২০ বছরে ১১ বার নদীভাঙনের শিকার সাঘাটার পাতিলবাড়ী প্রাথমিক বিদ্যালয়
- আপডেট সময় : ১১:৫৮:০৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬ ৩৪ বার পড়া হয়েছে

গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার যমুনা নদীবেষ্টিত দুর্গম চরাঞ্চলের পাতিলবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি নদীভাঙনের কারণে গত ২০ বছরে ১১ বার স্থান পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছে। নদীভাঙনের ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি আবারও বিদ্যালয়টির অবকাঠামো সরিয়ে অন্য স্থানে নেওয়া হয়েছে, যা নিয়ে চরম উদ্বেগে পড়েছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, হলদিয়া ইউনিয়নের প্রত্যন্ত চরে অবস্থিত পাতিলবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি প্রায় ৪০ বছরের পুরোনো। ১৯৮৮ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এটি যমুনা নদীর ভাঙনের মুখে পড়ে। এরপর ১৯৯১ সাল থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত প্রায় ১০ বার স্কুলটি স্থানান্তরিত করতে হয়েছে। সর্বশেষ গত ২২ জুলাই নদীভাঙনের তীব্রতায় আবারও বিদ্যালয়টির টিনের ঘর ও আসবাবপত্র সরিয়ে ওই গ্রামেরই অন্য একটি মৌজায় নিয়ে রাখা হয়েছে।
বারবার ভাঙনের শিকার হওয়ায় বিদ্যালয়টির জন্য স্থায়ী বা ভালো কোনো সরকারি অবকাঠামো গড়ে তোলা সম্ভব হয়নি। ফলে টিন, বাঁশ ও কাঠ দিয়ে তৈরি কোনোমতে দাঁড়িয়ে থাকা এক ভঙ্গুর ঘরেই শিক্ষার্থীদের ক্লাস করতে হয়। চরাঞ্চলের কর্দমাক্ত পথ, পানি ও বালু মাড়িয়ে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত স্কুলে আসতে হয়। স্থানীয় অভিভাবক নুরুন্নবী ও বাবু মিয়া জানান, অত্যন্ত কষ্ট করে ভাঙাচোরা এই ঘরে শিশুরা ক্লাস করে। বিদ্যালয়ের এই ভগ্নদশার কারণে শিক্ষক ও শিক্ষার্থী উভয়কেই চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
চরের বাসিন্দা তৌহিদুল ইসলাম ও ওমর আলী জানান, কয়েক বছর আগেই স্কুলটি অন্য স্থান থেকে এখানে আনা হয়েছিল, এখন আবার সরাতে হলো। এমনিতেই বন্যা ও অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে চরাঞ্চলের শিশুরা পড়াশোনায় পিছিয়ে থাকে। তার ওপর ঘন ঘন নদীভাঙনে স্কুল স্থানান্তরের কারণে অনেক শিক্ষার্থী ঝরে পড়ছে এবং সন্তানদের প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করানোই কঠিন হয়ে দাঁড়াচ্ছে। স্কুলের সঙ্গে সঙ্গে অনেক সময় মানুষজনকেও বসতভিটা বদলাতে হয়, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহবুবুর রহমান দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, বারবার স্কুল ভাঙা ও গড়ার এই চক্রে তারা চরম কষ্টে আছেন। এর ফলে দিন দিন শিক্ষার্থীর সংখ্যাও কমে যাচ্ছে। এবারও বাধ্য হয়েই স্থাপনা সরাতে হয়েছে। বিদ্যালয়ের অবকাঠামোকে পুনরায় পাঠদানের উপযোগী করতে জরুরি ভিত্তিতে সরকারি সহায়তা প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এ বিষয়ে সাঘাটা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবদুল্লাহেস সাফি জানান, ভাঙনের কবলে পড়া বিদ্যালয়টিতে যাতে দ্রুত পাঠদানের পরিবেশ ফিরিয়ে আনা যায়, সেজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এ লক্ষ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে ইতিমধ্যে আবেদন পাঠানো হয়েছে।
প্রকাশ : ২৭ জুলাই ২০২৬, ১১: ৩৪আপডেট : ২৭ জুলাই ২০২৬, ১১: ৫৬




























