ঢাকা ১২:০১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬, ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চুয়াডাঙ্গায় অনির্দিষ্টকালের জন্য বাস ধর্মঘট শুরু দেশের বাজারে স্বর্ণের দামে বড় পতন, কমল রৌপ্যের দরও লাউয়াছড়ায় ছাড়া ৯ লজ্জাবতী বানরের ৭টিই মৃত, গবেষণায় উদ্বেগজনক চিত্র সপ্তাহের শুরুতেই দেশের বাজারে কমলো সোনার দাম ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ৪০ কিমি যানজট, অ্যাম্বুলেন্সেই রোগীর মৃত্যু এসএসসি ফল পুনর্নিরীক্ষণ: ১৩ লাখ খাতা যাচাইয়ের চ্যালেঞ্জ শিক্ষা বোর্ডের ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মাদ্রাসা ছাত্রদের বিক্ষোভ, এনসিপি’র কর্মসূচি প্রতিহতের ঘোষণা ঠাকুরগাঁও-দিনাজপুর সীমান্তে বাস সংঘর্ষে ১৫ আহত, ১ জনের অবস্থা গুরুতর টাঙ্গুয়ার হাওরে ৪ মাসে ৫ মৃত্যু, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা স্টুটগার্টকে ৫-১ গোলে হারিয়ে বুন্দেসলিগা জয় শুরু বায়ার্নের

না ফেরার দেশে কাতারের সাবেক আমির শেখ হামাদ বিন খলিফা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:৩৪:২০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬ ৩৬ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

কাতারের সাবেক আমির শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানি ৭৪ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেছেন। স্থানীয় সময় রবিবার (১২ জুলাই) সকালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বলে দেশটির আমিরের দপ্তর (দিওয়ান) থেকে এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।

দিওয়ানের ওই বিবৃতিতে বলা হয়, “আল্লাহর ডিক্রি ও ভাগ্যের প্রতি অবিচল বিশ্বাস রেখে, আমিরি দিওয়ান জাতির এই মহান ক্ষতিতে গভীর শোক প্রকাশ করছে। সাবেক আমির শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানি আজ সকালে আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন। আল্লাহ তার ওপর রহম করুন।”

১৯৫২ সালের জানুয়ারিতে দোহায় জন্মগ্রহণ করেন শেখ হামাদ। তিনি যুক্তরাজ্যের রয়্যাল মিলিটারি একাডেমি স্যান্ডহার্স্ট থেকে স্নাতক সম্পন্ন করে কাতারের সশস্ত্র বাহিনীর কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে ১৯৭৭ সালে তিনি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও যুবরাজ নিযুক্ত হন। ১৯৯৫ সালের ২৭ জুন তিনি কাতারের আমিরের দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং ২০১৩ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ সময় দেশটি শাসন করেন।

শেখ হামাদের শাসনকালকে কাতারের ইতিহাসের স্বর্ণযুগ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। জ্বালানি সমৃদ্ধ এই দেশটিকে বিশ্বের অন্যতম ধনী ও প্রভাবশালী রাষ্ট্রে রূপান্তরের প্রধান কারিগর ছিলেন তিনি। প্রাকৃতিক গ্যাসের বিশাল মজুদকে কাজে লাগিয়ে তিনি দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে ব্যাপক সংস্কার কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেন। তার দূরদর্শী নেতৃত্বে কাতারের জিডিপি ২৪ গুণেরও বেশি বৃদ্ধি পায়। ২০০৬ সালের মধ্যে কাতার বিশ্বের বৃহত্তম এলএনজি রপ্তানিকারক দেশে পরিণত হয় এবং ২০১০ সাল নাগাদ বার্ষিক এলএনজি উৎপাদন ক্ষমতা ৭৭ মিলিয়ন টনে উন্নীত হয়।

তার শাসনামলে কাতার ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা, ১৯৯৬ সালে আল জাজিরা নিউজ চ্যানেল চালু এবং ২০০৪ সালে প্রথম স্থায়ী সংবিধান প্রণয়ন করা হয়। এছাড়া নারীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা, ‘কাতার ন্যাশনাল ভিশন ২০৩০’ গ্রহণ এবং মধ্যপ্রাচ্যের প্রথম দেশ হিসেবে ২০২২ ফিফা বিশ্বকাপ আয়োজনের অধিকার অর্জন তার নেতৃত্বেই সম্ভব হয়েছিল। ক্ষমতা হস্তান্তরের সময় তিনি দেশবাসীর উদ্দেশ্যে বলেছিলেন, “ভবিষ্যৎ তোমাদের সামনে, এই মাতৃভূমির সন্তানদের জন্য। তোমরা এমন এক নতুন যুগে পদার্পণ করছ যেখানে তরুণ নেতৃত্ব দেশের পতাকা বহন করবে।”

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin

নিউজটি শেয়ার করুন

না ফেরার দেশে কাতারের সাবেক আমির শেখ হামাদ বিন খলিফা

আপডেট সময় : ০৪:৩৪:২০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬

কাতারের সাবেক আমির শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানি ৭৪ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেছেন। স্থানীয় সময় রবিবার (১২ জুলাই) সকালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বলে দেশটির আমিরের দপ্তর (দিওয়ান) থেকে এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।

দিওয়ানের ওই বিবৃতিতে বলা হয়, “আল্লাহর ডিক্রি ও ভাগ্যের প্রতি অবিচল বিশ্বাস রেখে, আমিরি দিওয়ান জাতির এই মহান ক্ষতিতে গভীর শোক প্রকাশ করছে। সাবেক আমির শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানি আজ সকালে আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন। আল্লাহ তার ওপর রহম করুন।”

১৯৫২ সালের জানুয়ারিতে দোহায় জন্মগ্রহণ করেন শেখ হামাদ। তিনি যুক্তরাজ্যের রয়্যাল মিলিটারি একাডেমি স্যান্ডহার্স্ট থেকে স্নাতক সম্পন্ন করে কাতারের সশস্ত্র বাহিনীর কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে ১৯৭৭ সালে তিনি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও যুবরাজ নিযুক্ত হন। ১৯৯৫ সালের ২৭ জুন তিনি কাতারের আমিরের দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং ২০১৩ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ সময় দেশটি শাসন করেন।

শেখ হামাদের শাসনকালকে কাতারের ইতিহাসের স্বর্ণযুগ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। জ্বালানি সমৃদ্ধ এই দেশটিকে বিশ্বের অন্যতম ধনী ও প্রভাবশালী রাষ্ট্রে রূপান্তরের প্রধান কারিগর ছিলেন তিনি। প্রাকৃতিক গ্যাসের বিশাল মজুদকে কাজে লাগিয়ে তিনি দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে ব্যাপক সংস্কার কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেন। তার দূরদর্শী নেতৃত্বে কাতারের জিডিপি ২৪ গুণেরও বেশি বৃদ্ধি পায়। ২০০৬ সালের মধ্যে কাতার বিশ্বের বৃহত্তম এলএনজি রপ্তানিকারক দেশে পরিণত হয় এবং ২০১০ সাল নাগাদ বার্ষিক এলএনজি উৎপাদন ক্ষমতা ৭৭ মিলিয়ন টনে উন্নীত হয়।

তার শাসনামলে কাতার ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা, ১৯৯৬ সালে আল জাজিরা নিউজ চ্যানেল চালু এবং ২০০৪ সালে প্রথম স্থায়ী সংবিধান প্রণয়ন করা হয়। এছাড়া নারীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা, ‘কাতার ন্যাশনাল ভিশন ২০৩০’ গ্রহণ এবং মধ্যপ্রাচ্যের প্রথম দেশ হিসেবে ২০২২ ফিফা বিশ্বকাপ আয়োজনের অধিকার অর্জন তার নেতৃত্বেই সম্ভব হয়েছিল। ক্ষমতা হস্তান্তরের সময় তিনি দেশবাসীর উদ্দেশ্যে বলেছিলেন, “ভবিষ্যৎ তোমাদের সামনে, এই মাতৃভূমির সন্তানদের জন্য। তোমরা এমন এক নতুন যুগে পদার্পণ করছ যেখানে তরুণ নেতৃত্ব দেশের পতাকা বহন করবে।”

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin