দল থেকে বহিষ্কারের পর গাজী নজরুলের এমপি পদ কি থাকবে?

- আপডেট সময় : ০৬:০২:২২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬ ১২ বার পড়া হয়েছে

সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতা গাজী মো. নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এহসানুল মাহবুব জুবায়ের স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে বুধবার (২২ জুলাই) বিকেলে এই তথ্য জানানো হয়। বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, সাংগঠনিক তদন্তে গাজী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে নৈতিক স্খলনের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় দলীয় গঠনতন্ত্রের ৬২ নম্বর ধারা অনুযায়ী এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
দল থেকে বহিষ্কারের এই সিদ্ধান্তের পর তার সংসদ সদস্য পদ বহাল থাকবে কি না, তা নিয়ে আইনি ও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। সংবিধান ও আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শুধুমাত্র দলীয় বহিষ্কারের কারণে কোনো সংসদ সদস্যের পদ তাৎক্ষণিকভাবে বাতিল হয়ে যায় না।
সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো সংসদ সদস্য যে রাজনৈতিক দলের মনোনয়নে নির্বাচিত হয়েছেন, তিনি যদি স্বেচ্ছায় সেই দল থেকে পদত্যাগ করেন অথবা সংসদে দলীয় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ভোট দেন, তবেই তার সদস্যপদ শূন্য হবে। এছাড়া সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো ফৌজদারি মামলায় দণ্ডিত হয়ে অযোগ্য ঘোষিত হলে সদস্যপদ নিয়ে আইন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আসন শূন্য হওয়ার ক্ষেত্রে সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুযায়ী বিষয়টি রাষ্ট্রপতির কাছে যাবে এবং রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কমিশনের মতামত নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন।
আইনজীবীদের মতে, গাজী নজরুল ইসলাম যদি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ না করেন অথবা সাংবিধানিক কোনো অযোগ্যতায় না পড়েন, তবে তার সদস্যপদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হওয়ার সুযোগ নেই। জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি জানিয়েছেন, তিনি বিষয়টি গণমাধ্যম থেকে জেনেছেন। তিনি আরও বলেন, অভিযোগের সত্যতা আদালতে প্রমাণিত হলে নির্বাচন কমিশন পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। এছাড়া এমপি নিজে দল থেকে পদত্যাগ করলে আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হবে এবং সংবিধান অনুযায়ী ৯০ দিনের মধ্যে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।





























