ঢাকা ০৩:২৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সৌন্দর্যের ভেতর ইতিহাসের শরীর: হেগেল ও মার্কসের নন্দনতত্ত্বের তুলনামূলক পাঠ আওয়ামী সন্ত্রাসীদের যেখানেই পাওয়া যাবে সেখানেই প্রতিহত করা হবে: এস এম জিলানী জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধিতে নিত্যপণ্যের বাজারে অস্থিরতা বনশ্রীতে কুকুরকে খাওয়াতে গিয়ে তরুণীকে মারধর, থানায় অভিযোগ ঈশ্বরদীতে ক্রেতা সেজে দুই ভরি স্বর্ণের মালা নিয়ে চম্পট গোপালগঞ্জে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে অনুদানের চেক বিতরণ ইবির আইন অনুষদের ১৯ শিক্ষার্থী সিভিল জজ পদে মনোনীত নিষেধাজ্ঞার মুখে ইরান কখনো মাথা নত করবে না: পেজেশকিয়ান যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত নিরসনে নতুন আশাবাদ, নিউইয়র্কে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ক্রোয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তারেক রহমানের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক

বেলুচিস্তানে পাকিস্তানি বাহিনীর বহরে অতর্কিত হামলা, নিহত ৪৫

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৬:০০:৫৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬ ৩৭ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশের মাস্তুঙের কাছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীর একটি বহরে অতর্কিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। বেলুচিস্তানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম বেলুচিস্তান পোস্টের তথ্য অনুযায়ী, এই হামলায় অন্তত ৪৫ জন পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়েছেন। হামলার দায় স্বীকার করেছে বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন বেলুচিস্তান লিবারেশন আর্মি (বিএলএ)। পাকিস্তান সেনাবাহিনী হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করলেও নিহতের সংখ্যা আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো প্রকাশ করেনি।

বিএলএর মুখপাত্র জিয়ান্দ বেলুচ এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, তাদের যোদ্ধারা পাক নিরাপত্তা বাহিনীর বহর ও এসকর্ট লক্ষ্য করে এই হামলা চালায়। এমনকি হামলা শুরুর পর ঘটনাস্থলে উদ্ধারকাজে আসা অতিরিক্ত সেনা সদস্যদের ওপরও তারা আক্রমণ করেছে। জিয়ান্দ বেলুচ দাবি করেন, বিএলএর ‘ফাতেহ স্কোয়াড’ এই সমন্বিত অভিযান পরিচালনা করেছে। বিবৃতি প্রকাশের সময় পর্যন্ত সংঘর্ষ চলছিল এবং নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে বিএলএ আশঙ্কা করছে।

সম্প্রতি বেলুচিস্তানে একের পর এক হামলার ঘটনায় পাকিস্তান সেনাবাহিনী সেখানে ‘অপারেশন শাবান’ শুরু করেছে। গত সপ্তাহে জিয়ারত জেলার মাঙ্গি ড্যাম এলাকায় সমন্বিত জঙ্গি হামলায় ২৭ পুলিশ সদস্য এবং লাসবেলা জেলায় ১১ সেনা নিহত হওয়ার পর এই অভিযান শুরু হয়। পাক সেনাবাহিনী, ফ্রন্টিয়ার কর্পস ও বেলুচিস্তান পুলিশ যৌথভাবে এই অভিযানে গোয়েন্দা ও বিমান সহায়তা ব্যবহার করছে। পাক বাহিনীর দাবি, এই অভিযানে শতাধিক বিচ্ছিন্নতাবাদী নিহত হয়েছে। সাম্প্রতিক এসব হামলার প্রতিক্রিয়ায় সেনাবাহিনীর মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, হামলার জন্য দায়ীদের খুঁজে বের করা হবে এবং সেনাবাহিনীর জবাবে আনুপাতিকতার প্রত্যাশা করা উচিত হবে না।

বেলুচিস্তানে চলমান অস্থিরতার পেছনে বৃহত্তর রাজনৈতিক স্বায়ত্তশাসন ও প্রাকৃতিক সম্পদের ন্যায্য হিস্যার দাবি প্রধান কারণ হিসেবে বিবেচিত হয়। ইরান ও আফগানিস্তানের সীমান্তবর্তী এই প্রদেশটি চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের অংশ গওয়াদর গভীর সমুদ্রবন্দরের জন্য কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উদ্ভূত পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে হামলার ঘটনাক্রম, সম্ভাব্য নেতৃত্বগত ব্যর্থতা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি খতিয়ে দেখতে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে পাকিস্তান কর্তৃপক্ষ।

গত ৬ থেকে ৯ জুলাইয়ের মধ্যে বেলুচিস্তানে তিনটি বড় হামলা হয়েছে। এর মধ্যে ৭ জুলাই তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানের (টিটিপি) হামলায় ১৮ পুলিশ সদস্য অপহৃত ও পরে নিহত হন। এছাড়া ৮ জুলাই লাসবেলা জেলায় সেনাবাহিনীর বহরে হামলায় ১১ সেনা সদস্য নিহত হন, যার দায় বিএলএ নিলেও তারা নিহতের সংখ্যা ১৭ জন বলে দাবি করেছিল। তবে বিএলএর এই দাবিগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিএলএ কর্তৃক বেলুচিস্তানের স্বাধীনতা ঘোষণা এবং ৮৫ শতাংশ এলাকা দখলের যে খবর ছড়িয়েছে, তারও সত্যতা নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা যায়নি।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin

নিউজটি শেয়ার করুন

বেলুচিস্তানে পাকিস্তানি বাহিনীর বহরে অতর্কিত হামলা, নিহত ৪৫

আপডেট সময় : ০৬:০০:৫৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬

পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশের মাস্তুঙের কাছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীর একটি বহরে অতর্কিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। বেলুচিস্তানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম বেলুচিস্তান পোস্টের তথ্য অনুযায়ী, এই হামলায় অন্তত ৪৫ জন পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়েছেন। হামলার দায় স্বীকার করেছে বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন বেলুচিস্তান লিবারেশন আর্মি (বিএলএ)। পাকিস্তান সেনাবাহিনী হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করলেও নিহতের সংখ্যা আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো প্রকাশ করেনি।

বিএলএর মুখপাত্র জিয়ান্দ বেলুচ এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, তাদের যোদ্ধারা পাক নিরাপত্তা বাহিনীর বহর ও এসকর্ট লক্ষ্য করে এই হামলা চালায়। এমনকি হামলা শুরুর পর ঘটনাস্থলে উদ্ধারকাজে আসা অতিরিক্ত সেনা সদস্যদের ওপরও তারা আক্রমণ করেছে। জিয়ান্দ বেলুচ দাবি করেন, বিএলএর ‘ফাতেহ স্কোয়াড’ এই সমন্বিত অভিযান পরিচালনা করেছে। বিবৃতি প্রকাশের সময় পর্যন্ত সংঘর্ষ চলছিল এবং নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে বিএলএ আশঙ্কা করছে।

সম্প্রতি বেলুচিস্তানে একের পর এক হামলার ঘটনায় পাকিস্তান সেনাবাহিনী সেখানে ‘অপারেশন শাবান’ শুরু করেছে। গত সপ্তাহে জিয়ারত জেলার মাঙ্গি ড্যাম এলাকায় সমন্বিত জঙ্গি হামলায় ২৭ পুলিশ সদস্য এবং লাসবেলা জেলায় ১১ সেনা নিহত হওয়ার পর এই অভিযান শুরু হয়। পাক সেনাবাহিনী, ফ্রন্টিয়ার কর্পস ও বেলুচিস্তান পুলিশ যৌথভাবে এই অভিযানে গোয়েন্দা ও বিমান সহায়তা ব্যবহার করছে। পাক বাহিনীর দাবি, এই অভিযানে শতাধিক বিচ্ছিন্নতাবাদী নিহত হয়েছে। সাম্প্রতিক এসব হামলার প্রতিক্রিয়ায় সেনাবাহিনীর মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, হামলার জন্য দায়ীদের খুঁজে বের করা হবে এবং সেনাবাহিনীর জবাবে আনুপাতিকতার প্রত্যাশা করা উচিত হবে না।

বেলুচিস্তানে চলমান অস্থিরতার পেছনে বৃহত্তর রাজনৈতিক স্বায়ত্তশাসন ও প্রাকৃতিক সম্পদের ন্যায্য হিস্যার দাবি প্রধান কারণ হিসেবে বিবেচিত হয়। ইরান ও আফগানিস্তানের সীমান্তবর্তী এই প্রদেশটি চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের অংশ গওয়াদর গভীর সমুদ্রবন্দরের জন্য কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উদ্ভূত পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে হামলার ঘটনাক্রম, সম্ভাব্য নেতৃত্বগত ব্যর্থতা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি খতিয়ে দেখতে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে পাকিস্তান কর্তৃপক্ষ।

গত ৬ থেকে ৯ জুলাইয়ের মধ্যে বেলুচিস্তানে তিনটি বড় হামলা হয়েছে। এর মধ্যে ৭ জুলাই তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানের (টিটিপি) হামলায় ১৮ পুলিশ সদস্য অপহৃত ও পরে নিহত হন। এছাড়া ৮ জুলাই লাসবেলা জেলায় সেনাবাহিনীর বহরে হামলায় ১১ সেনা সদস্য নিহত হন, যার দায় বিএলএ নিলেও তারা নিহতের সংখ্যা ১৭ জন বলে দাবি করেছিল। তবে বিএলএর এই দাবিগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিএলএ কর্তৃক বেলুচিস্তানের স্বাধীনতা ঘোষণা এবং ৮৫ শতাংশ এলাকা দখলের যে খবর ছড়িয়েছে, তারও সত্যতা নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা যায়নি।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin