ঢাকা ০৭:০৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬, ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সেতুর টোল মওকুফ না করার ইঙ্গিত দিলেন সড়কমন্ত্রী ২০৩০ সাল থেকে কি ৬৪ দলের বিশ্বকাপ শুরু হবে? যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে হত্যায় স্বামীর যাবজ্জীবন দেশের সাত জেলায় ভয়াবহ বন্যা: মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫৪ ছাত্রশিবির ছাড়লেন ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েমসহ নয় কেন্দ্রীয় নেতা গৌরনদীতে ফ্যামিলি কার্ড উপকারভোগীদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর মতবিনিময় জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বাড়ছে ডায়ালাইসিস বেড: স্বাস্থ্যমন্ত্রী দিল্লিতে বিমসটেক বৈঠকে যোগ দিচ্ছে বাংলাদেশ, নজর থাকবে ভারতের আচরণের দিকে খেলার সময় সেপটিক ট্যাংকে পড়ে পাঁচ বছরের শিশুর মৃত্যু প্রধানমন্ত্রীকে সভাপতি করে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বিষয়ক উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন

প্রধানমন্ত্রীকে সভাপতি করে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বিষয়ক উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:৪৯:১৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
print news

বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা নাগরিকদের দ্রুত ও টেকসই প্রত্যাবাসনের লক্ষ্য নিয়ে সরকার একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করেছে। ‘রোহিঙ্গা বিষয়ক জাতীয় কর্মকৌশল প্রণয়ন কমিটি’ নামের এই নতুন কমিটির নেতৃত্ব দেবেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে ১২ জুলাই, রোববার এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

কমিটিটি ১১ জন সদস্য নিয়ে গঠিত হয়েছে, যার মধ্যে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং গোয়েন্দা সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তারা রয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে গঠিত এই কমিটির সদস্য হিসেবে থাকছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী, অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের উপদেষ্টা।

কমিটির প্রধান সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করবেন সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের (এএফডি) প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার। এছাড়া প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) মহাপরিচালক কমিটির সদস্যসচিব হিসেবে কাজ করবেন। অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন পুলিশের আইজিপি, এনএসআইয়ের মহাপরিচালক, বিজিবির মহাপরিচালক এবং বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের মহাপরিচালক।

মাঠপর্যায়ে ও কৌশলগত সহায়তা প্রদানের জন্য কমিটিতে পাঁচজন শীর্ষ কর্মকর্তাকে যুক্ত করা হয়েছে। তারা হলেন শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি), স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) অতিরিক্ত আইজিপি, বিজিবির অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশনস), এনএসআইয়ের পরিচালক (সীমান্ত) এবং সোশ্যাল স্ট্যাবিলিটি ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর (এসএসআইবি) পরিচালক।

এই কমিটির মূল দায়িত্ব হলো রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সংক্রান্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা এবং বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে কাজের তদারকি করা। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কাজের পরিধি ও ক্ষেত্র সুনির্দিষ্ট করাও তাদের কাজের অন্তর্ভুক্ত। প্রধান সমন্বয়কের তত্ত্বাবধানে একটি বিশেষ ‘পর্ষদ’ গঠন করা হবে, যারা আগামী ৯০ দিনের মধ্যে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের জন্য মূল ‘জাতীয় কর্মকৌশল’ তৈরি করে জাতীয় কমিটির কাছে জমা দেবে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তর (ডিজিএফআই) এই কমিটির প্রয়োজনীয় জনবল ও অবকাঠামোগত সব ধরনের সাচিবিক সুবিধা প্রদান করবে। তবে সভাপতির নির্দেশক্রমে পরবর্তীতে অন্য কোনো গোয়েন্দা বা আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকেও নির্দিষ্ট সময়ের জন্য এই দায়িত্ব দেওয়া যেতে পারে। এছাড়া কমিটি প্রয়োজনে যেকোনো সামরিক বা বেসামরিক আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রধান বা যেকোনো উপযুক্ত ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য কো-অপ্ট করার ক্ষমতা রাখে।

কমিটিকে মাঠপর্যায়ে ও কৌশলগত বিষয়ে সহায়তা করার জন্য ৫ জন শীর্ষ কর্মকর্তাকে যুক্ত করা হয়েছে।

