ঢাকা ০৮:২৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মরিনহোর কৌশলে রোমার বিপক্ষে ঘুরে দাঁড়াল রিয়াল মাদ্রিদ রমনা কালীমন্দিরে রিজভী: সব ধর্মের মানুষের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে ইস্তাম্বুলে ৮০ বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যায় নিহত ৪ দীর্ঘ বিরতির পর পর্দায় রশমি দেশাই, জানালেন কেন দূরে ছিলেন আজকের খেলার সূচি: বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ে ওয়ানডে ও ইউরোপীয় ফুটবলের লড়াই স্পেসএক্সের রকেট প্রযুক্তিতে আকাশে উড়বে টেসলার ‘রোডস্টার ২’ গণহত্যাকারী দল হিসেবে আ.লীগের বিচার ও কার্যক্রম নিয়ে সংশয় গায়ে হলুদের দিনই ডেঙ্গুতে প্রাণ হারালেন বর ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ তাইজ দখল করতে চায় হুতিরা পেরুর আন্দিজে মেসির নামে নতুন উদ্ভিদ ‘সালভিয়া মেসি’র সন্ধান

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের প্রশ্ন ফাঁসে এনবিআর কর্মীসহ গ্রেপ্তার ৭

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৫:১৬:৩১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬ ১০ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় এক সংঘবদ্ধ চক্রের সাত সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। গত তিন দিন ধরে ঢাকা ও ঢাকার বাইরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের আটক করা হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তিনজন কর্মচারী ছাড়াও বন ও পরিবেশ অধিদপ্তর এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মী রয়েছেন।

শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে এসআরবির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান এসআরবি-৩-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন। তিনি জানান, ১০ অক্টোবর সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার ২৪২টি শূন্য পদে নিয়োগের বাছাই পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল, যেখানে আবেদন করেছিলেন ৩ লাখ ১৯ হাজার চাকরিপ্রার্থী। পরীক্ষা বেলা ১১টায় শুরুর কথা থাকলেও সকাল ১০টা ৩ মিনিটে প্রশ্ন ফাঁসের সত্যতা পেয়ে পরীক্ষা স্থগিত করে কর্তৃপক্ষ। পরদিন ১১ অক্টোবর মতিঝিল থানায় মামলা করা হলে গোয়েন্দা অনুসন্ধান ও ছায়া তদন্তে নামে এসআরবি।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন এনবিআরের অফিস সহায়ক নূর মোহাম্মদ (৩০), এনবিআরের কম্পিউটার অপারেটর জাহাঙ্গীর (৩৮), এনবিআরের কম্পিউটার অপারেটর এস এম ইমদাদুল ইসলাম (৩৫), প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অফিস সহায়ক আসাদুল ইসলাম ( ৩৩), পরিবেশ অধিদপ্তরের ডেটা এন্ট্রি অপারেটর মো. রুবেল ইসলাম (৩৩) এবং চক্রের দুই সদস্য মফিজুল ইসলাম (২৩) ও মো. হাসিনুর রহমান ওরফে সুজন।

এসআরবি জানায়, ডিজিটাল যোগাযোগ বিশ্লেষণ করে প্রশ্ন সংগ্রহ ও বিতরণের একটি স্পষ্ট ধারাবাহিকতা পাওয়া গেছে। ১০ অক্টোবর পরীক্ষা শুরুর বেশ আগেই ভোর ৪টা ৪৩ মিনিটে এনবিআরের অফিস সহায়ক নূর মোহাম্মদের মুঠোফোনে অজ্ঞাত উৎস থেকে একটি অস্পষ্ট প্রশ্নপত্রের ছবি আসে। এর পৌনে দুই ঘণ্টা পর সকাল সোয়া ৬টার দিকে একই প্রতিষ্ঠানের কম্পিউটার অপারেটর জাহাঙ্গীর তাঁকে আরও একটি পরিষ্কার ছবি পাঠান। এরপর নূর মোহাম্মদ নিজে উত্তরপত্র তৈরি করে জাহাঙ্গীর ও সহকর্মী ইমদাদুল ইসলামের কাছে পাঠান। পরবর্তীতে আসাদুল, রুবেল, মফিজুল ও হাসিনুরের মাধ্যমে হোয়াটসঅ্যাপে ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে চাকরিপ্রার্থীদের কাছে উত্তরসহ প্রশ্ন ছড়িয়ে দেওয়া হয়।

জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা জানান, তাঁরা তৃতীয় শ্রেণির নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ও উত্তর ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা এবং দ্বিতীয় শ্রেণির নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকায় বিক্রি করতেন। গ্রেপ্তার চক্রের সদস্য মফিজুল নিজে এক চাকরিপ্রার্থী, যিনি আগে অন্য একটি চক্রকে ১৭ লাখ টাকা দিয়ে প্রতারিত হয়ে বেশি টাকা উপার্জনের লোভে এই অপরাধে জড়িয়ে পড়েন। তবে এনবিআরের দুই কর্মী কার কাছ থেকে মূল প্রশ্নপত্র পেয়েছিলেন, সে বিষয়ে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী জড়িত আছেন কি না, তা তদন্ত শেষে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে এসআরবি।

অভিযানে গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে ১০০ টাকার ১১৬টি ও ৫০ টাকার ৪টি স্ট্যাম্প, এক সেট প্রশ্নপত্র, বিভিন্ন পরীক্ষার ১৯ পাতা প্রবেশপত্র, বিভিন্ন শ্রেণির ২৫টি সনদ, বিভিন্ন ব্যাংকের ৪৮টি চেকের পাতা ও একটি চেকবই, ছয়টি জাতীয় পরিচয়পত্র এবং চার হাজার টাকা নগদ জব্দ করা হয়েছে। প্রথমে মতিঝিল থেকে রুবেলসহ তিনজনকে, পরে উত্তরখান থেকে ইমদাদুল ও মিরপুর ১০ থেকে আসাদুলকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের তথ্যের ভিত্তিতে সাভার থেকে নূর মোহাম্মদ এবং পরবর্তীতে সাভারের তথ্যে মোহাম্মদপুর থেকে জাহাঙ্গীরকে আটক করা হয়।

এদিকে প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনার পর গত শনিবার ক্ষুব্ধ পরীক্ষার্থীরা ঢাকার বিভিন্ন সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। এ ঘটনায় যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় অতিরিক্ত সচিবকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করলেও কমিটি এখনো প্রতিবেদন জমা দেয়নি। এরই মধ্যে স্থগিত হওয়া ওই নিয়োগ পরীক্ষাটি শুক্রবার নতুন করে নেওয়া হয়েছে।

তাঁরা তৃতীয় শ্রেণির নিয়োগ পরীক্ষায় ৮-১০ লাখ টাকা এবং দ্বিতীয় শ্রেণির নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন ১৫-২০ লাখ টাকায় ফাঁস করতেন।যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা নিয়োগের পরীক্ষার প্রশ্নপত্র এনবিআরের অফিস সহায়ক নূর মোহাম্মদ ও একই প্রতিষ্ঠানের কম্পিউটার অপারেটর জাহাঙ্গীর কার থেকে পেলেন, সে বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদে তাঁরা সদুত্তর দেননি।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

নিউজটি শেয়ার করুন

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের প্রশ্ন ফাঁসে এনবিআর কর্মীসহ গ্রেপ্তার ৭

আপডেট সময় : ০৫:১৬:৩১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় এক সংঘবদ্ধ চক্রের সাত সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। গত তিন দিন ধরে ঢাকা ও ঢাকার বাইরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের আটক করা হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তিনজন কর্মচারী ছাড়াও বন ও পরিবেশ অধিদপ্তর এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মী রয়েছেন।

শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে এসআরবির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান এসআরবি-৩-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন। তিনি জানান, ১০ অক্টোবর সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার ২৪২টি শূন্য পদে নিয়োগের বাছাই পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল, যেখানে আবেদন করেছিলেন ৩ লাখ ১৯ হাজার চাকরিপ্রার্থী। পরীক্ষা বেলা ১১টায় শুরুর কথা থাকলেও সকাল ১০টা ৩ মিনিটে প্রশ্ন ফাঁসের সত্যতা পেয়ে পরীক্ষা স্থগিত করে কর্তৃপক্ষ। পরদিন ১১ অক্টোবর মতিঝিল থানায় মামলা করা হলে গোয়েন্দা অনুসন্ধান ও ছায়া তদন্তে নামে এসআরবি।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন এনবিআরের অফিস সহায়ক নূর মোহাম্মদ (৩০), এনবিআরের কম্পিউটার অপারেটর জাহাঙ্গীর (৩৮), এনবিআরের কম্পিউটার অপারেটর এস এম ইমদাদুল ইসলাম (৩৫), প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অফিস সহায়ক আসাদুল ইসলাম ( ৩৩), পরিবেশ অধিদপ্তরের ডেটা এন্ট্রি অপারেটর মো. রুবেল ইসলাম (৩৩) এবং চক্রের দুই সদস্য মফিজুল ইসলাম (২৩) ও মো. হাসিনুর রহমান ওরফে সুজন।

এসআরবি জানায়, ডিজিটাল যোগাযোগ বিশ্লেষণ করে প্রশ্ন সংগ্রহ ও বিতরণের একটি স্পষ্ট ধারাবাহিকতা পাওয়া গেছে। ১০ অক্টোবর পরীক্ষা শুরুর বেশ আগেই ভোর ৪টা ৪৩ মিনিটে এনবিআরের অফিস সহায়ক নূর মোহাম্মদের মুঠোফোনে অজ্ঞাত উৎস থেকে একটি অস্পষ্ট প্রশ্নপত্রের ছবি আসে। এর পৌনে দুই ঘণ্টা পর সকাল সোয়া ৬টার দিকে একই প্রতিষ্ঠানের কম্পিউটার অপারেটর জাহাঙ্গীর তাঁকে আরও একটি পরিষ্কার ছবি পাঠান। এরপর নূর মোহাম্মদ নিজে উত্তরপত্র তৈরি করে জাহাঙ্গীর ও সহকর্মী ইমদাদুল ইসলামের কাছে পাঠান। পরবর্তীতে আসাদুল, রুবেল, মফিজুল ও হাসিনুরের মাধ্যমে হোয়াটসঅ্যাপে ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে চাকরিপ্রার্থীদের কাছে উত্তরসহ প্রশ্ন ছড়িয়ে দেওয়া হয়।

জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা জানান, তাঁরা তৃতীয় শ্রেণির নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ও উত্তর ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা এবং দ্বিতীয় শ্রেণির নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকায় বিক্রি করতেন। গ্রেপ্তার চক্রের সদস্য মফিজুল নিজে এক চাকরিপ্রার্থী, যিনি আগে অন্য একটি চক্রকে ১৭ লাখ টাকা দিয়ে প্রতারিত হয়ে বেশি টাকা উপার্জনের লোভে এই অপরাধে জড়িয়ে পড়েন। তবে এনবিআরের দুই কর্মী কার কাছ থেকে মূল প্রশ্নপত্র পেয়েছিলেন, সে বিষয়ে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী জড়িত আছেন কি না, তা তদন্ত শেষে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে এসআরবি।

অভিযানে গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে ১০০ টাকার ১১৬টি ও ৫০ টাকার ৪টি স্ট্যাম্প, এক সেট প্রশ্নপত্র, বিভিন্ন পরীক্ষার ১৯ পাতা প্রবেশপত্র, বিভিন্ন শ্রেণির ২৫টি সনদ, বিভিন্ন ব্যাংকের ৪৮টি চেকের পাতা ও একটি চেকবই, ছয়টি জাতীয় পরিচয়পত্র এবং চার হাজার টাকা নগদ জব্দ করা হয়েছে। প্রথমে মতিঝিল থেকে রুবেলসহ তিনজনকে, পরে উত্তরখান থেকে ইমদাদুল ও মিরপুর ১০ থেকে আসাদুলকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের তথ্যের ভিত্তিতে সাভার থেকে নূর মোহাম্মদ এবং পরবর্তীতে সাভারের তথ্যে মোহাম্মদপুর থেকে জাহাঙ্গীরকে আটক করা হয়।

এদিকে প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনার পর গত শনিবার ক্ষুব্ধ পরীক্ষার্থীরা ঢাকার বিভিন্ন সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। এ ঘটনায় যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় অতিরিক্ত সচিবকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করলেও কমিটি এখনো প্রতিবেদন জমা দেয়নি। এরই মধ্যে স্থগিত হওয়া ওই নিয়োগ পরীক্ষাটি শুক্রবার নতুন করে নেওয়া হয়েছে।

তাঁরা তৃতীয় শ্রেণির নিয়োগ পরীক্ষায় ৮-১০ লাখ টাকা এবং দ্বিতীয় শ্রেণির নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন ১৫-২০ লাখ টাকায় ফাঁস করতেন।যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা নিয়োগের পরীক্ষার প্রশ্নপত্র এনবিআরের অফিস সহায়ক নূর মোহাম্মদ ও একই প্রতিষ্ঠানের কম্পিউটার অপারেটর জাহাঙ্গীর কার থেকে পেলেন, সে বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদে তাঁরা সদুত্তর দেননি।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo