ঢাকা ০২:৫৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সালমানের সঙ্গে হ্যান্ডশেকের পর ৭ দিন হাত ধোননি অভিনেত্রী চাঁদনী সাবিলা নূরের দাম্পত্যে ঝড়, ডিওপির সঙ্গে প্রেমের গুঞ্জন সৌদি আরবে হামলার জেরে দাম্মাম ও রিয়াদে বিমানের ফ্লাইট স্থগিত নোয়াখালীতে গ্যারেজে অভিযান, অস্ত্র ও ইয়াবাসহ আটক ৩ রংপুর রেঞ্জে সেরা নীলফামারী জেলা পুলিশ ৩৪ বছর বয়সে না ফেরার দেশে ‘ব্রেকিং ব্যাড’ অভিনেতা আরজে মেটি সানজি গ্রুপের ১৬ কোটি টাকা আত্মসাৎ: এজিএম পার্থ সারথী গ্রেপ্তার আইসিসির ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থায় আঘাত: পিল্লাই ভোট চুরির পর এবার বিক্ষোভের স্থানও চুরি করছে মোদি সরকার চরফ্যাশনে সারের ডিলারশিপ বিতর্কে স্ট্যাম্পে লিখে দায়িত্ব হস্তান্তর যুবদল নেতার

ট্রাইব্যুনালে দুই হত্যা মামলার অভিযোগপত্র দাখিল, পরোয়ানা জারি

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০২:২২:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬ ২৬ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সাভারে এপিসি থেকে ফেলে দিয়ে আসহাবুল ইয়ামিনকে হত্যা এবং ২০১৮ সালে কক্সবাজারের টেকনাফে কাউন্সিলর একরামুল হককে কথিত ‘ক্রসফায়ারে’ হত্যার ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ দুটি পৃথক আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) দাখিল করেছে প্রসিকিউশন। রোববার ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দাখিল শেষে চিফ প্রসিকিউটর সাংবাদিকদের এই তথ্য জানান। ট্রাইব্যুনাল অভিযোগ দুটি আমলে নিয়ে গ্রেপ্তার আসামিদের সংশ্লিষ্ট মামলায় সোপর্দ এবং পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন। পরবর্তী কার্যক্রমের জন্য আগামী ২৫ আগস্ট দিন ধার্য করা হয়েছে।

চিফ প্রসিকিউটর জানান, তদন্ত সংস্থার জমা দেওয়া ১২টি তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পর্যায়ক্রমে অভিযোগপত্র দাখিল করা হচ্ছে। এর অংশ হিসেবেই এদিন দুটি মামলার ফরমাল চার্জ দাখিল করা হয়েছে। আসহাবুল ইয়ামিনকে এপিসিতে গুলি করে ওপর থেকে ফেলে দেওয়া এবং পরে টেনে-হিঁচড়ে রাস্তার পাশে ফেলে রাখার ভিডিও বিশ্বজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। এ ঘটনায় সাবেক সংসদ সদস্য সাইফুল ইসলামসহ ১৯ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। ট্রাইব্যুনাল ভিডিওচিত্র পর্যালোচনা করেছেন বলেও তিনি জানান।

অন্যদিকে, কাউন্সিলর একরামুল হক হত্যা মামলায় সুপিরিয়র রেসপনসিবিলিটির অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আসাদুজ্জামান খান কামাল, ওবায়দুল কাদের, আব্দুর রহমান বদি ও বেনজীর আহমেদসহ মোট ১১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রসিকিউশনের দাবি, প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষ্য, একরামের মোবাইল ফোনে ধারণ করা অডিও এবং অন্যান্য পারিপার্শ্বিক আলামতের ভিত্তিতে এই অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, মেজর (অব.) রুহুল আমিন ওরফে রাজন এবং লেফটেন্যান্ট কমান্ডার আশিকুর রহমান ওরফে সৈকত সরাসরি গুলি চালিয়েছিলেন, আর অন্য কর্মকর্তারা পরিকল্পনা ও তত্ত্বাবধানে যুক্ত ছিলেন।

চিফ প্রসিকিউটর আরও জানান, ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান মন্তব্য করেছেন যে রাষ্ট্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত বাহিনীর সদস্যরা যদি এ ধরনের হত্যাকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন, তবে তা রাষ্ট্রব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এছাড়া, দুই মামলার একটিতে একজন চাকরিরত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে, তবে তদন্তের স্বার্থে আপাতত তার পরিচয় প্রকাশ করা হচ্ছে না।

