ঢাকা ০২:০৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

দিল্লিতে ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচি ঘিরে উত্তেজনা, পুলিশের লাঠিচার্জ

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০১:১৬:৪১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬ ৬৭ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



ভারতের রাজধানী দিল্লিতে মেডিকেল কলেজে ভর্তির পরীক্ষা বা নিট-সহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁস ও অনিয়মের প্রতিবাদে ব্যাপক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। সোমবার সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশনের প্রথম দিনে ‘তেলাপোকা জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-এর হাজারো সমর্থক পুলিশের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচিতে অংশ নিতে জড়ো হন।

বিক্ষোভকারীরা কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে জন্তর মন্তর থেকে সংসদ ভবনের দিকে পদযাত্রা শুরু করলে পুলিশ তাদের ওপর লাঠিচার্জ করে। ব্যারিকেড দিয়ে মিছিল ছত্রভঙ্গ করার সময় পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের তীব্র ধস্তাধস্তি ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে মধ্য দিল্লির কিছু এলাকায় মোবাইল ইন্টারনেট সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এছাড়া নিরাপত্তার স্বার্থে কর্তৃপক্ষ দিল্লির রাজীব চক, জনপথ, প্যাটেল চক, সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট এবং সেবা তীর্থ—এই পাঁচটি ব্যস্ত মেট্রো স্টেশন বন্ধ করে দেয়। এর ফলে শত শত যাত্রী আটকা পড়লে রাজধানীতে চরম বিশৃঙ্খলা ও ভোগান্তির সৃষ্টি হয়।

অভিজিৎ দীপকের উদ্যোগে চলতি বছরের মে মাসে অনলাইন ব্যঙ্গাত্মক আন্দোলন হিসেবে যাত্রা শুরু করা ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) প্রশ্ন ফাঁসের বিরুদ্ধে অল্প সময়েই ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। নিজেদের ‘তেলাপোকা’ বা ‘ককরোচ’ বলে পরিচয় দেওয়া এই কর্মীরা গত এক মাস ধরে জন্তর মন্তরে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন।

আন্দোলনের অন্যতম প্রধান মুখ প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুক টানা ২১ দিন ধরে অনশন করছিলেন। শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটায় গত শনিবার পুলিশ তাকে জোরপূর্বক সফদরজং হাসপাতালে ভর্তি করে। অনশনের কারণে তার ওজন নয় কেজির বেশি কমে গেছে। হাসপাতাল থেকে পাঠানো এক বার্তায় ওয়াংচুক অভিযোগ করেছেন যে তাকে অবৈধভাবে আটকে রাখা হয়েছে। তবে তিনি অনশন অব্যাহত রেখেছেন এবং এই আন্দোলনকে ‘ভারতের দ্বিতীয় স্বাধীনতা আন্দোলন’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। বর্তমানে ওয়াংচুক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকায় তার স্ত্রী গীতাঞ্জলি জে আংমো আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। আন্দোলনকারীরা স্পষ্ট জানিয়েছেন, প্রশ্ন ফাঁসের ন্যায়বিচার এবং শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত তাদের এই লড়াই অব্যাহত থাকবে।

অনশনের কারণে ইতিমধ্যে তার ৯ কেজির বেশি ওজন কমে গেছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh

নিউজটি শেয়ার করুন

দিল্লিতে ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচি ঘিরে উত্তেজনা, পুলিশের লাঠিচার্জ

আপডেট সময় : ০১:১৬:৪১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে মেডিকেল কলেজে ভর্তির পরীক্ষা বা নিট-সহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁস ও অনিয়মের প্রতিবাদে ব্যাপক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। সোমবার সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশনের প্রথম দিনে ‘তেলাপোকা জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-এর হাজারো সমর্থক পুলিশের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচিতে অংশ নিতে জড়ো হন।

বিক্ষোভকারীরা কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে জন্তর মন্তর থেকে সংসদ ভবনের দিকে পদযাত্রা শুরু করলে পুলিশ তাদের ওপর লাঠিচার্জ করে। ব্যারিকেড দিয়ে মিছিল ছত্রভঙ্গ করার সময় পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের তীব্র ধস্তাধস্তি ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে মধ্য দিল্লির কিছু এলাকায় মোবাইল ইন্টারনেট সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এছাড়া নিরাপত্তার স্বার্থে কর্তৃপক্ষ দিল্লির রাজীব চক, জনপথ, প্যাটেল চক, সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট এবং সেবা তীর্থ—এই পাঁচটি ব্যস্ত মেট্রো স্টেশন বন্ধ করে দেয়। এর ফলে শত শত যাত্রী আটকা পড়লে রাজধানীতে চরম বিশৃঙ্খলা ও ভোগান্তির সৃষ্টি হয়।

অভিজিৎ দীপকের উদ্যোগে চলতি বছরের মে মাসে অনলাইন ব্যঙ্গাত্মক আন্দোলন হিসেবে যাত্রা শুরু করা ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) প্রশ্ন ফাঁসের বিরুদ্ধে অল্প সময়েই ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। নিজেদের ‘তেলাপোকা’ বা ‘ককরোচ’ বলে পরিচয় দেওয়া এই কর্মীরা গত এক মাস ধরে জন্তর মন্তরে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন।

আন্দোলনের অন্যতম প্রধান মুখ প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুক টানা ২১ দিন ধরে অনশন করছিলেন। শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটায় গত শনিবার পুলিশ তাকে জোরপূর্বক সফদরজং হাসপাতালে ভর্তি করে। অনশনের কারণে তার ওজন নয় কেজির বেশি কমে গেছে। হাসপাতাল থেকে পাঠানো এক বার্তায় ওয়াংচুক অভিযোগ করেছেন যে তাকে অবৈধভাবে আটকে রাখা হয়েছে। তবে তিনি অনশন অব্যাহত রেখেছেন এবং এই আন্দোলনকে ‘ভারতের দ্বিতীয় স্বাধীনতা আন্দোলন’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। বর্তমানে ওয়াংচুক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকায় তার স্ত্রী গীতাঞ্জলি জে আংমো আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। আন্দোলনকারীরা স্পষ্ট জানিয়েছেন, প্রশ্ন ফাঁসের ন্যায়বিচার এবং শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত তাদের এই লড়াই অব্যাহত থাকবে।

অনশনের কারণে ইতিমধ্যে তার ৯ কেজির বেশি ওজন কমে গেছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh