দীর্ঘ ছয় মাসের চিকিৎসায় সুস্থ হয়ে সুন্দরবনে ফিরল বাঘিনী
- আপডেট সময় : ০৯:৩৪:১৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬ ১০ বার পড়া হয়েছে

প্রায় ছয় মাসের দীর্ঘ চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে আপন ঠিকানায় ফিরে গেল সুন্দরবনের সেই বাঘিনী। গত রোববার পূর্ব সুন্দরবনের আন্ধারমানিক ইকো-ট্যুরিজম কেন্দ্রের বনাঞ্চলে তাকে অবমুক্ত করা হয়। তবে বাঘিনীটির গতিবিধি পর্যবেক্ষণে রাখার জন্য বনের আট কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ২০টি স্বয়ংক্রিয় ক্যামেরা বসানো হয়েছে। প্রযুক্তিগত কিছু জটিলতার কারণে তার গলায় স্যাটেলাইট রেডিও কলার পরানো সম্ভব হয়নি।
বাঘিনীটিকে বনে অবমুক্ত করার সময় বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, প্রধান বন সংরক্ষক (সিসিএফ) আমির হোসাইন চৌধুরী, খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক (সিএফ) ইমরান আহমেদ, পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা রেজাউল করিম চৌধুরী এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণীবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞ ড. এম এ আজিজসহ বন বিভাগ ও বিভিন্ন সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ঘটনার সূত্রপাত হয় চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি, যখন পূর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের শরকির খাল এলাকায় হরিণ শিকারিদের পেতে রাখা ছিটকার ফাঁদে পড়ে বাঘিনীটি গুরুতর আহত হয়। উদ্ধারকারী দল ট্রাঙ্কুলাইজিং বন্দুকের মাধ্যমে তাকে অচেতন করে উদ্ধার করে এবং চিকিৎসার জন্য খুলনার বয়রায় বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের পুনর্বাসন কেন্দ্রে নিয়ে যায়। সেখানে পাঁচ সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দলের দীর্ঘ ছয় মাসের নিয়মিত পরিচর্যায় বাঘিনীটি পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ওঠে।
পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা রেজাউল করিম চৌধুরী জানান, বাঘিনীটির গলায় আন্তর্জাতিক প্রকৃতি সংরক্ষণ সংস্থা (আইইউসিএন) থেকে সরবরাহকৃত স্যাটেলাইট রেডিও কলার পরানোর পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু নানা জটিলতার কারণে ডিভাইসটি আনা সম্ভব হয়নি। তাই বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে রেডিও কলারের পরিবর্তে ক্যামেরা ট্র্যাপিংয়ের মাধ্যমে তার সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।




