ট্রাইব্যুনালের অন্যান্য কার্যক্রমের বিষয়ে চিফ প্রসিকিউটর জানান, সাবেক সামরিক কর্মকর্তা মেজর সাজ্জাদ ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিয়ে জিয়াউল আহসানের নেতৃত্বে সংঘটিত একাধিক বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা দিয়েছেন। এছাড়া সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক আশরাফ কায়সার তার গবেষণাভিত্তিক বই আদালতে আলামত হিসেবে উপস্থাপন করে আংশিক সাক্ষ্য দিয়েছেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্রাইব্যুনালে দুই হত্যা মামলার অভিযোগপত্র দাখিল, পরোয়ানা জারি

আপডেট সময় : ০২:২২:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সাভারে এপিসি থেকে ফেলে দিয়ে আসহাবুল ইয়ামিনকে হত্যা এবং ২০১৮ সালে কক্সবাজারের টেকনাফে কাউন্সিলর একরামুল হককে কথিত ‘ক্রসফায়ারে’ হত্যার ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ দুটি পৃথক আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) দাখিল করেছে প্রসিকিউশন। রোববার ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দাখিল শেষে চিফ প্রসিকিউটর সাংবাদিকদের এই তথ্য জানান। ট্রাইব্যুনাল অভিযোগ দুটি আমলে নিয়ে গ্রেপ্তার আসামিদের সংশ্লিষ্ট মামলায় সোপর্দ এবং পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন। পরবর্তী কার্যক্রমের জন্য আগামী ২৫ আগস্ট দিন ধার্য করা হয়েছে।

চিফ প্রসিকিউটর জানান, তদন্ত সংস্থার জমা দেওয়া ১২টি তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পর্যায়ক্রমে অভিযোগপত্র দাখিল করা হচ্ছে। এর অংশ হিসেবেই এদিন দুটি মামলার ফরমাল চার্জ দাখিল করা হয়েছে। আসহাবুল ইয়ামিনকে এপিসিতে গুলি করে ওপর থেকে ফেলে দেওয়া এবং পরে টেনে-হিঁচড়ে রাস্তার পাশে ফেলে রাখার ভিডিও বিশ্বজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। এ ঘটনায় সাবেক সংসদ সদস্য সাইফুল ইসলামসহ ১৯ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। ট্রাইব্যুনাল ভিডিওচিত্র পর্যালোচনা করেছেন বলেও তিনি জানান।

অন্যদিকে, কাউন্সিলর একরামুল হক হত্যা মামলায় সুপিরিয়র রেসপনসিবিলিটির অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আসাদুজ্জামান খান কামাল, ওবায়দুল কাদের, আব্দুর রহমান বদি ও বেনজীর আহমেদসহ মোট ১১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রসিকিউশনের দাবি, প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষ্য, একরামের মোবাইল ফোনে ধারণ করা অডিও এবং অন্যান্য পারিপার্শ্বিক আলামতের ভিত্তিতে এই অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, মেজর (অব.) রুহুল আমিন ওরফে রাজন এবং লেফটেন্যান্ট কমান্ডার আশিকুর রহমান ওরফে সৈকত সরাসরি গুলি চালিয়েছিলেন, আর অন্য কর্মকর্তারা পরিকল্পনা ও তত্ত্বাবধানে যুক্ত ছিলেন।

চিফ প্রসিকিউটর আরও জানান, ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান মন্তব্য করেছেন যে রাষ্ট্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত বাহিনীর সদস্যরা যদি এ ধরনের হত্যাকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন, তবে তা রাষ্ট্রব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এছাড়া, দুই মামলার একটিতে একজন চাকরিরত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে, তবে তদন্তের স্বার্থে আপাতত তার পরিচয় প্রকাশ করা হচ্ছে না।

ট্রাইব্যুনালের অন্যান্য কার্যক্রমের বিষয়ে চিফ প্রসিকিউটর জানান, সাবেক সামরিক কর্মকর্তা মেজর সাজ্জাদ ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিয়ে জিয়াউল আহসানের নেতৃত্বে সংঘটিত একাধিক বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা দিয়েছেন। এছাড়া সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক আশরাফ কায়সার তার গবেষণাভিত্তিক বই আদালতে আলামত হিসেবে উপস্থাপন করে আংশিক সাক্ষ্য দিয়েছেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin