হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা বন্ধে ইরানের প্রতিশ্রুতি চায় যুক্তরাষ্ট্র
- আপডেট সময় : ০১:১৯:১৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে

বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখা এবং বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা বন্ধে ইরানের কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার চাইছে যুক্তরাষ্ট্র। ওমানে শনিবার (১১ জুলাই) অনুষ্ঠিতব্য দ্বিপাক্ষিক আলোচনার টেবিলে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই দাবি জানানো হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা হ্রাস ও আন্তর্জাতিক নৌপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই মার্কিন প্রশাসন এই চাপ দিচ্ছে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে বিভিন্ন গণমাধ্যম জানিয়েছে, তেহরান অনানুষ্ঠানিকভাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের উপদেষ্টাদের কাছে স্বীকার করেছে যে বাণিজ্যিক জাহাজে গুলি চালানো একটি ভুল ছিল। হামলার জন্য ইরানিরা নিজেদের একটি দলছুট গোষ্ঠীকে দায়ী করেছে বলে বিবিসি জানিয়েছে। মার্কিন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা সিবিএস নিউজকে বলেছেন, কিছু কঠোরপন্থি মানুষ ভুল পথে গিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজে গুলি চালিয়ে আলোচনার পরিবেশ নষ্ট করার চেষ্টা করছে। একজন কর্মকর্তার মতে, ইরানিরা আলোচনায় ফিরে এসে জানিয়েছে যে তারা ভুল করেছে এবং তারা আলোচনা চালিয়ে যেতে আগ্রহী।
মার্কিন কর্মকর্তারা শুক্রবার এক ব্রিফিংয়ে জানান, আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ইরানের নেতৃত্বকে বার্তা পাঠানো হয়েছে। ওই বার্তায় হরমুজ প্রণালি খোলা রাখা এবং বাণিজ্যিক জাহাজে গুলি বন্ধের বিষয়ে ইরানের কাছে একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি চাওয়া হয়েছে। একজন কর্মকর্তা সতর্ক করে বলেছেন, ইরান এই বিবৃতি না দিলে তাদের জন্য পরিস্থিতি ভালো হবে না। হোয়াইট হাউজ চাইছে ইরান প্রকাশ্যে স্বীকার করুক যে জাহাজে গুলি চালানো একটি ভুল ছিল।
ওমানে অনুষ্ঠিতব্য এই বৈঠকে মার্কিন প্রতিনিধি দলে থাকবেন ভাইস-প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনার। উত্তেজনা প্রশমনে কাতার ইতিমধ্যে একটি প্রতিনিধি দল ইরান পাঠিয়েছে। ট্রাম্প শুক্রবার ট্রুথ সোশ্যালে দাবি করেছেন, ইরান আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করেছে, যার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র সম্মত হয়েছে। তবে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে পূর্বের যুদ্ধবিরতি শেষ।
গত জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান ১৪ দফার একটি সমঝোতা চুক্তি করেছিল, যার অংশ হিসেবে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথা ছিল। ওমানের জলসীমা ব্যবহার করার সময় তিনটি জাহাজে হামলার ঘটনার পর থেকে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। ইরান পূর্বে ‘পারস্য উপসাগর প্রণালী কর্তৃপক্ষ’ নামে একটি সংস্থা গঠনের মাধ্যমে প্রণালির ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিল। ফার্স নিউজ জানিয়েছে, নতুন চুক্তির আওতায় ইরান ও ওমান যৌথভাবে প্রণালি পরিচালনা করবে এবং জাহাজ চলাচলের জন্য সেবা ফি নির্ধারণ করতে পারে।



