একই সাথে, প্রধান সমন্বয়কের সরাসরি তত্ত্বাবধানে একটি বিশেষ ‘পর্ষদ’ গঠন করা হবে। এই পর্ষদ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোর সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব নির্ধারণ করবে এবং রোহিঙ্গাদের দ্রুত ও টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য মূল ‘জাতীয় কর্মকৌশল’ তৈরি করবে। আগামী ৩ মাস বা ৯০ দিনের মধ্যে এই কৌশল প্রণয়ন করে জাতীয় কমিটির কাছে জমা দেবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

প্রধানমন্ত্রীকে সভাপতি করে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বিষয়ক উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন

আপডেট সময় : ০৪:৪৯:১৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬
print news

বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা নাগরিকদের দ্রুত ও টেকসই প্রত্যাবাসনের লক্ষ্য নিয়ে সরকার একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করেছে। ‘রোহিঙ্গা বিষয়ক জাতীয় কর্মকৌশল প্রণয়ন কমিটি’ নামের এই নতুন কমিটির নেতৃত্ব দেবেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে ১২ জুলাই, রোববার এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

কমিটিটি ১১ জন সদস্য নিয়ে গঠিত হয়েছে, যার মধ্যে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং গোয়েন্দা সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তারা রয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে গঠিত এই কমিটির সদস্য হিসেবে থাকছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী, অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের উপদেষ্টা।

কমিটির প্রধান সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করবেন সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের (এএফডি) প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার। এছাড়া প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) মহাপরিচালক কমিটির সদস্যসচিব হিসেবে কাজ করবেন। অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন পুলিশের আইজিপি, এনএসআইয়ের মহাপরিচালক, বিজিবির মহাপরিচালক এবং বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের মহাপরিচালক।

মাঠপর্যায়ে ও কৌশলগত সহায়তা প্রদানের জন্য কমিটিতে পাঁচজন শীর্ষ কর্মকর্তাকে যুক্ত করা হয়েছে। তারা হলেন শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি), স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) অতিরিক্ত আইজিপি, বিজিবির অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশনস), এনএসআইয়ের পরিচালক (সীমান্ত) এবং সোশ্যাল স্ট্যাবিলিটি ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর (এসএসআইবি) পরিচালক।

এই কমিটির মূল দায়িত্ব হলো রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সংক্রান্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা এবং বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে কাজের তদারকি করা। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কাজের পরিধি ও ক্ষেত্র সুনির্দিষ্ট করাও তাদের কাজের অন্তর্ভুক্ত। প্রধান সমন্বয়কের তত্ত্বাবধানে একটি বিশেষ ‘পর্ষদ’ গঠন করা হবে, যারা আগামী ৯০ দিনের মধ্যে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের জন্য মূল ‘জাতীয় কর্মকৌশল’ তৈরি করে জাতীয় কমিটির কাছে জমা দেবে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তর (ডিজিএফআই) এই কমিটির প্রয়োজনীয় জনবল ও অবকাঠামোগত সব ধরনের সাচিবিক সুবিধা প্রদান করবে। তবে সভাপতির নির্দেশক্রমে পরবর্তীতে অন্য কোনো গোয়েন্দা বা আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকেও নির্দিষ্ট সময়ের জন্য এই দায়িত্ব দেওয়া যেতে পারে। এছাড়া কমিটি প্রয়োজনে যেকোনো সামরিক বা বেসামরিক আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রধান বা যেকোনো উপযুক্ত ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য কো-অপ্ট করার ক্ষমতা রাখে।

কমিটিকে মাঠপর্যায়ে ও কৌশলগত বিষয়ে সহায়তা করার জন্য ৫ জন শীর্ষ কর্মকর্তাকে যুক্ত করা হয়েছে।

একই সাথে, প্রধান সমন্বয়কের সরাসরি তত্ত্বাবধানে একটি বিশেষ ‘পর্ষদ’ গঠন করা হবে। এই পর্ষদ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোর সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব নির্ধারণ করবে এবং রোহিঙ্গাদের দ্রুত ও টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য মূল ‘জাতীয় কর্মকৌশল’ তৈরি করবে। আগামী ৩ মাস বা ৯০ দিনের মধ্যে এই কৌশল প্রণয়ন করে জাতীয় কমিটির কাছে জমা দেবে।