বেলুচিস্তানে নিরাপত্তা বাহিনীর বহরে হামলায় ৪৫ সেনা নিহত
- আপডেট সময় : ০১:১৬:২৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬ ১০ বার পড়া হয়েছে

পাকিস্তানের অস্থির প্রদেশ বেলুচিস্তানে নিরাপত্তা বাহিনীর একটি বহরে অতর্কিত হামলার ঘটনায় অন্তত ৪৫ জন সেনা সদস্য নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন বেলুচিস্তান লিবারেশন আর্মি (বিএলএ)। বেলুচিস্তান পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মাসতুং এলাকার কাছে এই হামলার ঘটনাটি ঘটে।
বিএলএ হামলার দায় স্বীকার করে জানিয়েছে, তাদের যোদ্ধারা নিরাপত্তা বাহিনীর বহর, বহরের নিরাপত্তায় নিয়োজিত সদস্য এবং হামলার পর ঘটনাস্থলে পৌঁছানো অতিরিক্ত সেনাদের লক্ষ্য করে এই অভিযান পরিচালনা করে। সংগঠনটির মুখপাত্র জিয়ান্দ বালুচ এক বিবৃতিতে দাবি করেছেন, বিবৃতি প্রকাশের সময়ও উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ চলছিল এবং নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
পাকিস্তান সেনাবাহিনী হামলার ঘটনাটি নিশ্চিত করলেও এখন পর্যন্ত নিহতের কোনো সুনির্দিষ্ট সরকারি সংখ্যা প্রকাশ করেনি। তবে সেনাবাহিনীর মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী জানিয়েছেন, হামলায় জড়িতদের খুঁজে বের করে কঠোর শাস্তির আওতায় আনা হবে। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, সেনাবাহিনীর পরবর্তী জবাব কেমন হবে, তা সন্ত্রাসীরা কল্পনাও করতে পারবে না।
এর আগে ৬ থেকে ৯ জুলাইয়ের মধ্যে প্রদেশটিতে আরও কয়েকটি বড় হামলার ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে ৭ জুলাই তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)-এর হামলায় একটি চেকপোস্ট দখলের পর ১৮ জন পুলিশ সদস্যকে অপহরণ করে হত্যা করা হয় বলে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর দাবি। এছাড়া ৮ জুলাই লাসবোলা জেলার বেলা-উইন্ডার এলাকায় এন-২৫ মহাসড়কে আরেকটি সেনা বহরে হামলায় একজন জুনিয়র কমিশনড অফিসারসহ ১১ জন সেনা নিহত হন বলে সেনাবাহিনীর ভাষ্য। তবে বিএলএ দাবি করেছে, ওই হামলায় ১৭ জন সেনাকে হত্যা করা হয়েছে এবং তাদের অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে। এই দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে সম্প্রতি বেলুচিস্তানের স্বাধীনতা ঘোষণাকে ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। মীর ইয়ার বালুচ নামক এক ব্যক্তি নিজেকে বেলুচিস্তানের প্রতিনিধি পরিচয় দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দাবি করেছেন, বেলুচিস্তান স্বাধীনতা ঘোষণা করেছে এবং তাদের প্রতিরক্ষা বাহিনী প্রদেশটির ৮৫ শতাংশ এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। তিনি জাতীয় পতাকা, জাতীয় সংগীত এবং ‘বালুচি ফালুস’ নামে নিজস্ব মুদ্রা চালুরও দাবি করেছেন। তবে এসব দাবির কোনো স্বাধীন যাচাই সম্ভব হয়নি।
উল্লেখ্য যে, ইরান ও আফগানিস্তান সীমান্তঘেঁষা বেলুচিস্তান পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় প্রদেশ এবং কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই)-এর অংশ হিসেবে নির্মিত গভীর সমুদ্রবন্দর গদরও এই প্রদেশেই অবস্থিত।


























