
দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর অবশেষে আংশিকভাবে চালু হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ)। গত বুধবার সন্ধ্যার পর থেকে এই টার্মিনাল থেকে জাতীয় গ্রিডে সীমিত আকারে এলএনজি সরবরাহ শুরু হয়েছে। তবে টার্মিনালটি চালু হলেও দেশের গ্যাস সংকট এখনই কাটছে না। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, আগামী ২০ আগস্ট পর্যন্ত নতুন কোনো এলএনজি কার্গো পাওয়া যাচ্ছে না, যার ফলে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়া নিয়ে বড় ধরনের সংশয় দেখা দিয়েছে। তবে পেট্রোবাংলার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান জানিয়েছেন, স্পট মার্কেট থেকে দ্রুত এলএনজি কিনে সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সব ধরনের চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
কক্সবাজারের মহেশখালীতে আমদানি করা এলএনজি রূপান্তরের জন্য দুটি ভাসমান টার্মিনাল রয়েছে। এর একটি পরিচালনা করে মার্কিন প্রতিষ্ঠান এক্সিলারেট এনার্জি এবং অন্যটি দেশীয় প্রতিষ্ঠান সামিট গ্রুপ। গত ২১ জুলাই এক্সিলারেটের টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে গ্যাস সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়, যার প্রভাব পড়ে সারা দেশের গ্যাস সরবরাহে।
পেট্রোবাংলা সূত্রে জানা গেছে, এক্সিলারেট এনার্জির একটি বয়লার সচল হওয়ায় বুধবার সন্ধ্যা থেকে তাদের মজুত থাকা এলএনজি পুনরায় গ্যাসীয় অবস্থায় রূপান্তর করে জাতীয় গ্রিডে পাঠানো হচ্ছে। তবে এই সরবরাহের পরিমাণ অত্যন্ত কম। এদিকে, ব্রিটিশ পেট্রোলিয়ামের সরবরাহ করা আরেকটি এলএনজিবাহী কার্গো বাংলাদেশের জলসীমায় পৌঁছে গেছে এবং এটি এক্সিলারেটের টার্মিনালের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার প্রক্রিয়ায় রয়েছে। এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে শুক্রবার থেকে দৈনিক ২০ থেকে ৩০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হতে পারে।
তবে আগামী ২০ আগস্ট পর্যন্ত নতুন কার্গো না থাকায় বড় ধরনের সংকট রয়েই যাচ্ছে। সরকারি কর্মকর্তারা জানান, গত ২৮ জুলাই এলএনজি রূপান্তরকারী কোম্পানি আরপিজিসিএল আগস্টের ১০ থেকে ১৬ তারিখের মধ্যে স্পট মার্কেট থেকে ৩ কার্গো এলএনজি আমদানির জন্য আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করেছিল। কিন্তু দরপত্রে শুধু ১৫-১৬ আগস্টের জন্য একটি কার্গো সরবরাহের প্রস্তাব দেয় ভিটল এশিয়া। এই এক কার্গো এলএনজি কিনতে সরকারের ব্যয় হচ্ছে ৯৪৯ কোটি ৪৩ লাখ টাকারও বেশি। অন্যদিকে, ১০ থেকে ১৪ আগস্টের মধ্যে এলএনজি সরবরাহের জন্য কোনো কোম্পানিই সাড়া দেয়নি।
এমন পরিস্থিতিতে বিভিন্ন কোম্পানির সঙ্গে আলোচনার পর সৌদি আরবের আরামকো আগামী ১২-১৩ আগস্ট এলএনজি সরবরাহে রাজি হয়েছে। তবে এজন্য প্রতি ইউনিটের দাম পড়বে ২১ ডলারের বেশি। আরামকোর এই প্রস্তাবটি আজ সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতে অনুমোদনের জন্য উঠতে পারে এবং অনুমোদন পেলে তাদের চূড়ান্ত ক্রয়াদেশ দেওয়া হবে।
দেশে সাধারণত দৈনিক ২৬৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হতো, যার মধ্যে ১১০ কোটি ঘনফুটের বেশি আসত এলএনজি থেকে। কিন্তু ২১ জুলাইয়ের দুর্ঘটনার পর থেকে সরবরাহ কমে দৈনিক ২১৩ থেকে ২১৪ কোটি ঘনফুটে নেমে এসেছে। তীব্র গ্যাস সংকটের কারণে দেশের প্রায় সব শিল্পকারখানার উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে এবং অনেক প্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মাহের আহমেদ, প্রধান সম্পাদক: মোঃ মোত্তালিব সরকার। প্রকাশক কর্তৃক ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় (ঢাকা) : ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ। আঞ্চলিক কার্যালয় (বগুড়া): টোলারগেট, শেরপুর–৫৮৪০, শেরপুর, বগুড়া। অফিস: ০১৭৭৬-১৩৬০৫০ (হোয়াটসঅ্যাপ), বিজ্ঞাপন: ০৯৬৯৭-৫৪৪৮২৭। ই-মেইল: dailyjokhonsomoy@gmail.com।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রনালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © দৈনিক যখন সময় ২০২২