ঢাকা ০৭:৪৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ইস্তাম্বুলে ৮০ বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যায় নিহত ৪ দীর্ঘ বিরতির পর পর্দায় রশমি দেশাই, জানালেন কেন দূরে ছিলেন আজকের খেলার সূচি: বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ে ওয়ানডে ও ইউরোপীয় ফুটবলের লড়াই স্পেসএক্সের রকেট প্রযুক্তিতে আকাশে উড়বে টেসলার ‘রোডস্টার ২’ গণহত্যাকারী দল হিসেবে আ.লীগের বিচার ও কার্যক্রম নিয়ে সংশয় গায়ে হলুদের দিনই ডেঙ্গুতে প্রাণ হারালেন বর ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ তাইজ দখল করতে চায় হুতিরা পেরুর আন্দিজে মেসির নামে নতুন উদ্ভিদ ‘সালভিয়া মেসি’র সন্ধান যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের প্রশ্ন ফাঁসে এনবিআর কর্মীসহ গ্রেপ্তার ৭ রাউজানে এক অপরাধী চক্র গ্রেপ্তারের পর মাথাচাড়া দিচ্ছে আলম-আজিজ বাহিনী

শেখ হাসিনার পরিবারের সম্পত্তি ক্রোকের নির্দেশ পুরোপুরি বাস্তবায়ন হয়নি

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৯:১৯:১৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬ ৫২ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা এবং তার পরিবারের সদস্যদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির একটি অংশ ক্রোক করা হলেও বেশিরভাগই এখনো তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) ও বিভিন্ন নিম্ন আদালত সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের সুনির্দিষ্ট নির্দেশ দিলেও অজ্ঞাত কারণে তা পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। এ বিষয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট কোনো মহল থেকে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এর আগে আইসিটি ভারতে পলাতক হাসিনার সব সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দিয়েছিল। পাশাপাশি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকার বিভিন্ন আদালত সজীব ওয়াজেদ জয়, সায়মা ওয়াজেদ পুতুল, শেখ রেহানা, রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববি এবং টিউলিপ সিদ্দিকের সম্পত্তি ক্রোকের আদেশ দেয়। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, গাজীপুরের ‘টিউলিপ টেরিটরি’ এখনো শেখ পরিবারের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এছাড়া ধানমন্ডির ‘সুধা সদন’ ক্রোকের আদেশ থাকলেও ভবনটি বর্তমানে পরিত্যক্ত ও ধ্বংসপ্রাপ্ত অবস্থায় রয়েছে, যেখানে মাদকসেবীদের আড্ডা গড়ে উঠেছে। তবে সরকার হাসিনার ব্যাংকের লকারে থাকা ৮৩২ ভরি স্বর্ণালংকার জব্দ করতে সক্ষম হয়েছে।

আইনজীবী ও শহীদ পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেছেন, এই ঢিলেমি ন্যায়বিচারের পথে অন্তরায়। আইসিটির চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, আদালতের রায় বাস্তবায়নের দায়িত্ব মূলত নির্বাহী বিভাগের। ধানমন্ডির ৫৪ নম্বর ‘সুধা সদন’ বাড়িটি মূলত হাসিনা, জয় ও পুতুলের মালিকানাধীন ছিল, যা এখন পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। এছাড়া ২০২৫ সালের ৩০ এপ্রিল আদালত হাসিনার পরিবারের পাঁচ সদস্যের বাড়ি ও জমি ক্রোকের যে আদেশ দিয়েছিল, তার মধ্যে টিউলিপের নামে গুলশানের ৭১ নম্বর রোডের ১১ নম্বর ভবনের দুই হাজার ৪৩৬ (৪৩৬) বর্গফুট আয়তনের বি/২০১ (২০১) নম্বর ফ্ল্যাটটি ক্রোকের আদেশ দেয় আদালত। রেহানার নামে থাকা রাজধানীর সেগুনবাগিচার ৭৯ নম্বর হোল্ডিংয়ের ২০৬ (২০৬) নম্বর ফ্ল্যাট, গাজীপুরের কালিয়াকৈরের সফিপুরে ৮ দশমিক ৫ শতাংশ জমি, ববির নামে থাকা নিকেতনের সাততলা বাড়ির চারতলায় কার পার্কিংসহ এক হাজার ৯২০ (৯২০) বর্গফুটের ফ্ল্যাট এবং একই আয়তনের তৃতীয় তলার আরেকটি ফ্ল্যাটও ক্রোকের আদেশ দেয় আদালত। একই এলাকার অন্য একটি ভবনের কার পার্কিংসহ দ্বিতীয়, পঞ্চম, ষষ্ঠ ও সপ্তম তলায় এক হাজার ৮০০ (৮০০) বর্গফুট করে চারটি ফ্ল্যাট ক্রোকের আদেশ দেয় আদালত। তবে এসব সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের আদেশ এখনো কার্যকর হয়নি বলে জানান দুদকের এক কর্মকর্তা। পুতুলের বারিধারার প্রায় ৫ কোটি টাকার বাড়ি, খুলনা ও গোপালগঞ্জে তাদের বিভিন্ন জমি এবং রেহানা ও তার সন্তানদের ফ্ল্যাট ও জমির মালিকানা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া এখনো থমকে আছে।

অন্যদিকে, আদালতের নির্দেশে হাসিনা ও তার পরিবারের ১২৪টি ব্যাংক হিসাব এবং বিভিন্ন ট্রাস্টের হিসাব অবরুদ্ধ করা হয়েছে। দুদকের তথ্য অনুযায়ী, দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের অভিযোগে হাসিনা, রেহানা, জয় ও পুতুলের ৩১টি ব্যাংক হিসাবের ৩৯৪ কোটি ৬০ লাখ ৭২ হাজার টাকা অবরুদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়া পুতুলের গুলশানের একটি ফ্ল্যাট এবং সূচনা ফাউন্ডেশনের ১৪টি ব্যাংক হিসাবে থাকা ৪৮ কোটি ৩৫ লাখ টাকা জব্দ করা হয়েছে। দুদকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই বিপুল অর্থ রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার বিষয়টি বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh

নিউজটি শেয়ার করুন

শেখ হাসিনার পরিবারের সম্পত্তি ক্রোকের নির্দেশ পুরোপুরি বাস্তবায়ন হয়নি

আপডেট সময় : ০৯:১৯:১৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬

মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা এবং তার পরিবারের সদস্যদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির একটি অংশ ক্রোক করা হলেও বেশিরভাগই এখনো তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) ও বিভিন্ন নিম্ন আদালত সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের সুনির্দিষ্ট নির্দেশ দিলেও অজ্ঞাত কারণে তা পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। এ বিষয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট কোনো মহল থেকে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এর আগে আইসিটি ভারতে পলাতক হাসিনার সব সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দিয়েছিল। পাশাপাশি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকার বিভিন্ন আদালত সজীব ওয়াজেদ জয়, সায়মা ওয়াজেদ পুতুল, শেখ রেহানা, রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববি এবং টিউলিপ সিদ্দিকের সম্পত্তি ক্রোকের আদেশ দেয়। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, গাজীপুরের ‘টিউলিপ টেরিটরি’ এখনো শেখ পরিবারের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এছাড়া ধানমন্ডির ‘সুধা সদন’ ক্রোকের আদেশ থাকলেও ভবনটি বর্তমানে পরিত্যক্ত ও ধ্বংসপ্রাপ্ত অবস্থায় রয়েছে, যেখানে মাদকসেবীদের আড্ডা গড়ে উঠেছে। তবে সরকার হাসিনার ব্যাংকের লকারে থাকা ৮৩২ ভরি স্বর্ণালংকার জব্দ করতে সক্ষম হয়েছে।

আইনজীবী ও শহীদ পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেছেন, এই ঢিলেমি ন্যায়বিচারের পথে অন্তরায়। আইসিটির চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, আদালতের রায় বাস্তবায়নের দায়িত্ব মূলত নির্বাহী বিভাগের। ধানমন্ডির ৫৪ নম্বর ‘সুধা সদন’ বাড়িটি মূলত হাসিনা, জয় ও পুতুলের মালিকানাধীন ছিল, যা এখন পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। এছাড়া ২০২৫ সালের ৩০ এপ্রিল আদালত হাসিনার পরিবারের পাঁচ সদস্যের বাড়ি ও জমি ক্রোকের যে আদেশ দিয়েছিল, তার মধ্যে টিউলিপের নামে গুলশানের ৭১ নম্বর রোডের ১১ নম্বর ভবনের দুই হাজার ৪৩৬ (৪৩৬) বর্গফুট আয়তনের বি/২০১ (২০১) নম্বর ফ্ল্যাটটি ক্রোকের আদেশ দেয় আদালত। রেহানার নামে থাকা রাজধানীর সেগুনবাগিচার ৭৯ নম্বর হোল্ডিংয়ের ২০৬ (২০৬) নম্বর ফ্ল্যাট, গাজীপুরের কালিয়াকৈরের সফিপুরে ৮ দশমিক ৫ শতাংশ জমি, ববির নামে থাকা নিকেতনের সাততলা বাড়ির চারতলায় কার পার্কিংসহ এক হাজার ৯২০ (৯২০) বর্গফুটের ফ্ল্যাট এবং একই আয়তনের তৃতীয় তলার আরেকটি ফ্ল্যাটও ক্রোকের আদেশ দেয় আদালত। একই এলাকার অন্য একটি ভবনের কার পার্কিংসহ দ্বিতীয়, পঞ্চম, ষষ্ঠ ও সপ্তম তলায় এক হাজার ৮০০ (৮০০) বর্গফুট করে চারটি ফ্ল্যাট ক্রোকের আদেশ দেয় আদালত। তবে এসব সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের আদেশ এখনো কার্যকর হয়নি বলে জানান দুদকের এক কর্মকর্তা। পুতুলের বারিধারার প্রায় ৫ কোটি টাকার বাড়ি, খুলনা ও গোপালগঞ্জে তাদের বিভিন্ন জমি এবং রেহানা ও তার সন্তানদের ফ্ল্যাট ও জমির মালিকানা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া এখনো থমকে আছে।

অন্যদিকে, আদালতের নির্দেশে হাসিনা ও তার পরিবারের ১২৪টি ব্যাংক হিসাব এবং বিভিন্ন ট্রাস্টের হিসাব অবরুদ্ধ করা হয়েছে। দুদকের তথ্য অনুযায়ী, দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের অভিযোগে হাসিনা, রেহানা, জয় ও পুতুলের ৩১টি ব্যাংক হিসাবের ৩৯৪ কোটি ৬০ লাখ ৭২ হাজার টাকা অবরুদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়া পুতুলের গুলশানের একটি ফ্ল্যাট এবং সূচনা ফাউন্ডেশনের ১৪টি ব্যাংক হিসাবে থাকা ৪৮ কোটি ৩৫ লাখ টাকা জব্দ করা হয়েছে। দুদকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই বিপুল অর্থ রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার বিষয়টি বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh