ঢাকা ০৮:২৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
খাঁটি মধু নাকি চিনির সিরাপ? চেনার উপায় কী? মরিনহোর কৌশলে রোমার বিপক্ষে ঘুরে দাঁড়াল রিয়াল মাদ্রিদ রমনা কালীমন্দিরে রিজভী: সব ধর্মের মানুষের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে ইস্তাম্বুলে ৮০ বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যায় নিহত ৪ দীর্ঘ বিরতির পর পর্দায় রশমি দেশাই, জানালেন কেন দূরে ছিলেন আজকের খেলার সূচি: বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ে ওয়ানডে ও ইউরোপীয় ফুটবলের লড়াই স্পেসএক্সের রকেট প্রযুক্তিতে আকাশে উড়বে টেসলার ‘রোডস্টার ২’ গণহত্যাকারী দল হিসেবে আ.লীগের বিচার ও কার্যক্রম নিয়ে সংশয় গায়ে হলুদের দিনই ডেঙ্গুতে প্রাণ হারালেন বর ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ তাইজ দখল করতে চায় হুতিরা

সড়ক হলেও বিদ্যুৎ, চিকিৎসা ও মাধ্যমিক শিক্ষাবঞ্চিত আলীকদমের কুরুকপাতা

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৩:২৬:৪৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬ ১৮ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার কুরুকপাতা ইউনিয়নের কুরুকপাতা বাজার থেকে পোয়ামুহুরী পর্যন্ত সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি হলেও দুর্গম পাহাড়িদের জীবনে ভোগান্তি কমেনি। আধুনিক সুবিধার ছোঁয়া থেকে বঞ্চিত স্থানীয়রা সড়ক শেষ হওয়া এলাকা থেকেই প্রতিনিয়ত নতুন সংগ্রামের মুখে পড়ছেন।

সন্ধ্যা নামলেই বিদ্যুৎহীন বিস্তীর্ণ এলাকা অন্ধকারে ডুবে যায়। ফলে শিক্ষার্থীদের কুপির আলোর ওপর ভরসা করতে হচ্ছে। জরুরি মুহূর্তে কোনো রোগী অসুস্থ হয়ে পড়লে পাহাড়ি পথ অতিক্রম করে নিয়ে যেতে হয় উপজেলা সদরে। তাছাড়া পরিবহনের বাড়তি খরচের কারণে পাহাড়ে উৎপাদিত কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না জুমচাষিরা। এলাকায় পর্যাপ্ত মোবাইল নেটওয়ার্ক, কোনো মাধ্যমিক বিদ্যালয়, পূর্ণাঙ্গ কমিউনিটি ক্লিনিক বা ইউনিয়ন পরিষদের নিজস্ব ভবনও নেই।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ২০২২ সালের জনশুমারির তথ্যমতে, কুরুকপাতা ইউনিয়নের মোট জনসংখ্যা ১১ হাজার ২১৬ জন। পাহাড়ের ১৪২টি পাড়ায় প্রধানত ম্রো, ত্রিপুরা ও মারমাসহ বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষের বসবাস। স্থানীয় খামলাই ম্রো জানান, সড়ক নির্মাণ হলেও বিদ্যুৎ ও নেটওয়ার্ক সংযোগ পৌঁছায়নি। হাতে গোনা কয়েকটি ঘরে সৌরবিদ্যুৎ থাকলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় নগণ্য, যা তাদের কেরোসিনের বাতি ব্যবহারে বাধ্য করছে।

স্বাস্থ্যসেবা ও নাগরিক সেবার চরম দুর্দশার কথা তুলে ধরেন স্থানীয় বাসিন্দা মেনদন ম্রো এবং পোয়ামুহুরীর অঞ্জনা ত্রিপুরা। তারা জানান, রাতে কেউ অসুস্থ হলে জীবন বাঁচানো নিয়ে গভীর আতঙ্ক তৈরি হয়। ডাক্তারের কাছে যেতে কিংবা প্রয়োজনীয় সাধারণ পরীক্ষা করাতেই পুরো দিন পার হয়ে যায়। এমনকি জন্মনিবন্ধনের মতো সাধারণ নাগরিক সেবা পেতে যাতায়াত বাবদ প্রতিটি পরিবারকে গুণতে হয় এক হাজার টাকারও বেশি।

ইউনিয়নে কোনো মাধ্যমিক বিদ্যালয় না থাকায় প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করেই কোমলমতি শিশুদের পড়াশোনার জন্য দূরে যেতে হচ্ছে। অন্যদিকে মোবাইল নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেটের ঘাটতি শিক্ষা থেকে শুরু করে সব ধরনের সরকারি সেবা প্রাপ্তিকে বাধাগ্রস্ত করছে। ইউনিয়ন পরিষদের নিজস্ব ভবন না থাকার বিষয়ে কুরুকপাতা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ক্রাতপুং ম্রো জানান, নেটওয়ার্ক ও অবকাঠামোর অভাবে আলীকদম সদর এলাকায় কক্ষ ভাড়া নিয়ে পরিষদের দাপ্তরিক কাজকর্ম চালাতে হচ্ছে। ফলে সাধারণ মানুষ সময়মতো কাঙ্ক্ষিত সেবা পান না।

এলাকাটিতে যেকোনো স্থায়ী উন্নয়নমূলক কাজের প্রধান অন্তরায় জমি ও বনাঞ্চলসংক্রান্ত আইনি জটিলতা। ১৮৮০ সালে মাতামুহুরী নদীর অববাহিকার বিশাল এলাকাকে ‘মাতামুহুরী রিজার্ভ ফরেস্ট’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়। পরবর্তীকালে ২০১৪ সালে কুরুকপাতা ইউনিয়ন পরিষদের গেজেট প্রকাশ হলেও সংরক্ষিত বনাঞ্চলের সীমানা এবং আইনি বাধ্যবাধকতার কারণে স্থায়ী কোনো ভবন বা অবকাঠামো গড়ে তোলা সম্ভব হয়নি।

আলীকদম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনজুর আলম বলেন, "রিজার্ভ ফরেস্টের কারণে বন বিভাগের আপত্তিতে কুরুকপাতা ইউনিয়ন পরিষদের ভবন নির্মাণে আইনি জটিলতা রয়েছে। এ বিষয়ে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অনাপত্তি সনদ (NOC) নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।" পাশাপাশি এলাকায় মাধ্যমিক বিদ্যালয়, পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যকেন্দ্র প্রতিষ্ঠা, বিদ্যুৎ সংযোগ ও মোবাইল নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে বার্তা পাঠানো হয়েছে।

প্রকাশ : ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৩: ০৩আপডেট : ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৩: ১৩

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh

নিউজটি শেয়ার করুন

সড়ক হলেও বিদ্যুৎ, চিকিৎসা ও মাধ্যমিক শিক্ষাবঞ্চিত আলীকদমের কুরুকপাতা

আপডেট সময় : ০৩:২৬:৪৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার কুরুকপাতা ইউনিয়নের কুরুকপাতা বাজার থেকে পোয়ামুহুরী পর্যন্ত সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি হলেও দুর্গম পাহাড়িদের জীবনে ভোগান্তি কমেনি। আধুনিক সুবিধার ছোঁয়া থেকে বঞ্চিত স্থানীয়রা সড়ক শেষ হওয়া এলাকা থেকেই প্রতিনিয়ত নতুন সংগ্রামের মুখে পড়ছেন।

সন্ধ্যা নামলেই বিদ্যুৎহীন বিস্তীর্ণ এলাকা অন্ধকারে ডুবে যায়। ফলে শিক্ষার্থীদের কুপির আলোর ওপর ভরসা করতে হচ্ছে। জরুরি মুহূর্তে কোনো রোগী অসুস্থ হয়ে পড়লে পাহাড়ি পথ অতিক্রম করে নিয়ে যেতে হয় উপজেলা সদরে। তাছাড়া পরিবহনের বাড়তি খরচের কারণে পাহাড়ে উৎপাদিত কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না জুমচাষিরা। এলাকায় পর্যাপ্ত মোবাইল নেটওয়ার্ক, কোনো মাধ্যমিক বিদ্যালয়, পূর্ণাঙ্গ কমিউনিটি ক্লিনিক বা ইউনিয়ন পরিষদের নিজস্ব ভবনও নেই।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ২০২২ সালের জনশুমারির তথ্যমতে, কুরুকপাতা ইউনিয়নের মোট জনসংখ্যা ১১ হাজার ২১৬ জন। পাহাড়ের ১৪২টি পাড়ায় প্রধানত ম্রো, ত্রিপুরা ও মারমাসহ বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষের বসবাস। স্থানীয় খামলাই ম্রো জানান, সড়ক নির্মাণ হলেও বিদ্যুৎ ও নেটওয়ার্ক সংযোগ পৌঁছায়নি। হাতে গোনা কয়েকটি ঘরে সৌরবিদ্যুৎ থাকলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় নগণ্য, যা তাদের কেরোসিনের বাতি ব্যবহারে বাধ্য করছে।

স্বাস্থ্যসেবা ও নাগরিক সেবার চরম দুর্দশার কথা তুলে ধরেন স্থানীয় বাসিন্দা মেনদন ম্রো এবং পোয়ামুহুরীর অঞ্জনা ত্রিপুরা। তারা জানান, রাতে কেউ অসুস্থ হলে জীবন বাঁচানো নিয়ে গভীর আতঙ্ক তৈরি হয়। ডাক্তারের কাছে যেতে কিংবা প্রয়োজনীয় সাধারণ পরীক্ষা করাতেই পুরো দিন পার হয়ে যায়। এমনকি জন্মনিবন্ধনের মতো সাধারণ নাগরিক সেবা পেতে যাতায়াত বাবদ প্রতিটি পরিবারকে গুণতে হয় এক হাজার টাকারও বেশি।

ইউনিয়নে কোনো মাধ্যমিক বিদ্যালয় না থাকায় প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করেই কোমলমতি শিশুদের পড়াশোনার জন্য দূরে যেতে হচ্ছে। অন্যদিকে মোবাইল নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেটের ঘাটতি শিক্ষা থেকে শুরু করে সব ধরনের সরকারি সেবা প্রাপ্তিকে বাধাগ্রস্ত করছে। ইউনিয়ন পরিষদের নিজস্ব ভবন না থাকার বিষয়ে কুরুকপাতা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ক্রাতপুং ম্রো জানান, নেটওয়ার্ক ও অবকাঠামোর অভাবে আলীকদম সদর এলাকায় কক্ষ ভাড়া নিয়ে পরিষদের দাপ্তরিক কাজকর্ম চালাতে হচ্ছে। ফলে সাধারণ মানুষ সময়মতো কাঙ্ক্ষিত সেবা পান না।

এলাকাটিতে যেকোনো স্থায়ী উন্নয়নমূলক কাজের প্রধান অন্তরায় জমি ও বনাঞ্চলসংক্রান্ত আইনি জটিলতা। ১৮৮০ সালে মাতামুহুরী নদীর অববাহিকার বিশাল এলাকাকে ‘মাতামুহুরী রিজার্ভ ফরেস্ট’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়। পরবর্তীকালে ২০১৪ সালে কুরুকপাতা ইউনিয়ন পরিষদের গেজেট প্রকাশ হলেও সংরক্ষিত বনাঞ্চলের সীমানা এবং আইনি বাধ্যবাধকতার কারণে স্থায়ী কোনো ভবন বা অবকাঠামো গড়ে তোলা সম্ভব হয়নি।

আলীকদম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনজুর আলম বলেন, "রিজার্ভ ফরেস্টের কারণে বন বিভাগের আপত্তিতে কুরুকপাতা ইউনিয়ন পরিষদের ভবন নির্মাণে আইনি জটিলতা রয়েছে। এ বিষয়ে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অনাপত্তি সনদ (NOC) নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।" পাশাপাশি এলাকায় মাধ্যমিক বিদ্যালয়, পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যকেন্দ্র প্রতিষ্ঠা, বিদ্যুৎ সংযোগ ও মোবাইল নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে বার্তা পাঠানো হয়েছে।

প্রকাশ : ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৩: ০৩আপডেট : ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৩: ১৩

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh