ঢাকা ১২:৪৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নাটোর সদর উপজেলায় বক্তব্য দেওয়ার সময় মারা গেলেন মাদ্রাসা শিক্ষক রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে পাঁচ দফা প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘের মঞ্চে ট্রাম্পের উদ্দেশে কঠোর বার্তা দিলেন ইরানি প্রেসিডেন্ট ওমান উপকূলে মিসাইল হামলার কবলে বাংলাদেশি নাবিকদের জাহাজ ইবির সাদ্দাম হলের একই কক্ষের তিন বন্ধু হলেন সিভিল জজ যুক্তরাষ্ট্রের চাপের কাছে নতি স্বীকার করবে না ইরান: পেজেশকিয়ান নিউইয়র্কে গেটস ফাউন্ডেশনের সিইও মার্ক সুজম্যানের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক মাদারগঞ্জে অনিয়মের দায়ে দুই ফার্মেসিকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা নেত্রকোনা-১ আসনের সাবেক এমপি মোশতাক আহমেদ রুহী গ্রেপ্তার নিউ ইয়র্কে নামছে না নেতানিয়াহুর উড়োজাহাজ

টার্মিনাল আংশিক চালু হলেও ২০ আগস্টের আগে কাটছে না গ্যাস সংকট

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৬:০৭:৩১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬ ১৬ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর অবশেষে আংশিকভাবে চালু হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ)। গত বুধবার সন্ধ্যার পর থেকে এই টার্মিনাল থেকে জাতীয় গ্রিডে সীমিত আকারে এলএনজি সরবরাহ শুরু হয়েছে। তবে টার্মিনালটি চালু হলেও দেশের গ্যাস সংকট এখনই কাটছে না। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, আগামী ২০ আগস্ট পর্যন্ত নতুন কোনো এলএনজি কার্গো পাওয়া যাচ্ছে না, যার ফলে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়া নিয়ে বড় ধরনের সংশয় দেখা দিয়েছে। তবে পেট্রোবাংলার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান জানিয়েছেন, স্পট মার্কেট থেকে দ্রুত এলএনজি কিনে সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সব ধরনের চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

কক্সবাজারের মহেশখালীতে আমদানি করা এলএনজি রূপান্তরের জন্য দুটি ভাসমান টার্মিনাল রয়েছে। এর একটি পরিচালনা করে মার্কিন প্রতিষ্ঠান এক্সিলারেট এনার্জি এবং অন্যটি দেশীয় প্রতিষ্ঠান সামিট গ্রুপ। গত ২১ জুলাই এক্সিলারেটের টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে গ্যাস সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়, যার প্রভাব পড়ে সারা দেশের গ্যাস সরবরাহে।

পেট্রোবাংলা সূত্রে জানা গেছে, এক্সিলারেট এনার্জির একটি বয়লার সচল হওয়ায় বুধবার সন্ধ্যা থেকে তাদের মজুত থাকা এলএনজি পুনরায় গ্যাসীয় অবস্থায় রূপান্তর করে জাতীয় গ্রিডে পাঠানো হচ্ছে। তবে এই সরবরাহের পরিমাণ অত্যন্ত কম। এদিকে, ব্রিটিশ পেট্রোলিয়ামের সরবরাহ করা আরেকটি এলএনজিবাহী কার্গো বাংলাদেশের জলসীমায় পৌঁছে গেছে এবং এটি এক্সিলারেটের টার্মিনালের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার প্রক্রিয়ায় রয়েছে। এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে শুক্রবার থেকে দৈনিক ২০ থেকে ৩০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হতে পারে।

তবে আগামী ২০ আগস্ট পর্যন্ত নতুন কার্গো না থাকায় বড় ধরনের সংকট রয়েই যাচ্ছে। সরকারি কর্মকর্তারা জানান, গত ২৮ জুলাই এলএনজি রূপান্তরকারী কোম্পানি আরপিজিসিএল আগস্টের ১০ থেকে ১৬ তারিখের মধ্যে স্পট মার্কেট থেকে ৩ কার্গো এলএনজি আমদানির জন্য আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করেছিল। কিন্তু দরপত্রে শুধু ১৫-১৬ আগস্টের জন্য একটি কার্গো সরবরাহের প্রস্তাব দেয় ভিটল এশিয়া। এই এক কার্গো এলএনজি কিনতে সরকারের ব্যয় হচ্ছে ৯৪৯ কোটি ৪৩ লাখ টাকারও বেশি। অন্যদিকে, ১০ থেকে ১৪ আগস্টের মধ্যে এলএনজি সরবরাহের জন্য কোনো কোম্পানিই সাড়া দেয়নি।

এমন পরিস্থিতিতে বিভিন্ন কোম্পানির সঙ্গে আলোচনার পর সৌদি আরবের আরামকো আগামী ১২-১৩ আগস্ট এলএনজি সরবরাহে রাজি হয়েছে। তবে এজন্য প্রতি ইউনিটের দাম পড়বে ২১ ডলারের বেশি। আরামকোর এই প্রস্তাবটি আজ সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতে অনুমোদনের জন্য উঠতে পারে এবং অনুমোদন পেলে তাদের চূড়ান্ত ক্রয়াদেশ দেওয়া হবে।

দেশে সাধারণত দৈনিক ২৬৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হতো, যার মধ্যে ১১০ কোটি ঘনফুটের বেশি আসত এলএনজি থেকে। কিন্তু ২১ জুলাইয়ের দুর্ঘটনার পর থেকে সরবরাহ কমে দৈনিক ২১৩ থেকে ২১৪ কোটি ঘনফুটে নেমে এসেছে। তীব্র গ্যাস সংকটের কারণে দেশের প্রায় সব শিল্পকারখানার উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে এবং অনেক প্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Jugantor

নিউজটি শেয়ার করুন

টার্মিনাল আংশিক চালু হলেও ২০ আগস্টের আগে কাটছে না গ্যাস সংকট

আপডেট সময় : ০৬:০৭:৩১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬

দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর অবশেষে আংশিকভাবে চালু হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ)। গত বুধবার সন্ধ্যার পর থেকে এই টার্মিনাল থেকে জাতীয় গ্রিডে সীমিত আকারে এলএনজি সরবরাহ শুরু হয়েছে। তবে টার্মিনালটি চালু হলেও দেশের গ্যাস সংকট এখনই কাটছে না। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, আগামী ২০ আগস্ট পর্যন্ত নতুন কোনো এলএনজি কার্গো পাওয়া যাচ্ছে না, যার ফলে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়া নিয়ে বড় ধরনের সংশয় দেখা দিয়েছে। তবে পেট্রোবাংলার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান জানিয়েছেন, স্পট মার্কেট থেকে দ্রুত এলএনজি কিনে সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সব ধরনের চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

কক্সবাজারের মহেশখালীতে আমদানি করা এলএনজি রূপান্তরের জন্য দুটি ভাসমান টার্মিনাল রয়েছে। এর একটি পরিচালনা করে মার্কিন প্রতিষ্ঠান এক্সিলারেট এনার্জি এবং অন্যটি দেশীয় প্রতিষ্ঠান সামিট গ্রুপ। গত ২১ জুলাই এক্সিলারেটের টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে গ্যাস সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়, যার প্রভাব পড়ে সারা দেশের গ্যাস সরবরাহে।

পেট্রোবাংলা সূত্রে জানা গেছে, এক্সিলারেট এনার্জির একটি বয়লার সচল হওয়ায় বুধবার সন্ধ্যা থেকে তাদের মজুত থাকা এলএনজি পুনরায় গ্যাসীয় অবস্থায় রূপান্তর করে জাতীয় গ্রিডে পাঠানো হচ্ছে। তবে এই সরবরাহের পরিমাণ অত্যন্ত কম। এদিকে, ব্রিটিশ পেট্রোলিয়ামের সরবরাহ করা আরেকটি এলএনজিবাহী কার্গো বাংলাদেশের জলসীমায় পৌঁছে গেছে এবং এটি এক্সিলারেটের টার্মিনালের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার প্রক্রিয়ায় রয়েছে। এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে শুক্রবার থেকে দৈনিক ২০ থেকে ৩০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হতে পারে।

তবে আগামী ২০ আগস্ট পর্যন্ত নতুন কার্গো না থাকায় বড় ধরনের সংকট রয়েই যাচ্ছে। সরকারি কর্মকর্তারা জানান, গত ২৮ জুলাই এলএনজি রূপান্তরকারী কোম্পানি আরপিজিসিএল আগস্টের ১০ থেকে ১৬ তারিখের মধ্যে স্পট মার্কেট থেকে ৩ কার্গো এলএনজি আমদানির জন্য আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করেছিল। কিন্তু দরপত্রে শুধু ১৫-১৬ আগস্টের জন্য একটি কার্গো সরবরাহের প্রস্তাব দেয় ভিটল এশিয়া। এই এক কার্গো এলএনজি কিনতে সরকারের ব্যয় হচ্ছে ৯৪৯ কোটি ৪৩ লাখ টাকারও বেশি। অন্যদিকে, ১০ থেকে ১৪ আগস্টের মধ্যে এলএনজি সরবরাহের জন্য কোনো কোম্পানিই সাড়া দেয়নি।

এমন পরিস্থিতিতে বিভিন্ন কোম্পানির সঙ্গে আলোচনার পর সৌদি আরবের আরামকো আগামী ১২-১৩ আগস্ট এলএনজি সরবরাহে রাজি হয়েছে। তবে এজন্য প্রতি ইউনিটের দাম পড়বে ২১ ডলারের বেশি। আরামকোর এই প্রস্তাবটি আজ সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতে অনুমোদনের জন্য উঠতে পারে এবং অনুমোদন পেলে তাদের চূড়ান্ত ক্রয়াদেশ দেওয়া হবে।

দেশে সাধারণত দৈনিক ২৬৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হতো, যার মধ্যে ১১০ কোটি ঘনফুটের বেশি আসত এলএনজি থেকে। কিন্তু ২১ জুলাইয়ের দুর্ঘটনার পর থেকে সরবরাহ কমে দৈনিক ২১৩ থেকে ২১৪ কোটি ঘনফুটে নেমে এসেছে। তীব্র গ্যাস সংকটের কারণে দেশের প্রায় সব শিল্পকারখানার উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে এবং অনেক প্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Jugantor