থেকে ৭ শতাংশ ফি হিসেবে নিতে চায়, অন্যদিকে ওমান তা ৩ শতাংশে নামিয়ে আনার পক্ষে আলোচনা করছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র অবশ্য যেকোনো ধরনের ফি আদায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে এবং এই আলোচনায় তাদের যুক্ত করা হয়নি।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান–যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ রেখেছে তেহরান, যা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করেছে। এই জলপথ দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ জ্বালানি পরিবহন করা হতো। ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন মার্কিন প্রশাসন প্রণালিটি পুনরায় সচল করতে মরিয়া হলেও ইরান তাদের অবস্থানে অনড় রয়েছে।

ইরানি কর্তৃপক্ষের দাবি, হরমুজে তাদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার অর্থ হলো আঞ্চলিক ক্ষমতার ভারসাম্যে তেহরানের অবস্থান শক্তিশালী হওয়া। তবে উপসাগর থেকে বেরিয়ে যাওয়া জাহাজগুলোর ওপর ইরানের কর্তৃত্ব কেমন হবে, তা নিয়ে এখনও পর্যালোচনা চলছে। বৃহস্পতিবারের মধ্যে চুক্তি ঘোষণার সম্ভাবনা থাকলেও, যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ এবং যুদ্ধ বন্ধে আলোচনার অভাবের কারণে সংকট পুরোপুরি কেটে যাবে কি না, তা নিয়ে বিশ্লেষকদের সংশয় রয়েই গেছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo