বিশ্বজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে চীনের প্রতি মানুষের সমর্থন বাড়ছে
- আপডেট সময় : ১২:১৭:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে

পিউ রিসার্চ সেন্টারের নতুন এক গবেষণা অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে এখন যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে চীনের পক্ষে মানুষের সমর্থন বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এই যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক নিরপেক্ষ থিংক ট্যাংকের জরিপের ফলাফল ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, অনেক দেশে চীনের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি মানুষের ধারণা আগের চেয়ে খারাপ হয়েছে। তবে জরিপে অংশগ্রহণকারীরা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প এবং চীনের নেতা শি জিনপিং—উভয়ের প্রতিই কম আস্থা প্রকাশ করেছেন।
গবেষণা কেন্দ্রটি ফেব্রুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত ৩৬টি দেশে ৪২ হাজারেরও বেশি মানুষের ওপর এই জরিপটি পরিচালনা করে। প্রাপ্ত তথ্যমতে, ৩৬টি দেশের মধ্যে ২৫টিতেই যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে চীনের প্রতি ইতিবাচক ধারণা পোষণকারীর সংখ্যা বেশি। জোনাথন শুলম্যান নামে পিউ রিসার্চ সেন্টারের এক গবেষক জানান, ২০০২ সাল থেকে পরাশক্তিগুলোর প্রতি বৈশ্বিক মনোভাব পর্যবেক্ষণ শুরুর পর এতগুলো দেশে চীনের প্রতি এমন ইতিবাচক ফলাফল এবারই প্রথম। এর আগে ২০০৮ সালে বুশ প্রশাসনের শেষ দিকে এবং ২০১৭ সালে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব কমলেও চীনের পক্ষে সমর্থন যুক্তরাষ্ট্রের সমান বা কিছুটা কম ছিল।
জরিপ অনুযায়ী, স্পেন, ইন্দোনেশিয়া, ইতালি, গ্রিস ও কানাডায় চীনের প্রতি মানুষের ঝোঁক দেখা গেছে। তবে পোল্যান্ড, ফিলিপাইন, দক্ষিণ কোরিয়া, ভারত, জাপান ও ইসরায়েলের মতো যুক্তরাষ্ট্রের কট্টর মিত্র দেশগুলোতে এখনো যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি সমর্থন বেশি। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ২০টি দেশে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে গড় ইতিবাচক মতামত ক্রমান্বয়ে হ্রাস পেয়েছে, যেখানে চীনের পক্ষে তা বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে পাকিস্তান, ইতালি, স্পেন, কলম্বিয়া, মেক্সিকো, মালয়েশিয়া, নাইজেরিয়া ও তুরস্কের মতো স্থানে চীনের পক্ষে দৃষ্টিভঙ্গি রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। পাকিস্তানে ৯০ শতাংশ মানুষ চীনের পক্ষে মত দিলেও জাপানে তা মাত্র ১১ শতাংশ।
নেতৃত্বের আস্থার প্রশ্নেও দুই নেতার প্রতিই মানুষের আস্থা সাধারণত ৫০ শতাংশের নিচে। তবে অধিকাংশ দেশ ট্রাম্পের চেয়ে শি জিনপিংয়ের ওপর বেশি আস্থা দেখিয়েছে। শি জিনপিংয়ের জন্য সর্বোচ্চ ৮৩ শতাংশ সমর্থন এসেছে পাকিস্তান থেকে এবং সর্বনিম্ন ৭ শতাংশ জাপান থেকে। অন্যদিকে ট্রাম্পের জন্য সর্বোচ্চ ৬৮ শতাংশ সমর্থন ফিলিপাইন থেকে এবং সর্বনিম্ন মাত্র ৪ শতাংশ পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেম থেকে পাওয়া গেছে। মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে করা প্রশ্নে ৭৫ শতাংশ মানুষ মনে করেন যুক্তরাষ্ট্র অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বেশি হস্তক্ষেপ করে, যেখানে চীনের ক্ষেত্রে এই হার ৪৫ শতাংশ।
কার্নেগি চায়নার নন-রেসিডেন্ট স্কলার চং জা ইয়ান জানান, পিউ-এর এই ফলাফল আশ্চর্যজনক নয়। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নীতির অস্থিরতা এবং বলপ্রয়োগের ফলে সৃষ্ট অর্থনৈতিক ক্ষতি অনেককে উদ্বিগ্ন করেছে। অন্যদিকে বেইজিং উন্নয়নশীল বিশ্বে নিজের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে কাজ করছে। ডক্টর চং আরও উল্লেখ করেন, শি জিনপিং একজন কর্তৃত্ববাদী ব্যক্তিত্ব হওয়া সত্ত্বেও চীন হয়তো কিছুটা বেশি অনুমানযোগ্য, যা কাউকে কাউকে স্বস্তি দেয়। তবে প্রযুক্তিগত অগ্রগতির মতো ইতিবাচক উপাদানগুলো সামগ্রিকভাবে চীনকে এগিয়ে রেখেছে।




























